ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির জেরে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর পদত্যাগসহ অন্যান্য দাবি সরকার মেনে নেওয়ার পর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান দীর্ঘ ৩৬ দিনের আন্দোলন ‘অবিলম্বে কার্যকরের’ ঘোষণা দিয়ে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী ও সিজেপি নেতাদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের পাশে বসে সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের জানান, সরকার তাঁদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় সদুদ্দেশ্য নিয়েই তাঁরা এই আন্দোলন প্রত্যাহার করছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি সরকার সিজেপিকে আরও কয়েকটি বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব পুলিশি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে না। এর পাশাপাশি নিট প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মানসিক অপবাদে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিল, নিয়ম অনুযায়ী তাদের পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা সব আন্দোলনকারীকে ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি, কারণ সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে।’ অন্যদিকে মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনের পর সরকার তাঁদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। তিনি সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনস্থল ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁদের দাবিগুলো কোনো চরমপন্থি চাওয়া ছিল না, বরং খুবই মৌলিক ছিল, যা অবশেষে সরকার গ্রহণ করেছে।
আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা আসার পরপরই দিল্লি পুলিশ লাউডস্পিকার ব্যবহার করে সেন্ট্রাল দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের এলাকা খালি করার অনুরোধ জানায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনের কারণে ট্রাফিক ডাইভারশন ও মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকার পাশাপাশি আশপাশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ও স্থানীয় বাজারগুলোতে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সমাগম ব্যাপক হারে কমে গিয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ফলে ওই এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এস কে চন্দন, ঢাকা 




















