ক্যারির কণ্ঠে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও টেস্ট খেলার আকাঙ্ক্ষা

অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও বেশি সংখ্যক টেস্ট ম্যাচ খেলার ইচ্ছা রয়েছে তার দলের। সদ্যসমাপ্ত দুই টেস্টের সিরিজ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই আগ্রহের কথা জানান তিনি।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। সিরিজের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের নয় উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করে সফরকারীরা। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ছিল এক অনন্য মাইলফলক, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের জন্ম দেয়।
তবে এই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়ে সফরকারী ব্যাটিং লাইনআপ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা, আর দ্বিতীয় ইনিংসে তা আরও করুণ, মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে হারের তেতো স্বাদ নিতে হয় তাদের। ফলে সিরিজ শেষ হয় ১-১ সমতায়, যা দুই দলের মধ্যকার ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের তীব্রতা ও অনিশ্চয়তাকেই তুলে ধরেছে।
জয়-পরাজয়ের এই ওঠানামার পরও প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে নিয়ে ক্যারির মূল্যায়ন ছিল ইতিবাচক। তিনি বলেন, লাল বলের ক্রিকেটে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও অনেকবার প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার প্রত্যাশা রাখেন তিনি, এবং তাদের সঙ্গে আরও সিরিজ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মাঠের বাইরে প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের সঙ্গে খুনসুটি ও সময় কাটানোর অভিজ্ঞতাকেও তিনি উপভোগ্য বলে উল্লেখ করেন।
সামগ্রিকভাবে সিরিজটিকে রোমাঞ্চকর ও উপভোগ্য বলে বর্ণনা করেন এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা। তার ভাষ্যমতে, দুই দলই চমৎকার ক্রীড়াসুলভ মনোভাব প্রদর্শন করেছে গোটা সিরিজজুড়ে। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত কয়েক মাসে ওয়ানডে ও টেস্ট সংস্করণ মিলিয়ে দুই দলের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হয়েছে, যা ক্রমেই এই দ্বৈরথকে আরও জমজমাট করে তুলছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে দলটি এখন কঠিন কন্ডিশনেও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলতে সক্ষম। বিশেষ করে প্রথম টেস্টের ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং ধসের কারণ নিয়ে দলের ভেতরে বিশ্লেষণ চলছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলেও বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দুই দলের মধ্যকার সাম্প্রতিক লড়াইগুলো দেখিয়ে দিয়েছে, ফলাফল যাই হোক না কেন, প্রতিটি ম্যাচেই থাকছে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা। এমন প্রেক্ষাপটে ক্যারির এই মন্তব্য ভবিষ্যতে দুই দলের মধ্যে আরও ঘন ঘন সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাকে জোরালো করছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
দুই দলের মধ্যকার এই ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগামী দিনগুলোতে টেস্ট ক্রিকেটকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ যদি ধারাবাহিকভাবে এমন প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারে, তবে ভবিষ্যতে বড় দলগুলোর সঙ্গে আরও বেশি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের দরজা খুলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ক্যারির কণ্ঠে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও টেস্ট খেলার আকাঙ্ক্ষা

আপডেট সময় ০৬:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও বেশি সংখ্যক টেস্ট ম্যাচ খেলার ইচ্ছা রয়েছে তার দলের। সদ্যসমাপ্ত দুই টেস্টের সিরিজ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই আগ্রহের কথা জানান তিনি।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। সিরিজের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের নয় উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করে সফরকারীরা। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ছিল এক অনন্য মাইলফলক, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের জন্ম দেয়।
তবে এই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়ে সফরকারী ব্যাটিং লাইনআপ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা, আর দ্বিতীয় ইনিংসে তা আরও করুণ, মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে হারের তেতো স্বাদ নিতে হয় তাদের। ফলে সিরিজ শেষ হয় ১-১ সমতায়, যা দুই দলের মধ্যকার ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের তীব্রতা ও অনিশ্চয়তাকেই তুলে ধরেছে।
জয়-পরাজয়ের এই ওঠানামার পরও প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে নিয়ে ক্যারির মূল্যায়ন ছিল ইতিবাচক। তিনি বলেন, লাল বলের ক্রিকেটে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও অনেকবার প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার প্রত্যাশা রাখেন তিনি, এবং তাদের সঙ্গে আরও সিরিজ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মাঠের বাইরে প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের সঙ্গে খুনসুটি ও সময় কাটানোর অভিজ্ঞতাকেও তিনি উপভোগ্য বলে উল্লেখ করেন।
সামগ্রিকভাবে সিরিজটিকে রোমাঞ্চকর ও উপভোগ্য বলে বর্ণনা করেন এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা। তার ভাষ্যমতে, দুই দলই চমৎকার ক্রীড়াসুলভ মনোভাব প্রদর্শন করেছে গোটা সিরিজজুড়ে। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত কয়েক মাসে ওয়ানডে ও টেস্ট সংস্করণ মিলিয়ে দুই দলের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হয়েছে, যা ক্রমেই এই দ্বৈরথকে আরও জমজমাট করে তুলছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে দলটি এখন কঠিন কন্ডিশনেও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলতে সক্ষম। বিশেষ করে প্রথম টেস্টের ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং ধসের কারণ নিয়ে দলের ভেতরে বিশ্লেষণ চলছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলেও বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দুই দলের মধ্যকার সাম্প্রতিক লড়াইগুলো দেখিয়ে দিয়েছে, ফলাফল যাই হোক না কেন, প্রতিটি ম্যাচেই থাকছে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা। এমন প্রেক্ষাপটে ক্যারির এই মন্তব্য ভবিষ্যতে দুই দলের মধ্যে আরও ঘন ঘন সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাকে জোরালো করছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
দুই দলের মধ্যকার এই ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগামী দিনগুলোতে টেস্ট ক্রিকেটকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ যদি ধারাবাহিকভাবে এমন প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারে, তবে ভবিষ্যতে বড় দলগুলোর সঙ্গে আরও বেশি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের দরজা খুলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card