শিরোনাম :
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলা, নিহত দুই নাবিক

মায়ের মৃত্যুর পর নদীতে নেমেছিলেন গোবিন্দ

বলিউডের প্রিয়মুখ অভিনেতা গোবিন্দ এবার মুখ খুললেন নিজের জীবনের এক গভীর বেদনার অধ্যায় নিয়ে। প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী মা নির্মলা দেবীর প্রয়াণের পর তিনি এতটাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, মাকে আবার ফিরে পাওয়ার আকুতিতে নর্মদা নদীর জলে নেমে গিয়েছিলেন এই তারকা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ১৯৯৬ সালের সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেছেন গোবিন্দ। তিনি জানান, সেই সময়টায় তিনি ভীষণ কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং মনে হচ্ছিল জীবনের সবকিছু যেন থমকে গেছে। তার মা নির্মলা দেবী ১৯৯৬ সালের ১৫ জুন ৬৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান।
মায়ের বিদায়ের পর নিজেকে সামলাতে না পেরে গোবিন্দ ছুটে যান নর্মদা নদীর তীরে। তার ভাষায়, নদীর গভীরে আরও কিছুটা এগিয়ে গেলে হয়তো মায়ের সাথে দেখা হয়ে যাবে—এমন এক অদ্ভুত বিশ্বাস থেকেই তিনি পানির মধ্যে হাঁটতে শুরু করেছিলেন। ঘটনাটি আসলে আত্মহননের চেষ্টা ছিল কি না, এই প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা স্বীকার করেন যে বিষয়টি অনেকটা তেমনই ছিল। তবে তিনি এটাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে চান। তার মতে, মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল গভীর ও নিবিড়, আর দুনিয়া হয়তো একে নেতিবাচক নামে ডাকবে, কিন্তু তিনি নিজে বিষয়টাকে সেভাবে দেখেন না। তার বিশ্বাস, জীবন কখনো একেবারে ফুরিয়ে যায় না, বরং তা কেবল নতুন আকারে রূপান্তরিত হয়।
সেই বিপজ্জনক মুহূর্তে নদীর পাড়ে থাকা রাম কুণ্ডল নামের একজন সাধু গোবিন্দকে দেখতে পেয়ে ডাক দেন। অভিনেতা জানান, সেই সাধু তার দিকে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করেছিলেন তার কী হয়েছে—আর এই সাধারণ প্রশ্নটিই যেন তাকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনে। সেদিনের সেই মুহূর্ত তাকে বুঝিয়ে দেয় যে তিনি একটি বড় ভুল করতে যাচ্ছিলেন। নিজের সন্তানদের কথা ভেবে বেঁচে থাকার তাগিদ অনুভব করেন তিনি সেই মুহূর্তেই। এরপরও সেই কঠিন মানসিক অবস্থা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে তার প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লেগেছিল।
মায়ের মৃত্যু গোবিন্দের জীবনদর্শন ও ক্যারিয়ারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীর ছাপ ফেলেছিল। চলচ্চিত্র ও তারকাখ্যাতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিনেমা তার কাছে একরকম খেলনার মতোই মনে হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, অভিনয়, খ্যাতি কিংবা নায়কোচিত পরিচিতি—সবকিছুই ঈশ্বরের দেওয়া উপহার, আর তারা সবাই কেবল সেই ভূমিকাগুলোই পালন করে চলেছেন যা ওপরওয়ালা তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কী, এমন প্রশ্নে গোবিন্দ জানান, বড় তারকা হয়ে ওঠাটাই তার কাছে আসল অর্জন নয়। বরং মায়ের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারাই ছিল তার জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। ছোটবেলায় মা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে বড় করেছিলেন, একুশ বছর বয়সে পৌঁছে সেই স্বপ্নপূরণ ও পরিবারের সেবা করাটাই তিনি মনে করেন তার জীবনের প্রকৃত বীরত্ব।
বর্তমানে গোবিন্দ ব্যস্ত রয়েছেন তার আসন্ন চলচ্চিত্র ‘রূপা’র প্রচারকাজ নিয়ে। ভক্তদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলা, নিহত দুই নাবিক

