ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে চলমান বার্তার বার্তা বিভাগ ১৬-২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় কোন সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ২৬ মার্চ থেকে যথারীতি সংবাদ পরিবেশিত হবে। কর্তৃপক্ষ ব্রডশিট জবাব না দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এমপিও স্থগিত ক্রেডিট কার্ডের নতুন গাইডলাইন ৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ ইরানে সাড়ে ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে একই পরিবারের ১২ জনসহ ১৩ জন নিহত রাষ্ট্রপতিকে প্রত্যাখ্যান করেছি : জামায়াত আমির রোববার ১১টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা ‘কিলার চুপ্পু’ স্লোগানে উত্তাল সংসদ দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল আওয়ামী লীগ : রাষ্ট্রপতি

প্রচারণা শেষ, এবার অপেক্ষা ভোটগ্রহণের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শেষ। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আর কোনো প্রার্থী কিংবা তাদের সমর্থকরা প্রচার চালাতে পারবেন না। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আশা-শঙ্কার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। অপেক্ষা কেবল ভোট গ্রহণের।

প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়ে ভোটারের মন জয় করতে দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লা আলোচনার বিষয় কেবল ভোট। দীর্ঘদিন পর নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন ১২ কোটির বেশি ভোটার। ব্যালটের মাধ্যমে ভোটার তার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চান। সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় কাকে বা কোন প্রতীকে ভোট দেওয়া যায়, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

ভোটগ্রহণের জন্য সারা দেশ প্রস্তুত। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোটের মাঠে কাজ করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা তার পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোট দেবেন। সংসদে পাঠাবেন নিজের প্রতিনিধিকে। তবে, অনেক ভোটারের মনে উদ্বেগ কাজ করছে। তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচনের দিন বা আগে-পরে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খারাপ না হয়।

ভোট উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর দাবি, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে মানুষের ভেতরে শঙ্কা থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু শঙ্কার দরকার নেই। ভালো পরিবেশে ভোট হবে।’

আর ভোটারদের আশ্বস্ত করে ইসি বলছে, ভোটের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো থাকবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে সারা দেশের কাজ করছেন সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি ও জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেনি। কিন্তু, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার জমে উঠেছে নির্বাচনি লড়াই। কোন দল আগামীতে সরকার গঠন করবেন, সে জল্পনা-কল্পনা চলছে। সামগ্রিকভাবে দেশ এখন ভোটমুখী। এ ভোটে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, রয়েছে শঙ্কাও। অন্যদিকে ভোটারের প্রত্যাশার পরিসরও অনেক।

এ নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত ৬০ রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিয়েছে। তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ দৃশ্যত ভোটের মাঠে না থাকলেও তাদের ভোটাররা রয়েছেন অনেক আসনের জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে। সেজন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী ভোটারদের নিজ দলে টানতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটারদের দ্বারে দ্বারেও যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) শেষ দিনে জমজমাট হয়ে উঠেছিল সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। রাজধানীসহ সারা দেশের ২৯৯ আসনে এদিন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা বড় পরিসরে গণমিছিলসহ ব্যাপক শোডাউন করেছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শেষ দিনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীতে বেশ কয়েকটি নির্বাচনি জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন। তারা নিজ নিজ দল ও জোটের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থীসহ ভোটাররা এখন ভোটের জন্য অপেক্ষা করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সবারই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব হতে কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবে না। এ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছিল। এ হিসেবে প্রার্থী ও দলগুলো ১৯ দিনের মতো প্রচারণার সুযোগ পেয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দলের পক্ষে প্রায় সারা দেশ সফর করেছেন। বিএনপির রেওয়াজ অনুযায়ী তারেক রহমান গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে দলের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন। ১৯ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৩টি নির্বাচনি জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এ সময়ে তিনি ৮টি বিভাগের অন্তত ২৪টি জেলা সফর করেছেন। অপরদিকে ডা. শফিকুর রহমান সব বিভাগের ৪৩ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক বড় জনসভাসহ বেশ কিছু পথসভায় বক্তব্য রেখেছেন। এ ছাড়া এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও বেশ কয়েকটি জেলা সফর করেন।

ভোটগ্রহণ শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা তারা ভোটের কৌশল নির্ধারণসহ কেন্দ্র গোছানোর কাজ করবেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এ সময় তারা পোলিং এজেন্ট নিয়োগসহ সবগুলো কেন্দ্রের দায়িত্ব বণ্টন করবেন।

আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ হবে। উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে ইসি ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করায় ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনের পরে ওই আসনে নতুন করে তফসিল ঘোষণা হবে।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের সবগুলো জেলায় ইতোমধ্যেই রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের নির্বাচনি সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, মহিলা ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন এক হাজার ২২০ জন।

নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে দুই লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন এবং সর্বোচ্চ আট লাখ চার হাজার ৩৩৩ জন ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে।

এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে এবং নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ৩৩ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। আর জামায়াতের ২২৯ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ থাকবে।

