ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে নিজেদের অবস্থানে আরও কঠোর হয়েছে আন্দোলনকারী দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করা হলে নতুন করে আলোচনার কোনো যৌক্তিকতাই নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি অনমনীয় এবং এ নিয়ে কোনো আপস হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার যদি এই প্রস্তাবে রাজি না হয়, তবে পরবর্তী কোনো আলোচনারই আর অর্থ থাকে না।
এর আগে শুক্রবার কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক করেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। ওই বৈঠকে আন্দোলনকারীদের তিনটি মূল দাবির মধ্যে দুটি নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছিল কেন্দ্র—আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং প্রশ্ন ফাঁসের কারণে হতাশায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নেই এসে আটকে যায় গোটা আলোচনা।
সরকারি উচ্চপদস্থ একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না—এ বিষয়ে সরকার তার সিদ্ধান্তে অনড়। তবে সংকট সামাল দিতে ইতিমধ্যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে কেন্দ্র, পাশাপাশি দ্রুতগতির আদালত গঠনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন নির্দেশনার কথাও জানানো হয়েছে। যদিও আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, কেবল কর্মকর্তা ছাঁটাই যথেষ্ট নয়—শীর্ষ পদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষামন্ত্রীকেই পদত্যাগ করতে হবে।
আজ দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে বহুল আলোচিত তৃতীয় দফার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা ভারত, কারণ সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনড় অবস্থানের কারণে সংকট সমাধানের পথ কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
এস কে চন্দন, ঢাকা 























