শিরোনাম :
চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

নেপালে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ ১৪০০

হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ জনে। দেশটির পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেপাল ও প্রতিবেশী তিব্বত মিলিয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১৪০০ মানুষ। শুক্রবার সকালে হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করা হয়

গত বুধবার সকালে হিমালয়ের একটি হিমবাহ ধসে পড়ার পর পাহাড়ি নদীগুলো দিয়ে প্রবল বেগে পাথর, বরফখণ্ড ও কাদামাটির স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তেই তা ভয়ংকর বন্যায় রূপ নেয় এবং আশপাশের গ্রাম ও উপত্যকা প্লাবিত করে দেয়। বন্যার তোড়ে ভেঙে পড়েছে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতির তালিকায় রয়েছে কাঠমান্ডু ও তিব্বতের লাসাকে যুক্তকারী একটি সংযোগপথ, যা পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। এই পথটি বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যাও কম নয়—প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি এখনো খোঁজ মিলছে না বলে জানা গেছে।
দুর্গম এলাকাগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে হেলিকপ্টার নামিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শহর ও উপত্যকায় আটকে থাকা হাজারো মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুরের সহায়তায়ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে স্রোতে ভেসে সমতল এলাকায় পৌঁছানো বেশ কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া এক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার পরিবারের প্রায় সবাই এই বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এবং এখন তার অপেক্ষায় থাকার মতো কেউ অবশিষ্ট নেই বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
এদিকে নতুন করে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ভোতেকোশি নদীর ওপর ধ্বংসাবশেষ জমে একটি অস্থায়ী জলাধার তৈরি হয়েছে। সেখানে ক্রমাগত পানির স্তর বাড়ছে, ফলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে সীমান্তের ওপারে চীন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে বাঁধ দিয়ে আটকে থাকা প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি হ্রদে গিয়ে জমা হতে পারে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ওই হ্রদের পানি উপচে পড়ার আশঙ্কা যথেষ্ট প্রবল এবং আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর নাগাদ পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
সব মিলিয়ে হিমালয়ের এই বিপর্যয় শুধু নেপালেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, প্রতিবেশী তিব্বত অঞ্চলেও এর প্রভাব সমান উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও নতুন বন্যার শঙ্কা তাদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নেপালে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ ১৪০০

আপডেট সময় ০১:১১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ জনে। দেশটির পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেপাল ও প্রতিবেশী তিব্বত মিলিয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১৪০০ মানুষ। শুক্রবার সকালে হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করা হয়

গত বুধবার সকালে হিমালয়ের একটি হিমবাহ ধসে পড়ার পর পাহাড়ি নদীগুলো দিয়ে প্রবল বেগে পাথর, বরফখণ্ড ও কাদামাটির স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তেই তা ভয়ংকর বন্যায় রূপ নেয় এবং আশপাশের গ্রাম ও উপত্যকা প্লাবিত করে দেয়। বন্যার তোড়ে ভেঙে পড়েছে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতির তালিকায় রয়েছে কাঠমান্ডু ও তিব্বতের লাসাকে যুক্তকারী একটি সংযোগপথ, যা পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। এই পথটি বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যাও কম নয়—প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি এখনো খোঁজ মিলছে না বলে জানা গেছে।
দুর্গম এলাকাগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে হেলিকপ্টার নামিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শহর ও উপত্যকায় আটকে থাকা হাজারো মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুরের সহায়তায়ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে স্রোতে ভেসে সমতল এলাকায় পৌঁছানো বেশ কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া এক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার পরিবারের প্রায় সবাই এই বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এবং এখন তার অপেক্ষায় থাকার মতো কেউ অবশিষ্ট নেই বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
এদিকে নতুন করে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ভোতেকোশি নদীর ওপর ধ্বংসাবশেষ জমে একটি অস্থায়ী জলাধার তৈরি হয়েছে। সেখানে ক্রমাগত পানির স্তর বাড়ছে, ফলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে সীমান্তের ওপারে চীন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে বাঁধ দিয়ে আটকে থাকা প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি হ্রদে গিয়ে জমা হতে পারে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ওই হ্রদের পানি উপচে পড়ার আশঙ্কা যথেষ্ট প্রবল এবং আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর নাগাদ পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
সব মিলিয়ে হিমালয়ের এই বিপর্যয় শুধু নেপালেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, প্রতিবেশী তিব্বত অঞ্চলেও এর প্রভাব সমান উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও নতুন বন্যার শঙ্কা তাদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।

Share this news as a Photo Card