শিরোনাম :
চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

কিয়েভের উপকণ্ঠে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ৩৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পশ্চিম উপকণ্ঠে রাশিয়ার একটি ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটেছে, যাতে অন্তত ৩৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। শনিবার স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তৈমুর তকাচেনকো জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৩৭ জন, তবে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি অব্যাহত থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও রয়েছেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে বাড়তি শোকের সঞ্চার করেছে।
শুক্রবার রাতে কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মিলায় একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ লক্ষ্য করে ড্রোনটি আঘাত হানে। স্থানীয় সময় রাত আটটা দশ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় বিকেল পাঁচটা দশ মিনিট) হামলার পরপরই স্থাপনাটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং একের পর এক বিস্ফোরণ শুরু হয়। শহরের আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়, যা পরদিন শনিবার পর্যন্ত থিতিয়ে পড়েনি বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। উদ্ধারকর্মীরা সারারাত ধরে আগুন নেভানো ও ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে গেছেন।
ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষ ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগে একটি তদন্ত শুরু করেছে। প্রসিকিউটরদের ধারণা, লক্ষ্যবস্তু হওয়া গুদামে বিস্ফোরক জাতীয় সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছিল, যদিও প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা মূলত খতিয়ে দেখবেন, ওই স্থানে বিস্ফোরক উপকরণ মজুত রাখার বৈধ অনুমতি প্রতিষ্ঠানটির কাছে ছিল কি না, আর থাকলেও নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না।
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেতস্কি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত জুলাই মাসে কিয়েভের অদূরে ভিশনেভেতে একটি গোলাবারুদ ডিপোতে হওয়া প্রাণঘাতী হামলার পরও কার্যত কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি। সেই সময়কার তদন্তে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির গুরুতর গাফিলতি উঠে এসেছিল—বিশেষত আশপাশে আবাসিক ভবন থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষা করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছিল।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী কোরেতস্কি বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসেও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি একধরনের ফৌজদারি অবহেলা ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দায়ী প্রত্যেককে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এই হতাহতের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, আবাসিক এলাকা বা বসতবাড়ির কাছাকাছি কোনো অবস্থাতেই গোলাবারুদ মজুত রাখার নিয়ম নেই—তা সত্ত্বেও বারবার এই বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই দুর্ঘটনা থেকে যথাযথ সিদ্ধান্ত ও শিক্ষা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে বেসামরিক মানুষের জীবন এভাবে ঝুঁকির মুখে না পড়ে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে দীর্ঘপাল্লার হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এসব হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেসামরিক প্রাণহানিও পৌঁছেছে রেকর্ড মাত্রায়। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই সংঘাতে সীমান্তবর্তী ও অভ্যন্তরীণ শহরের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শঙ্কা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিয়েভের এই সাম্প্রতিক ঘটনা যুদ্ধ পরিস্থিতির ক্রমাবনতি এবং বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

কিয়েভের উপকণ্ঠে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ৩৭

আপডেট সময় ০৬:১৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পশ্চিম উপকণ্ঠে রাশিয়ার একটি ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটেছে, যাতে অন্তত ৩৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। শনিবার স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তৈমুর তকাচেনকো জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৩৭ জন, তবে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি অব্যাহত থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও রয়েছেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে বাড়তি শোকের সঞ্চার করেছে।
শুক্রবার রাতে কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মিলায় একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ লক্ষ্য করে ড্রোনটি আঘাত হানে। স্থানীয় সময় রাত আটটা দশ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় বিকেল পাঁচটা দশ মিনিট) হামলার পরপরই স্থাপনাটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং একের পর এক বিস্ফোরণ শুরু হয়। শহরের আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়, যা পরদিন শনিবার পর্যন্ত থিতিয়ে পড়েনি বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। উদ্ধারকর্মীরা সারারাত ধরে আগুন নেভানো ও ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে গেছেন।
ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষ ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগে একটি তদন্ত শুরু করেছে। প্রসিকিউটরদের ধারণা, লক্ষ্যবস্তু হওয়া গুদামে বিস্ফোরক জাতীয় সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছিল, যদিও প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা মূলত খতিয়ে দেখবেন, ওই স্থানে বিস্ফোরক উপকরণ মজুত রাখার বৈধ অনুমতি প্রতিষ্ঠানটির কাছে ছিল কি না, আর থাকলেও নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না।
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেতস্কি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত জুলাই মাসে কিয়েভের অদূরে ভিশনেভেতে একটি গোলাবারুদ ডিপোতে হওয়া প্রাণঘাতী হামলার পরও কার্যত কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি। সেই সময়কার তদন্তে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির গুরুতর গাফিলতি উঠে এসেছিল—বিশেষত আশপাশে আবাসিক ভবন থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষা করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছিল।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী কোরেতস্কি বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসেও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি একধরনের ফৌজদারি অবহেলা ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দায়ী প্রত্যেককে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এই হতাহতের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, আবাসিক এলাকা বা বসতবাড়ির কাছাকাছি কোনো অবস্থাতেই গোলাবারুদ মজুত রাখার নিয়ম নেই—তা সত্ত্বেও বারবার এই বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই দুর্ঘটনা থেকে যথাযথ সিদ্ধান্ত ও শিক্ষা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে বেসামরিক মানুষের জীবন এভাবে ঝুঁকির মুখে না পড়ে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে দীর্ঘপাল্লার হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এসব হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেসামরিক প্রাণহানিও পৌঁছেছে রেকর্ড মাত্রায়। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই সংঘাতে সীমান্তবর্তী ও অভ্যন্তরীণ শহরের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শঙ্কা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিয়েভের এই সাম্প্রতিক ঘটনা যুদ্ধ পরিস্থিতির ক্রমাবনতি এবং বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Share this news as a Photo Card