এদিকে, ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী এবং পিরোজপুর-১ আসনে সবচেয়ে কম মাত্র দুই জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে প্রায় আট লাখ কর্মকর্তার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচনে ৩৫ হাজারের মত দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং সাড়ে ৩০০ এর মত আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করবেন।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে চলমান বার্তার বার্তা বিভাগ ১৬-২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় কোন সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ২৬ মার্চ থেকে যথারীতি সংবাদ পরিবেশিত হবে। কর্তৃপক্ষ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

প্রচারণা শেষ, এবার অপেক্ষা ভোটগ্রহণের

আপডেট সময় ১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শেষ। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আর কোনো প্রার্থী কিংবা তাদের সমর্থকরা প্রচার চালাতে পারবেন না। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আশা-শঙ্কার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। অপেক্ষা কেবল ভোট গ্রহণের।

প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়ে ভোটারের মন জয় করতে দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লা আলোচনার বিষয় কেবল ভোট। দীর্ঘদিন পর নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন ১২ কোটির বেশি ভোটার। ব্যালটের মাধ্যমে ভোটার তার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চান। সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় কাকে বা কোন প্রতীকে ভোট দেওয়া যায়, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

ভোটগ্রহণের জন্য সারা দেশ প্রস্তুত। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোটের মাঠে কাজ করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা তার পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোট দেবেন। সংসদে পাঠাবেন নিজের প্রতিনিধিকে। তবে, অনেক ভোটারের মনে উদ্বেগ কাজ করছে। তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচনের দিন বা আগে-পরে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খারাপ না হয়।

ভোট উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর দাবি, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে মানুষের ভেতরে শঙ্কা থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু শঙ্কার দরকার নেই। ভালো পরিবেশে ভোট হবে।’

আর ভোটারদের আশ্বস্ত করে ইসি বলছে, ভোটের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো থাকবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে সারা দেশের কাজ করছেন সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি ও জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেনি। কিন্তু, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার জমে উঠেছে নির্বাচনি লড়াই। কোন দল আগামীতে সরকার গঠন করবেন, সে জল্পনা-কল্পনা চলছে। সামগ্রিকভাবে দেশ এখন ভোটমুখী। এ ভোটে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, রয়েছে শঙ্কাও। অন্যদিকে ভোটারের প্রত্যাশার পরিসরও অনেক।

এ নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত ৬০ রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিয়েছে। তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ দৃশ্যত ভোটের মাঠে না থাকলেও তাদের ভোটাররা রয়েছেন অনেক আসনের জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে। সেজন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী ভোটারদের নিজ দলে টানতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটারদের দ্বারে দ্বারেও যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) শেষ দিনে জমজমাট হয়ে উঠেছিল সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। রাজধানীসহ সারা দেশের ২৯৯ আসনে এদিন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা বড় পরিসরে গণমিছিলসহ ব্যাপক শোডাউন করেছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শেষ দিনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীতে বেশ কয়েকটি নির্বাচনি জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন। তারা নিজ নিজ দল ও জোটের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থীসহ ভোটাররা এখন ভোটের জন্য অপেক্ষা করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সবারই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব হতে কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবে না। এ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছিল। এ হিসেবে প্রার্থী ও দলগুলো ১৯ দিনের মতো প্রচারণার সুযোগ পেয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দলের পক্ষে প্রায় সারা দেশ সফর করেছেন। বিএনপির রেওয়াজ অনুযায়ী তারেক রহমান গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে দলের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন। ১৯ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৩টি নির্বাচনি জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এ সময়ে তিনি ৮টি বিভাগের অন্তত ২৪টি জেলা সফর করেছেন। অপরদিকে ডা. শফিকুর রহমান সব বিভাগের ৪৩ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক বড় জনসভাসহ বেশ কিছু পথসভায় বক্তব্য রেখেছেন। এ ছাড়া এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও বেশ কয়েকটি জেলা সফর করেন।

ভোটগ্রহণ শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা তারা ভোটের কৌশল নির্ধারণসহ কেন্দ্র গোছানোর কাজ করবেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এ সময় তারা পোলিং এজেন্ট নিয়োগসহ সবগুলো কেন্দ্রের দায়িত্ব বণ্টন করবেন।

আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ হবে। উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে ইসি ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করায় ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনের পরে ওই আসনে নতুন করে তফসিল ঘোষণা হবে।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের সবগুলো জেলায় ইতোমধ্যেই রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের নির্বাচনি সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, মহিলা ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন এক হাজার ২২০ জন।

নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে দুই লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন এবং সর্বোচ্চ আট লাখ চার হাজার ৩৩৩ জন ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে।

এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে এবং নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ৩৩ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। আর জামায়াতের ২২৯ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ থাকবে।

এদিকে, ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী এবং পিরোজপুর-১ আসনে সবচেয়ে কম মাত্র দুই জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে প্রায় আট লাখ কর্মকর্তার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচনে ৩৫ হাজারের মত দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং সাড়ে ৩০০ এর মত আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করবেন।