শিরোনাম :
চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড ১০ জন খালাস

আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলার ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আর বাকি দশজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, তারা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, মাদ্রাসাছাত্র নুর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ এবং সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের। অন্যদিকে খালাস পেয়েছেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মণি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল।

এর আগে গত ২০ আগস্ট এই মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষ হয়েছিল। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির, আর আসামিদের পক্ষে লড়েন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন, যা ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর এই মামলার রায় দেন। সেই রায়ে বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথি ও রায় একই বছরের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং তা ১৪০/১৯ নম্বরে নথিভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপার বুক তৈরি করা হয়, পাশাপাশি আসামিরাও পৃথকভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।

দীর্ঘ ছয় বছর পর হাইকোর্টের এই রায়ে মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রাখছে, ফলে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু সময়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড ১০ জন খালাস

আপডেট সময় ০৩:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলার ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আর বাকি দশজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, তারা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, মাদ্রাসাছাত্র নুর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ এবং সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের। অন্যদিকে খালাস পেয়েছেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মণি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল।

এর আগে গত ২০ আগস্ট এই মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষ হয়েছিল। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির, আর আসামিদের পক্ষে লড়েন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন, যা ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর এই মামলার রায় দেন। সেই রায়ে বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথি ও রায় একই বছরের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং তা ১৪০/১৯ নম্বরে নথিভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপার বুক তৈরি করা হয়, পাশাপাশি আসামিরাও পৃথকভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।

দীর্ঘ ছয় বছর পর হাইকোর্টের এই রায়ে মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রাখছে, ফলে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু সময়।

Share this news as a Photo Card