চোখের সামনে ভেসে গেল পুরো পরিবার, নেপালে হাহাকার

নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে নেমে আসা আকস্মিক বন্যা মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য পরিবারের সব কিছু। স্বজন হারানোর যন্ত্রণা আর জীবিকা হারানোর হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো। তাদের মুখে উঠে এসেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাতের করুণ বর্ণনা, যা শুনে শিউরে উঠছেন যে কেউ।
নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কল্পনা মল্লা কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছেন তার নিজের চোখে দেখা সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা। বলেন, নিজের চোখের সামনেই প্রবল জলস্রোতে তলিয়ে গেছে তার গোটা পরিবার। বাবা, মা, বোন এবং বোনের ছোট্ট সন্তানেরা— কাউকেই বাঁচাতে পারেননি তিনি। পালানোর মতো এক মুহূর্তও সময় পাননি কেউ। জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলা কল্পনা এখনো নিজেই বুঝে উঠতে পারছেন না, কীভাবে ছেলেকে নিয়ে বাড়ির ছাদ ধরে টিকে ছিলেন সেদিন।
তার ছেলে সুগম মল্লার কণ্ঠেও একই বিষাদের সুর। মাকে ছাদের ওপর থেকে কোনোমতে টেনে তুলে বাঁচাতে পেরেছিলেন তিনি, কিন্তু নিজের বোনের কোনো হদিস পাচ্ছেন না এখনো। যোগাযোগ সহজ করতে নিজের ফোনটি বোনের কাছে রেখে এসেছিলেন সুগম, অথচ এখন সেই নম্বরে চেষ্টা করলেই আসছে বন্ধের বার্তা। বোন বেঁচে আছেন কি না, সেই দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছেন তিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা গোমা পণ্ডিতের কণ্ঠেও ঝরে পড়েছে হাহাকার। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে তার পালন করা মহিষসহ সব গবাদিপশু। চাষের জমিও এখন নদীগর্ভে বিলীন। সরিষার বীজ, ভুট্টা, ধান— বছরের পরিশ্রমের ফসল মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে চোখের সামনে। জীবনযাপনের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে দিশেহারা এই নারী বলছেন, তার কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
এমন অসংখ্য পরিবারের করুণ কাহিনি ছড়িয়ে আছে বন্যাদুর্গত পুরো অঞ্চল জুড়ে। যাদের ঘরবাড়ি, জমি আর প্রিয়জন কেড়ে নিয়েছে হঠাৎ নেমে আসা এই জলোচ্ছ্বাস, তাদের সামনে এখন শুধুই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্যাহত হচ্ছে সেই কার্যক্রম। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা, ফলে নিখোঁজদের সন্ধান পেতে বাড়ছে সময়ক্ষেপণ।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের এই ভয়াবহ প্লাবনের নেপথ্যে মূল কারণ ছিল ভূমিকম্প নয়, বরং পাহাড়ি ঢালে সংঘটিত বিশাল ধস। আকস্মিকভাবে নেমে আসা সেই ধসই নদীর গতিপথ বদলে দিয়ে সৃষ্টি করেছে এই প্রলয়ংকরী বন্যা পরিস্থিতি, যা মুহূর্তেই গ্রাস করেছে জনপদের পর জনপদ।
বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে হারানো স্বজন আর সহায়-সম্বলের শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি দুর্গত মানুষেরা। তাদের চোখেমুখে এখনো লেগে আছে সেই দুঃস্বপ্নের ছাপ, যেখানে নিমেষের মধ্যে বদলে গেছে তাদের গোটা জীবন

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

চোখের সামনে ভেসে গেল পুরো পরিবার, নেপালে হাহাকার

আপডেট সময় ১২:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে নেমে আসা আকস্মিক বন্যা মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য পরিবারের সব কিছু। স্বজন হারানোর যন্ত্রণা আর জীবিকা হারানোর হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো। তাদের মুখে উঠে এসেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাতের করুণ বর্ণনা, যা শুনে শিউরে উঠছেন যে কেউ।
নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কল্পনা মল্লা কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছেন তার নিজের চোখে দেখা সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা। বলেন, নিজের চোখের সামনেই প্রবল জলস্রোতে তলিয়ে গেছে তার গোটা পরিবার। বাবা, মা, বোন এবং বোনের ছোট্ট সন্তানেরা— কাউকেই বাঁচাতে পারেননি তিনি। পালানোর মতো এক মুহূর্তও সময় পাননি কেউ। জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলা কল্পনা এখনো নিজেই বুঝে উঠতে পারছেন না, কীভাবে ছেলেকে নিয়ে বাড়ির ছাদ ধরে টিকে ছিলেন সেদিন।
তার ছেলে সুগম মল্লার কণ্ঠেও একই বিষাদের সুর। মাকে ছাদের ওপর থেকে কোনোমতে টেনে তুলে বাঁচাতে পেরেছিলেন তিনি, কিন্তু নিজের বোনের কোনো হদিস পাচ্ছেন না এখনো। যোগাযোগ সহজ করতে নিজের ফোনটি বোনের কাছে রেখে এসেছিলেন সুগম, অথচ এখন সেই নম্বরে চেষ্টা করলেই আসছে বন্ধের বার্তা। বোন বেঁচে আছেন কি না, সেই দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছেন তিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা গোমা পণ্ডিতের কণ্ঠেও ঝরে পড়েছে হাহাকার। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে তার পালন করা মহিষসহ সব গবাদিপশু। চাষের জমিও এখন নদীগর্ভে বিলীন। সরিষার বীজ, ভুট্টা, ধান— বছরের পরিশ্রমের ফসল মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে চোখের সামনে। জীবনযাপনের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে দিশেহারা এই নারী বলছেন, তার কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
এমন অসংখ্য পরিবারের করুণ কাহিনি ছড়িয়ে আছে বন্যাদুর্গত পুরো অঞ্চল জুড়ে। যাদের ঘরবাড়ি, জমি আর প্রিয়জন কেড়ে নিয়েছে হঠাৎ নেমে আসা এই জলোচ্ছ্বাস, তাদের সামনে এখন শুধুই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্যাহত হচ্ছে সেই কার্যক্রম। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা, ফলে নিখোঁজদের সন্ধান পেতে বাড়ছে সময়ক্ষেপণ।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের এই ভয়াবহ প্লাবনের নেপথ্যে মূল কারণ ছিল ভূমিকম্প নয়, বরং পাহাড়ি ঢালে সংঘটিত বিশাল ধস। আকস্মিকভাবে নেমে আসা সেই ধসই নদীর গতিপথ বদলে দিয়ে সৃষ্টি করেছে এই প্রলয়ংকরী বন্যা পরিস্থিতি, যা মুহূর্তেই গ্রাস করেছে জনপদের পর জনপদ।
বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে হারানো স্বজন আর সহায়-সম্বলের শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি দুর্গত মানুষেরা। তাদের চোখেমুখে এখনো লেগে আছে সেই দুঃস্বপ্নের ছাপ, যেখানে নিমেষের মধ্যে বদলে গেছে তাদের গোটা জীবন

Share this news as a Photo Card