শিরোনাম :
চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে শনিবার দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সরকারপ্রধান বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে থাকতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, তাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা কোনোভাবেই পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে সরকার সবসময় তাদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠান তাদের জন্য গভীর বেদনার। যাদের আজ উপস্থিত থাকার কথা ছিল, দুর্ভাগ্যক্রমে তারা নেই। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের বর্তমান অবস্থা একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন, তাই তাদের জন্য দোয়া করা উচিত যেন আল্লাহ তাদের সর্বোত্তম অবস্থায় রাখেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সবশেষে জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারীদের স্মরণ করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা, গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ-ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাস্তব নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সবকিছু দ্রুত করা সম্ভব না হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বড় অর্জনের পেছনে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। যারা বেঁচে আছেন তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য তাদের এই ত্যাগ অতুলনীয়, আর সরকার তাদের সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকেই সরকারের কাজের মূল অনুপ্রেরণা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে মনে করতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। তিনি বলেন, এই পরিবারগুলোই সরকারের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।
শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধার প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে সরকারের পাশাপাশি তাদের সহযোগিতা ও উৎসাহও প্রয়োজন। তিনি তাদের সর্বাত্মক সমর্থন কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য বক্তব্য রাখেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী-সহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং তার আগে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। নিয়োগপত্রপ্রাপ্তরা সবাই হয় গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্য, নয়তো জুলাই আন্দোলনে শহীদ বা আহত ব্যক্তিদের পরিবারভুক্ত। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৬:০২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে শনিবার দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সরকারপ্রধান বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে থাকতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, তাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা কোনোভাবেই পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে সরকার সবসময় তাদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠান তাদের জন্য গভীর বেদনার। যাদের আজ উপস্থিত থাকার কথা ছিল, দুর্ভাগ্যক্রমে তারা নেই। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের বর্তমান অবস্থা একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন, তাই তাদের জন্য দোয়া করা উচিত যেন আল্লাহ তাদের সর্বোত্তম অবস্থায় রাখেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সবশেষে জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারীদের স্মরণ করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা, গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ-ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাস্তব নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সবকিছু দ্রুত করা সম্ভব না হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বড় অর্জনের পেছনে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। যারা বেঁচে আছেন তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য তাদের এই ত্যাগ অতুলনীয়, আর সরকার তাদের সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকেই সরকারের কাজের মূল অনুপ্রেরণা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে মনে করতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। তিনি বলেন, এই পরিবারগুলোই সরকারের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।
শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধার প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে সরকারের পাশাপাশি তাদের সহযোগিতা ও উৎসাহও প্রয়োজন। তিনি তাদের সর্বাত্মক সমর্থন কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য বক্তব্য রাখেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী-সহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং তার আগে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। নিয়োগপত্রপ্রাপ্তরা সবাই হয় গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্য, নয়তো জুলাই আন্দোলনে শহীদ বা আহত ব্যক্তিদের পরিবারভুক্ত। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card