শিরোনাম :
চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

ফিফাকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার দুই আর্জেন্টাইন নির্বাহীর

বিশ্ব ফুটবল পরিচালনাকারী সর্বোচ্চ সংস্থাটিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড় এসেছে। আর্জেন্টিনার দুই ক্রীড়া বিপণন কর্মকর্তা আদালতে স্বীকার করেছেন যে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের লাভজনক সম্প্রচার স্বত্ব করায়ত্ত করার উদ্দেশ্যে তারা ফুটবল সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়। মামলা ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এড়াতে মার্কিন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছানোর অংশ হিসেবেই তারা এই স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। অভিযুক্ত দুজন হলেন বাবা-ছেলে—হুগো ও মারিয়ানো, যারা উভয়েই আর্জেন্টিনার সুপরিচিত একটি ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠানের সহ-মালিকানায় যুক্ত ছিলেন।
২০১৫ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বিশ্ব ফুটবল সংস্থার একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের মধ্য দিয়ে এই কেলেঙ্কারি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সেই অভিযান এবং পরবর্তী তদন্তের জেরে উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল এবং একের পর এক গ্রেফতার ও শাস্তির ঘটনা ঘটে। ওই তদন্তের সূত্র ধরেই এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক এই সমঝোতা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থাকা জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এর বিনিময়ে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা এবং উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক ফুটবল সংগঠনগুলোকে প্রতারিত করার লক্ষ্যে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল তৈরি করার বিষয়টি তারা স্বীকার করে নিয়েছেন। পাশাপাশি সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে প্রায় পাঁচ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছেন।
আদালতে দাখিল করা নথিপত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন বৃহৎ ফুটবল আসরের আকর্ষণীয় মিডিয়া ও বিপণন স্বত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে কাজ করে আসছিলেন এই দুই ব্যক্তি। ফুটবল সংগঠনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের জন্য তারা নানা কৌশলে কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করেছেন বলে নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূলত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ এবং মহাদেশীয় শীর্ষ টুর্নামেন্টের মতো লাভজনক আসরগুলোর সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই অবৈধ লেনদেন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা এই বিচারিক প্রক্রিয়া বিশ্ব ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের স্বীকারোক্তিমূলক সমঝোতা ভবিষ্যতে ক্রীড়া প্রশাসনে জবাবদিহিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, বৈশ্বিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনো কতটা চ্যালেঞ্জিংয়ের মুখে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই ঘটনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্প্রচার স্বত্ব সংক্রান্ত লেনদেনে আরও কঠোর নজরদারি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ফিফাকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার দুই আর্জেন্টাইন নির্বাহীর

আপডেট সময় ০১:১৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্ব ফুটবল পরিচালনাকারী সর্বোচ্চ সংস্থাটিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড় এসেছে। আর্জেন্টিনার দুই ক্রীড়া বিপণন কর্মকর্তা আদালতে স্বীকার করেছেন যে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের লাভজনক সম্প্রচার স্বত্ব করায়ত্ত করার উদ্দেশ্যে তারা ফুটবল সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়। মামলা ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এড়াতে মার্কিন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছানোর অংশ হিসেবেই তারা এই স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। অভিযুক্ত দুজন হলেন বাবা-ছেলে—হুগো ও মারিয়ানো, যারা উভয়েই আর্জেন্টিনার সুপরিচিত একটি ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠানের সহ-মালিকানায় যুক্ত ছিলেন।
২০১৫ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বিশ্ব ফুটবল সংস্থার একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের মধ্য দিয়ে এই কেলেঙ্কারি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সেই অভিযান এবং পরবর্তী তদন্তের জেরে উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল এবং একের পর এক গ্রেফতার ও শাস্তির ঘটনা ঘটে। ওই তদন্তের সূত্র ধরেই এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক এই সমঝোতা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থাকা জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এর বিনিময়ে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা এবং উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক ফুটবল সংগঠনগুলোকে প্রতারিত করার লক্ষ্যে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল তৈরি করার বিষয়টি তারা স্বীকার করে নিয়েছেন। পাশাপাশি সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে প্রায় পাঁচ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছেন।
আদালতে দাখিল করা নথিপত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন বৃহৎ ফুটবল আসরের আকর্ষণীয় মিডিয়া ও বিপণন স্বত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে কাজ করে আসছিলেন এই দুই ব্যক্তি। ফুটবল সংগঠনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের জন্য তারা নানা কৌশলে কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করেছেন বলে নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূলত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ এবং মহাদেশীয় শীর্ষ টুর্নামেন্টের মতো লাভজনক আসরগুলোর সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই অবৈধ লেনদেন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা এই বিচারিক প্রক্রিয়া বিশ্ব ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের স্বীকারোক্তিমূলক সমঝোতা ভবিষ্যতে ক্রীড়া প্রশাসনে জবাবদিহিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, বৈশ্বিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনো কতটা চ্যালেঞ্জিংয়ের মুখে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই ঘটনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্প্রচার স্বত্ব সংক্রান্ত লেনদেনে আরও কঠোর নজরদারি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

Share this news as a Photo Card