শিরোনাম :
চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনে তিনি এই অঙ্গীকারের কথা জানান।
কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। রাজনীতিতে আসার আগে নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই অভিজ্ঞতার সূত্র ধরেই তিনি বলেন, শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভর করে কোনো ব্যবসা টেকসই সাফল্য পেতে পারে না, বরং এর জন্য প্রয়োজন সরকারের প্রবৃদ্ধিবান্ধব নীতিমালা।
বিনিয়োগকারীদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা
উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার চায় দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে এসে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করুন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুন। তিনি আশ্বস্ত করেন, যে কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও যুগোপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকবে। একে নিছক প্রতিশ্রুতি নয় বরং সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
দেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনার দিকটিও কম নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্যে, দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও পরিশ্রমী জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের ব্যাপক আস্থাপ্রাপ্ত একটি নির্বাচিত সরকার—এই বিষয়গুলো একসঙ্গে বাংলাদেশকে টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে।
সংস্কারের রূপরেখা
সরকারের মূল লক্ষ্য হলো নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা বলে জানান তিনি। নির্বাচনি ইশতেহারেই এই রূপান্তরের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাস পার হলেও অর্থনৈতিক প্রস্তুতির কাজ নির্বাচনের বহু আগে থেকেই শুরু হয়েছিল বলে জানান তিনি। এ সময় বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাদের কাছ থেকে উঠে আসা মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা জোরদার করা, ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি, কর ব্যবস্থা সহজীকরণ, মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া এবং শক্তিশালী পুঁজিবাজার ও উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করা।
এসব দাবির প্রেক্ষিতে সরকার ইতোমধ্যে আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজতর করার কাজ শুরু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে গতিশীল করা, স্টার্টআপ খাতে উৎসাহ প্রদান, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে প্রণোদনা
চলতি বাজেটে নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস। বাংলাদেশকে বিশ্বের একটি উল্লেখযোগ্য উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, তৈরি পোশাক শিল্পে পণ্য বৈচিত্র্য আনা এবং মানবসম্পদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তা নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর। উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের তিনি এই যৌথ যাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে গড়ে তোলা যায় সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি অর্থনীতি

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০১:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনে তিনি এই অঙ্গীকারের কথা জানান।
কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। রাজনীতিতে আসার আগে নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই অভিজ্ঞতার সূত্র ধরেই তিনি বলেন, শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভর করে কোনো ব্যবসা টেকসই সাফল্য পেতে পারে না, বরং এর জন্য প্রয়োজন সরকারের প্রবৃদ্ধিবান্ধব নীতিমালা।
বিনিয়োগকারীদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা
উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার চায় দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে এসে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করুন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুন। তিনি আশ্বস্ত করেন, যে কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও যুগোপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকবে। একে নিছক প্রতিশ্রুতি নয় বরং সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
দেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনার দিকটিও কম নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্যে, দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও পরিশ্রমী জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের ব্যাপক আস্থাপ্রাপ্ত একটি নির্বাচিত সরকার—এই বিষয়গুলো একসঙ্গে বাংলাদেশকে টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে।
সংস্কারের রূপরেখা
সরকারের মূল লক্ষ্য হলো নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা বলে জানান তিনি। নির্বাচনি ইশতেহারেই এই রূপান্তরের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাস পার হলেও অর্থনৈতিক প্রস্তুতির কাজ নির্বাচনের বহু আগে থেকেই শুরু হয়েছিল বলে জানান তিনি। এ সময় বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাদের কাছ থেকে উঠে আসা মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা জোরদার করা, ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি, কর ব্যবস্থা সহজীকরণ, মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া এবং শক্তিশালী পুঁজিবাজার ও উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করা।
এসব দাবির প্রেক্ষিতে সরকার ইতোমধ্যে আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজতর করার কাজ শুরু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে গতিশীল করা, স্টার্টআপ খাতে উৎসাহ প্রদান, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে প্রণোদনা
চলতি বাজেটে নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস। বাংলাদেশকে বিশ্বের একটি উল্লেখযোগ্য উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, তৈরি পোশাক শিল্পে পণ্য বৈচিত্র্য আনা এবং মানবসম্পদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তা নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর। উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের তিনি এই যৌথ যাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে গড়ে তোলা যায় সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি অর্থনীতি

Share this news as a Photo Card