শিরোনাম :
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলা, নিহত দুই নাবিক

eSIM মাইগ্রেশন ফি: গ্রাহক ভোগান্তির নতুন নাম

প্রযুক্তিগতভাবে eSIM আসার কথা ছিল ফিজিক্যাল সিম কার্ডের ঝামেলা দূর করতে। কিন্তু বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরদের ফি কাঠামো নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেকেই এই প্রযুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
সাধারণত ফিজিক্যাল সিম কার্ড তৈরিতে যেহেতু প্লাস্টিক ও উৎপাদন খরচ জড়িত, সেখানে একটি নির্দিষ্ট ফি যৌক্তিক মনে হতে পারে। কিন্তু eSIM মূলত একটি ডিজিটাল QR কোড মাত্র—এতে বাড়তি উৎপাদন খরচ নেই বললেই চলে। তা সত্ত্বেও গ্রামীণফোন, রবি ও এয়ারটেল eSIM মাইগ্রেশনের জন্য প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা চার্জ করছে। আর সবচেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে বাংলালিংকের পক্ষ থেকে—কোম্পানিটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী এই ফি ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।
গ্রাহকদের অভিযোগ আরও গভীর হয় স্ক্যান-সীমা নিয়ে। রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক গ্রাহকদের অসীমিতবার QR কোড স্ক্যান করার সুযোগ দিলেও, গ্রামীণফোন এক্ষেত্রে মাত্র তিনবার স্ক্যানের অনুমতি দেয়। এরপর ফের প্রায় ২৫০ টাকা খরচ করে সিম রিপ্লেস করতে হয় গ্রাহকদের। এই নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ব্যবহারকারীরা—নিজের সিম ব্যবহারে কেন বারবার অর্থ গুনতে হবে।
গ্রাহকদের মতে, গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মুনাফামুখী নীতি অনুসরণ করছে। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর ভূমিকা নিয়েও রয়েছে সমালোচনা। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকা সত্ত্বেও গ্রাহক-স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
তবে সমালোচনার মধ্যেও eSIM-এর সুবিধা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষত বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভ্রমণকেন্দ্রিক eSIM সেবার কারণে বিদেশে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।
গ্রাহক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অপারেটরদের উচিত অ্যাপের মাধ্যমেই সরাসরি eSIM জেনারেট করার ব্যবস্থা চালু করা এবং মাইগ্রেশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা। বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে সিম কার্ডের ধারণাটিই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। ওয়াইফাই সংযোগের মতো ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সরাসরি মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সিম কার্ডের প্রয়োজনীয়তা একেবারেই ফুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেটা কি-ওয়ার্ডস: eSIM বাংলাদেশ, eSIM মাইগ্রেশন ফি, গ্রামীণফোন eSIM, রবি এয়ারটেল বাংলালিংক eSIM, বিটিআরসি, মোবাইল সিম প্রযুক্তি
মেটা ডেসক্রিপশন: বাংলাদেশে eSIM মাইগ্রেশন ফি নিয়ে গ্রাহক অসন্তোষ বাড়ছে। গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংকের ভিন্ন ভিন্ন চার্জ ও স্ক্যান-সীমা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলা, নিহত দুই নাবিক

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

eSIM মাইগ্রেশন ফি: গ্রাহক ভোগান্তির নতুন নাম

আপডেট সময় ০১:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

প্রযুক্তিগতভাবে eSIM আসার কথা ছিল ফিজিক্যাল সিম কার্ডের ঝামেলা দূর করতে। কিন্তু বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরদের ফি কাঠামো নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেকেই এই প্রযুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
সাধারণত ফিজিক্যাল সিম কার্ড তৈরিতে যেহেতু প্লাস্টিক ও উৎপাদন খরচ জড়িত, সেখানে একটি নির্দিষ্ট ফি যৌক্তিক মনে হতে পারে। কিন্তু eSIM মূলত একটি ডিজিটাল QR কোড মাত্র—এতে বাড়তি উৎপাদন খরচ নেই বললেই চলে। তা সত্ত্বেও গ্রামীণফোন, রবি ও এয়ারটেল eSIM মাইগ্রেশনের জন্য প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা চার্জ করছে। আর সবচেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে বাংলালিংকের পক্ষ থেকে—কোম্পানিটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী এই ফি ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।
গ্রাহকদের অভিযোগ আরও গভীর হয় স্ক্যান-সীমা নিয়ে। রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক গ্রাহকদের অসীমিতবার QR কোড স্ক্যান করার সুযোগ দিলেও, গ্রামীণফোন এক্ষেত্রে মাত্র তিনবার স্ক্যানের অনুমতি দেয়। এরপর ফের প্রায় ২৫০ টাকা খরচ করে সিম রিপ্লেস করতে হয় গ্রাহকদের। এই নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ব্যবহারকারীরা—নিজের সিম ব্যবহারে কেন বারবার অর্থ গুনতে হবে।
গ্রাহকদের মতে, গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মুনাফামুখী নীতি অনুসরণ করছে। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর ভূমিকা নিয়েও রয়েছে সমালোচনা। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকা সত্ত্বেও গ্রাহক-স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
তবে সমালোচনার মধ্যেও eSIM-এর সুবিধা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষত বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভ্রমণকেন্দ্রিক eSIM সেবার কারণে বিদেশে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।
গ্রাহক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অপারেটরদের উচিত অ্যাপের মাধ্যমেই সরাসরি eSIM জেনারেট করার ব্যবস্থা চালু করা এবং মাইগ্রেশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা। বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে সিম কার্ডের ধারণাটিই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। ওয়াইফাই সংযোগের মতো ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সরাসরি মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সিম কার্ডের প্রয়োজনীয়তা একেবারেই ফুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেটা কি-ওয়ার্ডস: eSIM বাংলাদেশ, eSIM মাইগ্রেশন ফি, গ্রামীণফোন eSIM, রবি এয়ারটেল বাংলালিংক eSIM, বিটিআরসি, মোবাইল সিম প্রযুক্তি
মেটা ডেসক্রিপশন: বাংলাদেশে eSIM মাইগ্রেশন ফি নিয়ে গ্রাহক অসন্তোষ বাড়ছে। গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংকের ভিন্ন ভিন্ন চার্জ ও স্ক্যান-সীমা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

Share this news as a Photo Card