হামের প্রকোপে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট ৮২৫

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব যেন কিছুতেই থামছে না। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই রোগ ও এর উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে আরও পাঁচটি শিশু। এর মধ্য দিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৮২৫ জনে।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃত্যুগুলোর মধ্যে তিনটি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট যে ৮২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে ৭৩০ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ জন।
মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও কম নয়। গত এক দিনে সারা দেশে নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৩ জনের শরীরে, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছেন আরও ৯৯২ জন। এতে করে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫ জনে, আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫৫৫।
হাসপাতালে ভর্তির চিত্রও রীতিমতো উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ জন। তবে স্বস্তির খবর হলো, এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন, যা মোট ভর্তি হওয়া রোগীর একটি বড় অংশ।
তবে প্রতিদিনই নতুন মৃত্যু ও আক্রান্তের যে সংখ্যা যোগ হচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে প্রাণহানির হার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলে আসছেন, টিকাদানই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার তুলনামূলক কম, সেসব এলাকায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ অবস্থায় শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হামের প্রকোপে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট ৮২৫

আপডেট সময় ০৪:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব যেন কিছুতেই থামছে না। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই রোগ ও এর উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে আরও পাঁচটি শিশু। এর মধ্য দিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৮২৫ জনে।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃত্যুগুলোর মধ্যে তিনটি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট যে ৮২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে ৭৩০ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ জন।
মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও কম নয়। গত এক দিনে সারা দেশে নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৩ জনের শরীরে, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছেন আরও ৯৯২ জন। এতে করে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫ জনে, আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫৫৫।
হাসপাতালে ভর্তির চিত্রও রীতিমতো উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ জন। তবে স্বস্তির খবর হলো, এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন, যা মোট ভর্তি হওয়া রোগীর একটি বড় অংশ।
তবে প্রতিদিনই নতুন মৃত্যু ও আক্রান্তের যে সংখ্যা যোগ হচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে প্রাণহানির হার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলে আসছেন, টিকাদানই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার তুলনামূলক কম, সেসব এলাকায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ অবস্থায় শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card