রক্তচাপের মাপ শুধু দুটি সংখ্যা নয়, এটি হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই রক্তচাপের রিডিং বুঝতে পারা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তচাপের দুটি অংশ থাকে— উপরের সংখ্যা (সিস্টোলিক), যা হৃদ্যন্ত্র সংকুচিত হওয়ার সময়ের চাপ নির্দেশ করে এবং নিচের সংখ্যা (ডায়াস্টোলিক), যা হৃদ্যন্ত্র শিথিল অবস্থায় রক্তনালির চাপ বোঝায়।
যদি রক্তচাপ প্রায় ১১৮/৭৬ মিমি পারদ (mmHg) থাকে, তবে সেটিকে সাধারণত স্বাভাবিক ধরা হয়। এ অবস্থায় হৃদ্যন্ত্রে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং গুরুতর হৃদ্রোগের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে।
অন্যদিকে ১৩৬/৮৮ mmHg রিডিং হলে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যদিও এটি সব ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থা নয়, তবে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা উচিত। বাংলাদেশে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত হাঁটা, লবণ কম খাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ওপর গুরুত্ব দেন।
যদি রক্তচাপ ১৪৮/৯২ mmHg বা তার বেশি হয়, তবে তা উচ্চ রক্তচাপের ইঙ্গিত হতে পারে। এ অবস্থায় রক্তনালির ওপর চাপ বেড়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
আর ১৬২/১০০ mmHg বা এর কাছাকাছি রিডিং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী লিপিড প্রোফাইল, কিডনি পরীক্ষা, ইসিজি বা অন্যান্য হৃদ্যন্ত্রের পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন
বাংলাদেশের জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, যাদের ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, স্থূলতা বা পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, একবারের রক্তচাপের রিডিং দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বিভিন্ন সময়ে সঠিক নিয়মে একাধিকবার রক্তচাপ মাপার পর চিকিৎসকই প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করেন।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 


























