ঘুমের মধ্যে শরীর অবশ হয়ে যায় কেন? স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ ও প্রতিকার

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর নড়াচড়া করতে না পারা, গলা দিয়ে আওয়াজ বের না হওয়া কিংবা মনে হওয়া যে কেউ যেন বুকের ওপর চেপে বসে আছে—এমন অভিজ্ঞতার কথা অনেকেই বলে থাকেন। বাংলাদেশে গ্রামেগঞ্জে প্রচলিত ধারণায় একে বলা হয় “বোবায় ধরা”। প্রবীণরা প্রায়ই এই অভিজ্ঞতাকে অতিপ্রাকৃত কিছু বলে মনে করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর একটি নির্দিষ্ট নাম আছে—স্লিপ প্যারালাইসিস।
চিকিৎসকদের মতে, ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি একটি পর্যায়ে মস্তিষ্ক তখনও পুরোপুরি সজাগ থাকে, অথচ শরীরের পেশি সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এই সময়ে মস্তিষ্ক থেকে পাঠানো সংকেত পেশিতে ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না, ফলে হাত-পা নাড়ানো যায় না, কথাও বলা যায় না। অনেকের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত হয় দমবন্ধ ভাব, বুকে চাপ অনুভব করা এবং কখনও কখনও দৃষ্টিবিভ্রমও। সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ কয়েক মিনিট পর্যন্ত এই অবস্থা স্থায়ী হয়, এরপর নিজে থেকেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে শরীর।
স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার জন্য বয়সের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক—যে কারও এই সমস্যা হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। যাঁরা নিয়মিত ঘুমের অভাবে ভোগেন কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপন করেন, তাঁদের মধ্যে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
রাত জেগে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করার অভ্যাসও ঘুমের স্বাভাবিক চক্রে ব্যাঘাত ঘটায়, যা পরবর্তীতে স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মানসিক উদ্বেগ বা প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেও এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
কীভাবে মুক্তি মিলবে এই সমস্যা থেকে?
চিকিৎসকরা কিছু অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন—
প্রতিদিন রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করা
প্রতিরাতে টানা ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো নিশ্চিত করা
ঘুমানোর ঠিক আগে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার এড়িয়ে চলা
রাতে ভাজাপোড়া খাবার বা কোমল পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকা
ঘুমের আগে অন্তত পনেরো মিনিট ধ্যান বা মেডিটেশন করা, যা মানসিক চাপ কমিয়ে ঘুম গভীর করতে সহায়তা করে
চিকিৎসকদের মতে, স্লিপ প্যারালাইসিস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যা নয়, বরং জীবনযাপনের অনিয়ম ও মানসিক চাপের প্রতিফলন। তবে এই সমস্যা ঘন ঘন হতে থাকলে বা দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ঘুম বিশেষজ্ঞ বা মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে,

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ঘুমের মধ্যে শরীর অবশ হয়ে যায় কেন? স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ ও প্রতিকার

আপডেট সময় ০৫:৫৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর নড়াচড়া করতে না পারা, গলা দিয়ে আওয়াজ বের না হওয়া কিংবা মনে হওয়া যে কেউ যেন বুকের ওপর চেপে বসে আছে—এমন অভিজ্ঞতার কথা অনেকেই বলে থাকেন। বাংলাদেশে গ্রামেগঞ্জে প্রচলিত ধারণায় একে বলা হয় “বোবায় ধরা”। প্রবীণরা প্রায়ই এই অভিজ্ঞতাকে অতিপ্রাকৃত কিছু বলে মনে করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর একটি নির্দিষ্ট নাম আছে—স্লিপ প্যারালাইসিস।
চিকিৎসকদের মতে, ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি একটি পর্যায়ে মস্তিষ্ক তখনও পুরোপুরি সজাগ থাকে, অথচ শরীরের পেশি সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এই সময়ে মস্তিষ্ক থেকে পাঠানো সংকেত পেশিতে ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না, ফলে হাত-পা নাড়ানো যায় না, কথাও বলা যায় না। অনেকের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত হয় দমবন্ধ ভাব, বুকে চাপ অনুভব করা এবং কখনও কখনও দৃষ্টিবিভ্রমও। সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ কয়েক মিনিট পর্যন্ত এই অবস্থা স্থায়ী হয়, এরপর নিজে থেকেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে শরীর।
স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার জন্য বয়সের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক—যে কারও এই সমস্যা হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। যাঁরা নিয়মিত ঘুমের অভাবে ভোগেন কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপন করেন, তাঁদের মধ্যে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
রাত জেগে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করার অভ্যাসও ঘুমের স্বাভাবিক চক্রে ব্যাঘাত ঘটায়, যা পরবর্তীতে স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মানসিক উদ্বেগ বা প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেও এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
কীভাবে মুক্তি মিলবে এই সমস্যা থেকে?
চিকিৎসকরা কিছু অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন—
প্রতিদিন রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করা
প্রতিরাতে টানা ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো নিশ্চিত করা
ঘুমানোর ঠিক আগে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার এড়িয়ে চলা
রাতে ভাজাপোড়া খাবার বা কোমল পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকা
ঘুমের আগে অন্তত পনেরো মিনিট ধ্যান বা মেডিটেশন করা, যা মানসিক চাপ কমিয়ে ঘুম গভীর করতে সহায়তা করে
চিকিৎসকদের মতে, স্লিপ প্যারালাইসিস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যা নয়, বরং জীবনযাপনের অনিয়ম ও মানসিক চাপের প্রতিফলন। তবে এই সমস্যা ঘন ঘন হতে থাকলে বা দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ঘুম বিশেষজ্ঞ বা মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

Share this news as a Photo Card