শিরোনাম :
চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ, যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া চারটি লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ফরেনসিক বিভাগ। নিহতদের মুখমণ্ডল বিকৃত হলেও সেখানে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ মেলেনি।

রোববার সন্ধ্যায় চারটি মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস। তিনি বলেন, চারটি মরদেহ থেকেই প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা যাবে বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্যে, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মুখমণ্ডলের বিকৃতি পচনের কারণে হয়েছে, অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিকের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণও মেলেনি।”

শনিবার রাত ১১টার দিকে ওই বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ২৫ বছর বয়সী মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার ভোরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করা হয়। বিকেলে নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তিনি জানান, পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতির বাড়ির ছাদে ঢুকে মাদক সেবন করছিলেন। এ সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেললে বাঁধা দেন, আর সেখান থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থেকে দুই যুবক তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন এবং গামছা পেঁচিয়ে গলা চেপে ধরেন। চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা এগিয়ে এলে সিঁড়িতেই তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মেয়ে প্রার্থী এগিয়ে এলে তাকেও শ্বাসরোধ করা হয়, শেষে ঘরে থাকা ছেলে আয়ুশকেও হত্যা করা হয় বলে দাবি পুলিশের। শিশুটি অভিযুক্তদের চিনত এবং পরে ঘটনা ফাঁস করে দিতে পারে—এই আশঙ্কাতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা ওয়াশরুমে গোসল সেরে ফের মাদক সেবন করেন এবং বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেন। সিদ্ধার্থ একটি সোনার দোকানে কাজ করায় আগুনে পুড়িয়ে আসল স্বর্ণ শনাক্ত করেন বলে জানায় পুলিশ। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আশপাশের মানুষ মসজিদে গেলে তারা পাশের বাড়ির ছাদ দিয়েই সরে পড়েন। বেরিয়ে যাওয়ার আগে ডাইনিং টেবিলে বসে বয়ামের খেজুর খান এবং মাদকের প্রভাব কাটাতে ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খান বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

তবে ফরেনসিক বিভাগের প্রাথমিক প্রতিবেদন পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের কিছু বর্ণনার সঙ্গে মেলেনি, বিশেষত প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙা ও মুখমণ্ডলের বিকৃতি নিয়ে। মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা জানতে এখন সিআইডির ল্যাব প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ, যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

আপডেট সময় ০৪:০৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া চারটি লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ফরেনসিক বিভাগ। নিহতদের মুখমণ্ডল বিকৃত হলেও সেখানে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ মেলেনি।

রোববার সন্ধ্যায় চারটি মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস। তিনি বলেন, চারটি মরদেহ থেকেই প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা যাবে বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্যে, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মুখমণ্ডলের বিকৃতি পচনের কারণে হয়েছে, অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিকের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণও মেলেনি।”

শনিবার রাত ১১টার দিকে ওই বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ২৫ বছর বয়সী মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার ভোরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করা হয়। বিকেলে নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তিনি জানান, পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতির বাড়ির ছাদে ঢুকে মাদক সেবন করছিলেন। এ সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেললে বাঁধা দেন, আর সেখান থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থেকে দুই যুবক তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন এবং গামছা পেঁচিয়ে গলা চেপে ধরেন। চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা এগিয়ে এলে সিঁড়িতেই তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মেয়ে প্রার্থী এগিয়ে এলে তাকেও শ্বাসরোধ করা হয়, শেষে ঘরে থাকা ছেলে আয়ুশকেও হত্যা করা হয় বলে দাবি পুলিশের। শিশুটি অভিযুক্তদের চিনত এবং পরে ঘটনা ফাঁস করে দিতে পারে—এই আশঙ্কাতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা ওয়াশরুমে গোসল সেরে ফের মাদক সেবন করেন এবং বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেন। সিদ্ধার্থ একটি সোনার দোকানে কাজ করায় আগুনে পুড়িয়ে আসল স্বর্ণ শনাক্ত করেন বলে জানায় পুলিশ। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আশপাশের মানুষ মসজিদে গেলে তারা পাশের বাড়ির ছাদ দিয়েই সরে পড়েন। বেরিয়ে যাওয়ার আগে ডাইনিং টেবিলে বসে বয়ামের খেজুর খান এবং মাদকের প্রভাব কাটাতে ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খান বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

তবে ফরেনসিক বিভাগের প্রাথমিক প্রতিবেদন পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের কিছু বর্ণনার সঙ্গে মেলেনি, বিশেষত প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙা ও মুখমণ্ডলের বিকৃতি নিয়ে। মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা জানতে এখন সিআইডির ল্যাব প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card