চার-ছক্কার ঝড়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ এইচপি দল

বোলারদের দৃঢ়তা আর ব্যাটারদের বিধ্বংসী রূপে মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। সোমবার (১০ আগস্ট) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে সফরকারীদের ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় মালয়েশিয়া। তবে ইনিংসের শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে তারা। রহস্য স্পিনার রুবেল হোসেনের বলে খালি হাতে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাইফ। এরপর আরেক ওপেনার আসলাম খানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি; রাকিবুল হাসানের শিকার হয়ে তিনি সাজঘরে ফেরার আগে করেন ২০ বলে ১৮ রান।
শুরুর এই ধাক্কা সামলে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সৈয়দ আজিজ ও আকিল ওয়াহিদ। যদিও তাদের ব্যাটিং ছিল বেশ ধীরগতির, তবু এই জুটির সৌজন্যেই শতরানের গণ্ডি পার হয় মালয়েশিয়া। আজিজ ৫২ বলে ৪০ এবং আকিল ৩৩ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলেন। শেষদিকে মুনিয়ান্দি ৭ বলে ১১ ও ভিজায় ৩ বলে ২ রানে অপরাজিত থেকে দলের সংগ্রহ কিছুটা বাড়ান। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১০৫ রান তোলে সফরকারীরা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন আবু হায়দার রনি, তিনি একাই তুলে নেন দুটি উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট শিকার করেন রুবেল হোসেন ও রাকিবুল হাসান।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজ দেখায় স্বাগতিক দল। দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও জিসান আলম মিলে চার-ছক্কার পসরা সাজান সফরকারী বোলারদের ওপর। তাদের ঝোড়ো শুরুর সুবাদে মাত্র ৩.১ ওভারেই দলীয় পঞ্চাশ রান পূর্ণ করে ফেলে বাংলাদেশ। জাওয়াদ আবরার ৮ বলে ২৩ রানের ঝকঝকে এক ক্যামিও খেলে আউট হন, ইনিংসটা বড় করতে পারেননি তিনি। তার বিদায়ের পরপরই একইভাবে সাজঘরে ফেরেন আরিফুল ইসলাম, ৩ বলে করেন মাত্র ৪ রান।
তবে এই দুই উইকেট হারালেও রানের গতিতে ভাটা পড়েনি। ঝড় তুলতে থাকেন জিসান আলম। তরুণ এই হার্ডহিটার ব্যাটার একাই ছুটিয়ে দেন সফরকারী বোলিং আক্রমণ, তুলে নেন নিজের হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ২১ বলে অপরাজিত ৫৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। মাঝে সাব্বির রহমান ৮ বলে ১২ রান করে ফিরে গেলেও তাতে জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭.৩ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ এইচপি দল, হাতে থাকে সাত উইকেট।
আঁটসাঁট বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে অল্প রানে বেঁধে রাখা এবং এরপর ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে দ্রুততম সময়ে লক্ষ্য পূরণ— দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিলো বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য বেশ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে দলের জন্য।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে,

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

চার-ছক্কার ঝড়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ এইচপি দল

আপডেট সময় ০৫:৩৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বোলারদের দৃঢ়তা আর ব্যাটারদের বিধ্বংসী রূপে মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। সোমবার (১০ আগস্ট) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে সফরকারীদের ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় মালয়েশিয়া। তবে ইনিংসের শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে তারা। রহস্য স্পিনার রুবেল হোসেনের বলে খালি হাতে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাইফ। এরপর আরেক ওপেনার আসলাম খানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি; রাকিবুল হাসানের শিকার হয়ে তিনি সাজঘরে ফেরার আগে করেন ২০ বলে ১৮ রান।
শুরুর এই ধাক্কা সামলে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সৈয়দ আজিজ ও আকিল ওয়াহিদ। যদিও তাদের ব্যাটিং ছিল বেশ ধীরগতির, তবু এই জুটির সৌজন্যেই শতরানের গণ্ডি পার হয় মালয়েশিয়া। আজিজ ৫২ বলে ৪০ এবং আকিল ৩৩ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলেন। শেষদিকে মুনিয়ান্দি ৭ বলে ১১ ও ভিজায় ৩ বলে ২ রানে অপরাজিত থেকে দলের সংগ্রহ কিছুটা বাড়ান। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১০৫ রান তোলে সফরকারীরা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন আবু হায়দার রনি, তিনি একাই তুলে নেন দুটি উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট শিকার করেন রুবেল হোসেন ও রাকিবুল হাসান।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজ দেখায় স্বাগতিক দল। দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও জিসান আলম মিলে চার-ছক্কার পসরা সাজান সফরকারী বোলারদের ওপর। তাদের ঝোড়ো শুরুর সুবাদে মাত্র ৩.১ ওভারেই দলীয় পঞ্চাশ রান পূর্ণ করে ফেলে বাংলাদেশ। জাওয়াদ আবরার ৮ বলে ২৩ রানের ঝকঝকে এক ক্যামিও খেলে আউট হন, ইনিংসটা বড় করতে পারেননি তিনি। তার বিদায়ের পরপরই একইভাবে সাজঘরে ফেরেন আরিফুল ইসলাম, ৩ বলে করেন মাত্র ৪ রান।
তবে এই দুই উইকেট হারালেও রানের গতিতে ভাটা পড়েনি। ঝড় তুলতে থাকেন জিসান আলম। তরুণ এই হার্ডহিটার ব্যাটার একাই ছুটিয়ে দেন সফরকারী বোলিং আক্রমণ, তুলে নেন নিজের হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ২১ বলে অপরাজিত ৫৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। মাঝে সাব্বির রহমান ৮ বলে ১২ রান করে ফিরে গেলেও তাতে জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭.৩ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ এইচপি দল, হাতে থাকে সাত উইকেট।
আঁটসাঁট বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে অল্প রানে বেঁধে রাখা এবং এরপর ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে দ্রুততম সময়ে লক্ষ্য পূরণ— দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিলো বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য বেশ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে দলের জন্য।

Share this news as a Photo Card