শিরোনাম :
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলা, নিহত দুই নাবিক

ব্যায়াম-স্বাস্থ্যকর খাবারেও রেহাই নেই, ঘুম কম হলেই ঝুঁকিতে হৃদযন্ত্র

সকালে হাঁটতে বের হওয়া, তেল-মশলা এড়িয়ে পাতে রাখা সবুজ শাকসবজি— নিয়ম মেনে সবই করছেন। কিন্তু তারপরও কি নিশ্চিত থাকা যায়, হৃদযন্ত্র সুস্থ আছে? চিকিৎসকদের মতে, উত্তরটা সব সময় হ্যাঁ নাও হতে পারে। কারণ, দিনভর যতই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলা হোক না কেন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে হৃৎপিণ্ড। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছেন ভারতের একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশুল কুমার জৈন। তাঁর ভাষায়, ঘুমের ঘাটতিকে অনেকেই সাধারণ বিষয় বলে এড়িয়ে যান, অথচ এটিই দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রক্তচাপে হেরফের
ঘুমের সময় সাধারণত হৃৎপিণ্ড বিশ্রাম নেয়। এই সময় রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে দশ থেকে বিশ শতাংশ কমে যায়, যাতে রক্তনালি শিথিল হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু ঘুম বারবার ভেঙে গেলে বা অসম্পূর্ণ থাকলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ যতটা কমা প্রয়োজন, ততটা কমে না। প্রতি রাতে এমনটা চলতে থাকলে হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়াই স্বাভাবিক।
মানসিক চাপের প্রভাব
নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এই হরমোনের আধিক্য হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
রক্তনালিতে প্রদাহের শঙ্কা
টানা কয়েক দিন ঘুম ঠিকমতো না হলে শরীরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই প্রদাহ রক্তনালির ক্ষতি করে এবং ধমনীতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এতে ধমনী সরু হয়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
বিপাকীয় স্বাস্থ্যেও আঘাত
ঘুমের ঘাটতি ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে হৃদযন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর। এ ছাড়া হজমপ্রক্রিয়া ও হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম যতটা জরুরি, ঠিক ততটাই প্রয়োজন প্রতি রাতে টানা ছয় থেকে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম। বাংলাদেশেও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে একই পরামর্শ দিয়ে আসছেন— জীবনযাপনে শৃঙ্খলা আনতে হলে খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার পাশাপাশি ঘুমের মানকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ভাঙা ভাঙা ঘুম কিংবা রাতে মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা বিশ্রাম— দুটোই দীর্ঘমেয়াদে নিঃশব্দে চাপ ফেলতে পারে হৃদযন্ত্রের ওপর। তাই শুধু খাদ্যতালিকা আর ব্যায়ামের রুটিনেই সীমাবদ্ধ না থেকে, ঘুমের সময়সূচি ঠিক রাখাকেও দৈনন্দিন স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলা, নিহত দুই নাবিক

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ব্যায়াম-স্বাস্থ্যকর খাবারেও রেহাই নেই, ঘুম কম হলেই ঝুঁকিতে হৃদযন্ত্র

আপডেট সময় ০২:০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সকালে হাঁটতে বের হওয়া, তেল-মশলা এড়িয়ে পাতে রাখা সবুজ শাকসবজি— নিয়ম মেনে সবই করছেন। কিন্তু তারপরও কি নিশ্চিত থাকা যায়, হৃদযন্ত্র সুস্থ আছে? চিকিৎসকদের মতে, উত্তরটা সব সময় হ্যাঁ নাও হতে পারে। কারণ, দিনভর যতই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলা হোক না কেন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে হৃৎপিণ্ড। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছেন ভারতের একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশুল কুমার জৈন। তাঁর ভাষায়, ঘুমের ঘাটতিকে অনেকেই সাধারণ বিষয় বলে এড়িয়ে যান, অথচ এটিই দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রক্তচাপে হেরফের
ঘুমের সময় সাধারণত হৃৎপিণ্ড বিশ্রাম নেয়। এই সময় রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে দশ থেকে বিশ শতাংশ কমে যায়, যাতে রক্তনালি শিথিল হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু ঘুম বারবার ভেঙে গেলে বা অসম্পূর্ণ থাকলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ যতটা কমা প্রয়োজন, ততটা কমে না। প্রতি রাতে এমনটা চলতে থাকলে হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়াই স্বাভাবিক।
মানসিক চাপের প্রভাব
নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এই হরমোনের আধিক্য হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
রক্তনালিতে প্রদাহের শঙ্কা
টানা কয়েক দিন ঘুম ঠিকমতো না হলে শরীরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই প্রদাহ রক্তনালির ক্ষতি করে এবং ধমনীতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এতে ধমনী সরু হয়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
বিপাকীয় স্বাস্থ্যেও আঘাত
ঘুমের ঘাটতি ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে হৃদযন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর। এ ছাড়া হজমপ্রক্রিয়া ও হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম যতটা জরুরি, ঠিক ততটাই প্রয়োজন প্রতি রাতে টানা ছয় থেকে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম। বাংলাদেশেও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে একই পরামর্শ দিয়ে আসছেন— জীবনযাপনে শৃঙ্খলা আনতে হলে খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার পাশাপাশি ঘুমের মানকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ভাঙা ভাঙা ঘুম কিংবা রাতে মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা বিশ্রাম— দুটোই দীর্ঘমেয়াদে নিঃশব্দে চাপ ফেলতে পারে হৃদযন্ত্রের ওপর। তাই শুধু খাদ্যতালিকা আর ব্যায়ামের রুটিনেই সীমাবদ্ধ না থেকে, ঘুমের সময়সূচি ঠিক রাখাকেও দৈনন্দিন স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card