ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি : কেন এই পদক্ষেপ?

  • মাহমুদ
  • আপডেট সময় ১১:৩৫:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 87

যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো পশ্চিমা দেশগুলো সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশও একই পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তকে ‘হামাসের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। 

স্বীকৃতির অর্থ কী?
ফিলিস্তিন এমন একটি সত্তা যার অস্তিত্ব আংশিক। এর প্রচুর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে এবং বিদেশে কূটনৈতিক মিশন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলও রয়েছে। তবে, ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে এর কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী নেই। এই স্বীকৃতি তাই মূলত একটি শক্তিশালী নৈতিক ও রাজনৈতিক বিবৃতি, যা বাস্তবে তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না।

এক ধরনের আধা-রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি বহু বছর ধরে চলমান আন্তর্জাতিক বিতর্কের একটি অংশ। ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার পর থেকে এই অঞ্চলটি অসমাপ্ত আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হলেও ফিলিস্তিনের সমান্তরাল রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ শতাংশই বর্তমানে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এর মর্যাদা হলো ‘স্থায়ী পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’, যেখানে অংশগ্রহণের অনুমতি থাকলেও ভোটাধিকার নেই।

কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশের স্বীকৃতির ফলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের মধ্যে চারটি (চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স) ফিলিস্তিনকে সমর্থন করবে, যা এই ইস্যুতে ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করবে।

কেন এখন এই পদক্ষেপ?
বহু বছর ধরে অনেক পশ্চিমা সরকার শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বললেও বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ তাদের হাতকে বাধ্য করেছে। গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ক্ষোভ ও বিশ্ব জনমতের ব্যাপক পরিবর্তন এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সন্ত্রাসবাদের প্রতিদান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভূখণ্ডের কেন্দ্রস্থলে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সর্বশেষ প্রচেষ্টার জবাব আমেরিকা থেকে আমার ফিরে আসার পরে দেওয়া হবে। অপেক্ষা করুন।’

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এর তীব্র বিরোধিতা এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, এই স্বীকৃতি হামাসকে ‘আরও সাহসী’ করে তুলবে। ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখলে নিতে প্ররোচিত করতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ গাজায় যুদ্ধবিরতিকে আরও কঠিন করে তুলবে।

যেকারণে সাদিক কায়েমকে ডাকসু ভিপি নির্বাচিত করলেন শিক্ষার্থীরা

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি : কেন এই পদক্ষেপ?

আপডেট সময় ১১:৩৫:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো পশ্চিমা দেশগুলো সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশও একই পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তকে ‘হামাসের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। 

স্বীকৃতির অর্থ কী?
ফিলিস্তিন এমন একটি সত্তা যার অস্তিত্ব আংশিক। এর প্রচুর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে এবং বিদেশে কূটনৈতিক মিশন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলও রয়েছে। তবে, ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে এর কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী নেই। এই স্বীকৃতি তাই মূলত একটি শক্তিশালী নৈতিক ও রাজনৈতিক বিবৃতি, যা বাস্তবে তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না।

এক ধরনের আধা-রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি বহু বছর ধরে চলমান আন্তর্জাতিক বিতর্কের একটি অংশ। ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার পর থেকে এই অঞ্চলটি অসমাপ্ত আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হলেও ফিলিস্তিনের সমান্তরাল রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ শতাংশই বর্তমানে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এর মর্যাদা হলো ‘স্থায়ী পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’, যেখানে অংশগ্রহণের অনুমতি থাকলেও ভোটাধিকার নেই।

কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশের স্বীকৃতির ফলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের মধ্যে চারটি (চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স) ফিলিস্তিনকে সমর্থন করবে, যা এই ইস্যুতে ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করবে।

কেন এখন এই পদক্ষেপ?
বহু বছর ধরে অনেক পশ্চিমা সরকার শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বললেও বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ তাদের হাতকে বাধ্য করেছে। গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ক্ষোভ ও বিশ্ব জনমতের ব্যাপক পরিবর্তন এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সন্ত্রাসবাদের প্রতিদান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভূখণ্ডের কেন্দ্রস্থলে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সর্বশেষ প্রচেষ্টার জবাব আমেরিকা থেকে আমার ফিরে আসার পরে দেওয়া হবে। অপেক্ষা করুন।’

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এর তীব্র বিরোধিতা এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, এই স্বীকৃতি হামাসকে ‘আরও সাহসী’ করে তুলবে। ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখলে নিতে প্ররোচিত করতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ গাজায় যুদ্ধবিরতিকে আরও কঠিন করে তুলবে।

যেকারণে সাদিক কায়েমকে ডাকসু ভিপি নির্বাচিত করলেন শিক্ষার্থীরা