মান পূরণে ব্যর্থ আট পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বাজারে থাকা পরিচিত ব্র্যান্ডের একাধিক পণ্যেও যে মানের ঘাটতি থাকতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফলে। বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চারটি প্রতিষ্ঠানের আটটি ভেরিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, পরীক্ষায় এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় ধরা পড়েছে। এই অনিয়ম সামনে আসার পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।

বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেসের আমের আচারের একটি ব্যাচে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে। এছাড়া বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকোলেট আইসক্রিমের একটি ব্যাচে বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাটের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক তথ্য মিলেছে প্রসাধনী পণ্যের ক্ষেত্রে। অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন এবং অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের মোরিংগা-মাচা, ফোমিং মিল্ক ও তুলসী ফেসওয়াশের প্রতিটির একটি করে ব্যাচে, পাশাপাশি লাবণ্য ব্র্যান্ডের অ্যালোভেরা শ্যাম্পুর একটি ব্যাচেও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এসব পণ্য নিয়মিত ব্যবহার করলে তা ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

তালিকায় বাদ যায়নি শিশু ও তরুণদের প্রিয় পানীয়ও। ডেকো ফুডস লিমিটেডের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারের একটি ব্যাচে বাংলাদেশ মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় ভিটামিন ‘সি’ কম পাওয়া গেছে, যা পুষ্টিমান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এসব পণ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা পুনরায় অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত এসব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বিএসটিআই। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। বিএসটিআই আরও জানায়, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রতিটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনস্বার্থ ও ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটি বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ‘জনগণ যাতে মানসম্মত পণ্য কিনতে পারেন, সে বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন।

পাশাপাশি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত সংস্থাকে জানানোর জন্যও ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোক্তাদের সচেতনতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মিত তদারকির মধ্য দিয়েই বাজারে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে,

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মান পূরণে ব্যর্থ আট পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

আপডেট সময় ০৮:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বাজারে থাকা পরিচিত ব্র্যান্ডের একাধিক পণ্যেও যে মানের ঘাটতি থাকতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফলে। বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চারটি প্রতিষ্ঠানের আটটি ভেরিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, পরীক্ষায় এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় ধরা পড়েছে। এই অনিয়ম সামনে আসার পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।

বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেসের আমের আচারের একটি ব্যাচে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে। এছাড়া বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকোলেট আইসক্রিমের একটি ব্যাচে বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাটের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক তথ্য মিলেছে প্রসাধনী পণ্যের ক্ষেত্রে। অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন এবং অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের মোরিংগা-মাচা, ফোমিং মিল্ক ও তুলসী ফেসওয়াশের প্রতিটির একটি করে ব্যাচে, পাশাপাশি লাবণ্য ব্র্যান্ডের অ্যালোভেরা শ্যাম্পুর একটি ব্যাচেও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এসব পণ্য নিয়মিত ব্যবহার করলে তা ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

তালিকায় বাদ যায়নি শিশু ও তরুণদের প্রিয় পানীয়ও। ডেকো ফুডস লিমিটেডের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারের একটি ব্যাচে বাংলাদেশ মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় ভিটামিন ‘সি’ কম পাওয়া গেছে, যা পুষ্টিমান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এসব পণ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা পুনরায় অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত এসব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বিএসটিআই। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। বিএসটিআই আরও জানায়, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রতিটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনস্বার্থ ও ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটি বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ‘জনগণ যাতে মানসম্মত পণ্য কিনতে পারেন, সে বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন।

পাশাপাশি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত সংস্থাকে জানানোর জন্যও ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোক্তাদের সচেতনতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মিত তদারকির মধ্য দিয়েই বাজারে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব।

Share this news as a Photo Card