শিরোনাম :

নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার

হিমবাহ ধসজনিত ভয়াবহ বন্যায় নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গপথে দীর্ঘ নয়দিন আটকে থাকার পর অবশেষে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে দুই শ্রমিককে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এই উদ্ধারকাণ্ড সম্পন্ন হয়, যা দেশটির সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে স্বস্তির এক বিরল সংবাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে একই প্রকল্পে আরও অনেক শ্রমিকের এখনো কোনো হদিস মেলেনি বলে জানা গেছে।
উদ্ধারের এই ঘটনা ঘটে ত্রিশূলী থ্রি-এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে, যেখানে আকস্মিক বন্যার পানি ঢুকে পড়ার পর থেকে বহু শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সুড়ঙ্গ খুঁড়ে নিখোঁজ ৪২ জন শ্রমিকের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন তারা।
প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, প্রায় ডজনখানেক উদ্ধারকর্মী মাটির একটি সংকীর্ণ গর্তের ভেতর দিয়ে সাবধানে একজনকে টেনে বের করছেন। দীর্ঘ কয়েকদিনের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার পর আটকে পড়া ব্যক্তি নিরাপদে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত উদ্ধারকারীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। তারা হাততালি দিয়ে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের শিকার হওয়া নুওয়াকোট জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বিপিন রেগমি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে এখনও মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে বলে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য আহতদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে একটি চিকিৎসক দল পাঠানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য নির্মিত সুড়ঙ্গপথটি দৈর্ঘ্যে চার কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত। বিপর্যয়কর বন্যা আঘাত হানার সময় এই দীর্ঘ সুড়ঙ্গের ভেতরে কয়েক ডজন শ্রমিক নিয়মিত কাজে নিয়োজিত ছিলেন, যাদের অনেকেই আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে আটকা পড়ে যান।
ত্রিশূলী নদীর কূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক শ্রমিকরাও। প্রবল বেগে ধেয়ে আসা বন্যার পানি নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত করে দেয়, যার ফলে সামগ্রিকভাবে নেপালে এখন পর্যন্ত এক হাজার তিনশোরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো আশা প্রকাশ করছে, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে পাওয়া জীবিত কণ্ঠস্বরের সূত্র ধরে আরও শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখেও পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা। দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন ও অবকাঠামো মেরামতের কাজও দ্রুততম সময়ে শুরু করার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৬০ জন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মেসির গোল-অ্যাসিস্টে মহাকাব্যের সমাপ্তি

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার

আপডেট সময় ০২:১০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হিমবাহ ধসজনিত ভয়াবহ বন্যায় নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গপথে দীর্ঘ নয়দিন আটকে থাকার পর অবশেষে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে দুই শ্রমিককে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এই উদ্ধারকাণ্ড সম্পন্ন হয়, যা দেশটির সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে স্বস্তির এক বিরল সংবাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে একই প্রকল্পে আরও অনেক শ্রমিকের এখনো কোনো হদিস মেলেনি বলে জানা গেছে।
উদ্ধারের এই ঘটনা ঘটে ত্রিশূলী থ্রি-এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে, যেখানে আকস্মিক বন্যার পানি ঢুকে পড়ার পর থেকে বহু শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সুড়ঙ্গ খুঁড়ে নিখোঁজ ৪২ জন শ্রমিকের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন তারা।
প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, প্রায় ডজনখানেক উদ্ধারকর্মী মাটির একটি সংকীর্ণ গর্তের ভেতর দিয়ে সাবধানে একজনকে টেনে বের করছেন। দীর্ঘ কয়েকদিনের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার পর আটকে পড়া ব্যক্তি নিরাপদে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত উদ্ধারকারীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। তারা হাততালি দিয়ে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের শিকার হওয়া নুওয়াকোট জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বিপিন রেগমি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে এখনও মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে বলে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য আহতদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে একটি চিকিৎসক দল পাঠানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য নির্মিত সুড়ঙ্গপথটি দৈর্ঘ্যে চার কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত। বিপর্যয়কর বন্যা আঘাত হানার সময় এই দীর্ঘ সুড়ঙ্গের ভেতরে কয়েক ডজন শ্রমিক নিয়মিত কাজে নিয়োজিত ছিলেন, যাদের অনেকেই আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে আটকা পড়ে যান।
ত্রিশূলী নদীর কূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক শ্রমিকরাও। প্রবল বেগে ধেয়ে আসা বন্যার পানি নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত করে দেয়, যার ফলে সামগ্রিকভাবে নেপালে এখন পর্যন্ত এক হাজার তিনশোরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো আশা প্রকাশ করছে, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে পাওয়া জীবিত কণ্ঠস্বরের সূত্র ধরে আরও শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখেও পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা। দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন ও অবকাঠামো মেরামতের কাজও দ্রুততম সময়ে শুরু করার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card