শিরোনাম :
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলা, নিহত দুই নাবিক

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, তাই সবাইকে বিষয়টি নিয়ে সজাগ থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহনশীলতার চর্চা অব্যাহত রেখেই দেশের সব নাগরিককে একসূত্রে গাঁথা থাকতে হবে। তার ভাষায়, এই ভূখণ্ডে কেউ সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু পরিচয়ে বিভক্ত নয়; বরং সবাই একটিই পরিচয়ে পরিচিত—বাংলাদেশি। এই অভিন্ন পরিচয়ের বন্ধনকে শক্তিশালী রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠান চলাকালে সরাসরি মঞ্চে উপস্থিত থেকে নয়জন পুরোহিত ও সেবায়েতের হাতে সম্মানীর অর্থ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত আরও চৌষট্টি জন পুরোহিত ও সেবায়েতকেও একই সম্মানী প্রদান করা হয় বলে অনুষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে অতীতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় জনগণের সমস্ত অধিকার হরণ করে এক নিষ্ঠুর শাসকগোষ্ঠী দেশবাসীর কাঁধে চেপে বসেছিল, যাদের নিপীড়ন ছিল পুরাণের কংসের অত্যাচারের মতোই ভয়াবহ। তবে সেই ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে অসংখ্য মানুষকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, সমাজবিরোধী কোনো অপশক্তি যাতে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা মোকাবিলায় দেশবাসীর সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী কোনো গাড়িবহর ব্যবহার না করে সচিবালয় থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন পর্যন্ত হেঁটে যান। এ সময় তার সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের পাশাপাশি ছিলেন কয়েকজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম শাখার প্রতিনিধিরা। পথে চলাচলরত সাধারণ মানুষ তাকে দেখে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, জবাবে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন। এই দৃশ্য অনেকের নজর কাড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সব মিলিয়ে জন্মাষ্টমীর এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা যেমন জোরালোভাবে উঠে এসেছে, তেমনি গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বানও গুরুত্ব পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বার্তা জনমনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলা, নিহত দুই নাবিক

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

আপডেট সময় ১২:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, তাই সবাইকে বিষয়টি নিয়ে সজাগ থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহনশীলতার চর্চা অব্যাহত রেখেই দেশের সব নাগরিককে একসূত্রে গাঁথা থাকতে হবে। তার ভাষায়, এই ভূখণ্ডে কেউ সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু পরিচয়ে বিভক্ত নয়; বরং সবাই একটিই পরিচয়ে পরিচিত—বাংলাদেশি। এই অভিন্ন পরিচয়ের বন্ধনকে শক্তিশালী রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠান চলাকালে সরাসরি মঞ্চে উপস্থিত থেকে নয়জন পুরোহিত ও সেবায়েতের হাতে সম্মানীর অর্থ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত আরও চৌষট্টি জন পুরোহিত ও সেবায়েতকেও একই সম্মানী প্রদান করা হয় বলে অনুষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে অতীতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় জনগণের সমস্ত অধিকার হরণ করে এক নিষ্ঠুর শাসকগোষ্ঠী দেশবাসীর কাঁধে চেপে বসেছিল, যাদের নিপীড়ন ছিল পুরাণের কংসের অত্যাচারের মতোই ভয়াবহ। তবে সেই ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে অসংখ্য মানুষকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, সমাজবিরোধী কোনো অপশক্তি যাতে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা মোকাবিলায় দেশবাসীর সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী কোনো গাড়িবহর ব্যবহার না করে সচিবালয় থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন পর্যন্ত হেঁটে যান। এ সময় তার সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের পাশাপাশি ছিলেন কয়েকজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম শাখার প্রতিনিধিরা। পথে চলাচলরত সাধারণ মানুষ তাকে দেখে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, জবাবে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন। এই দৃশ্য অনেকের নজর কাড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সব মিলিয়ে জন্মাষ্টমীর এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা যেমন জোরালোভাবে উঠে এসেছে, তেমনি গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বানও গুরুত্ব পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বার্তা জনমনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Share this news as a Photo Card