শিরোনাম :

সাপ কামড়ালে প্রথম ৫ মিনিটে যে ভুলগুলো বিপদ বাড়াতে পারে

বর্ষা কিংবা শরৎ—বৃষ্টিভেজা সময়ে সাপের আনাগোনা বাড়তে পারে। গ্রামাঞ্চলের ঝোপঝাড়, খেতের আল, পুকুরপাড় কিংবা বাড়ির আশপাশে হঠাৎ সাপের দেখা মেলে। সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটলে প্রথম কয়েক মিনিটেই পরিবারের সদস্যরা কী করবেন, সেটি জানা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাপ কামড়ানোর পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হলো আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া। কোন সাপ বিষধর আর কোনটি বিষহীন, শুধু কামড়ের দাগ দেখে তা নিশ্চিতভাবে বোঝা সব সময় সম্ভব নয়। তাই সাপের কামড়কে সম্ভাব্য বিষধর কামড় হিসেবে ধরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
সাপের বিষ শরীরে বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু বিষ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা বা পক্ষাঘাত তৈরি করতে পারে। আবার কিছু বিষ রক্তক্ষরণ, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা কিংবা কামড়ের জায়গায় টিস্যু ক্ষতির কারণ হতে পারে।
যে ভুলগুলো করবেন না
ক্ষতস্থানে শক্ত করে বাঁধবেন না। দড়ি, কাপড়, তার বা অন্য কিছু দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ক্ষত কেটে বিষ বের করার চেষ্টা করবেন না। একইভাবে মুখ দিয়ে ক্ষত চুষে বিষ বের করার প্রচলিত পদ্ধতিও কার্যকর নয়। বরং এতে সংক্রমণ ও অতিরিক্ত ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছানো দরকার, যেখানে প্রয়োজন হলে অ্যান্টিভেনমসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে।
তাহলে কী করবেন?
প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখুন এবং অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া যতটা সম্ভব কমিয়ে দিন। কামড়ের জায়গাটি স্থির রাখার চেষ্টা করুন। হাতে বা পায়ে আংটি, চুড়ি, ঘড়ি, জুতা কিংবা আঁটসাঁট পোশাক থাকলে দ্রুত খুলে দিন—ফুলে গেলে এগুলো সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সম্ভব হলে নিরাপদ দূরত্ব থেকে সাপটির চেহারা বা রং মনে রাখুন। তবে সাপ ধরতে, মারতে বা ছবি তুলতে গিয়ে নিজের ঝুঁকি বাড়াবেন না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঘরোয়া চিকিৎসা নয়, দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো। বাংলাদেশেও সাপের কামড়ের পর সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আতঙ্ক নয়, দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপই হওয়া উচিত প্রথম প্রতিক্রিয়া।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৬০ জন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মেসির গোল-অ্যাসিস্টে মহাকাব্যের সমাপ্তি

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সাপ কামড়ালে প্রথম ৫ মিনিটে যে ভুলগুলো বিপদ বাড়াতে পারে

আপডেট সময় ০২:৫২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্ষা কিংবা শরৎ—বৃষ্টিভেজা সময়ে সাপের আনাগোনা বাড়তে পারে। গ্রামাঞ্চলের ঝোপঝাড়, খেতের আল, পুকুরপাড় কিংবা বাড়ির আশপাশে হঠাৎ সাপের দেখা মেলে। সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটলে প্রথম কয়েক মিনিটেই পরিবারের সদস্যরা কী করবেন, সেটি জানা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাপ কামড়ানোর পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হলো আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া। কোন সাপ বিষধর আর কোনটি বিষহীন, শুধু কামড়ের দাগ দেখে তা নিশ্চিতভাবে বোঝা সব সময় সম্ভব নয়। তাই সাপের কামড়কে সম্ভাব্য বিষধর কামড় হিসেবে ধরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
সাপের বিষ শরীরে বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু বিষ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা বা পক্ষাঘাত তৈরি করতে পারে। আবার কিছু বিষ রক্তক্ষরণ, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা কিংবা কামড়ের জায়গায় টিস্যু ক্ষতির কারণ হতে পারে।
যে ভুলগুলো করবেন না
ক্ষতস্থানে শক্ত করে বাঁধবেন না। দড়ি, কাপড়, তার বা অন্য কিছু দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ক্ষত কেটে বিষ বের করার চেষ্টা করবেন না। একইভাবে মুখ দিয়ে ক্ষত চুষে বিষ বের করার প্রচলিত পদ্ধতিও কার্যকর নয়। বরং এতে সংক্রমণ ও অতিরিক্ত ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছানো দরকার, যেখানে প্রয়োজন হলে অ্যান্টিভেনমসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে।
তাহলে কী করবেন?
প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখুন এবং অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া যতটা সম্ভব কমিয়ে দিন। কামড়ের জায়গাটি স্থির রাখার চেষ্টা করুন। হাতে বা পায়ে আংটি, চুড়ি, ঘড়ি, জুতা কিংবা আঁটসাঁট পোশাক থাকলে দ্রুত খুলে দিন—ফুলে গেলে এগুলো সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সম্ভব হলে নিরাপদ দূরত্ব থেকে সাপটির চেহারা বা রং মনে রাখুন। তবে সাপ ধরতে, মারতে বা ছবি তুলতে গিয়ে নিজের ঝুঁকি বাড়াবেন না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঘরোয়া চিকিৎসা নয়, দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো। বাংলাদেশেও সাপের কামড়ের পর সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আতঙ্ক নয়, দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপই হওয়া উচিত প্রথম প্রতিক্রিয়া।

Share this news as a Photo Card