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মায়ের মৃত্যুর পর নদীতে নেমেছিলেন গোবিন্দ

আপডেট সময় ১০:০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বলিউডের প্রিয়মুখ অভিনেতা গোবিন্দ এবার মুখ খুললেন নিজের জীবনের এক গভীর বেদনার অধ্যায় নিয়ে। প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী মা নির্মলা দেবীর প্রয়াণের পর তিনি এতটাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, মাকে আবার ফিরে পাওয়ার আকুতিতে নর্মদা নদীর জলে নেমে গিয়েছিলেন এই তারকা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ১৯৯৬ সালের সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেছেন গোবিন্দ। তিনি জানান, সেই সময়টায় তিনি ভীষণ কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং মনে হচ্ছিল জীবনের সবকিছু যেন থমকে গেছে। তার মা নির্মলা দেবী ১৯৯৬ সালের ১৫ জুন ৬৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান।
মায়ের বিদায়ের পর নিজেকে সামলাতে না পেরে গোবিন্দ ছুটে যান নর্মদা নদীর তীরে। তার ভাষায়, নদীর গভীরে আরও কিছুটা এগিয়ে গেলে হয়তো মায়ের সাথে দেখা হয়ে যাবে—এমন এক অদ্ভুত বিশ্বাস থেকেই তিনি পানির মধ্যে হাঁটতে শুরু করেছিলেন। ঘটনাটি আসলে আত্মহননের চেষ্টা ছিল কি না, এই প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা স্বীকার করেন যে বিষয়টি অনেকটা তেমনই ছিল। তবে তিনি এটাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে চান। তার মতে, মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল গভীর ও নিবিড়, আর দুনিয়া হয়তো একে নেতিবাচক নামে ডাকবে, কিন্তু তিনি নিজে বিষয়টাকে সেভাবে দেখেন না। তার বিশ্বাস, জীবন কখনো একেবারে ফুরিয়ে যায় না, বরং তা কেবল নতুন আকারে রূপান্তরিত হয়।
সেই বিপজ্জনক মুহূর্তে নদীর পাড়ে থাকা রাম কুণ্ডল নামের একজন সাধু গোবিন্দকে দেখতে পেয়ে ডাক দেন। অভিনেতা জানান, সেই সাধু তার দিকে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করেছিলেন তার কী হয়েছে—আর এই সাধারণ প্রশ্নটিই যেন তাকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনে। সেদিনের সেই মুহূর্ত তাকে বুঝিয়ে দেয় যে তিনি একটি বড় ভুল করতে যাচ্ছিলেন। নিজের সন্তানদের কথা ভেবে বেঁচে থাকার তাগিদ অনুভব করেন তিনি সেই মুহূর্তেই। এরপরও সেই কঠিন মানসিক অবস্থা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে তার প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লেগেছিল।
মায়ের মৃত্যু গোবিন্দের জীবনদর্শন ও ক্যারিয়ারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীর ছাপ ফেলেছিল। চলচ্চিত্র ও তারকাখ্যাতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিনেমা তার কাছে একরকম খেলনার মতোই মনে হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, অভিনয়, খ্যাতি কিংবা নায়কোচিত পরিচিতি—সবকিছুই ঈশ্বরের দেওয়া উপহার, আর তারা সবাই কেবল সেই ভূমিকাগুলোই পালন করে চলেছেন যা ওপরওয়ালা তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কী, এমন প্রশ্নে গোবিন্দ জানান, বড় তারকা হয়ে ওঠাটাই তার কাছে আসল অর্জন নয়। বরং মায়ের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারাই ছিল তার জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। ছোটবেলায় মা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে বড় করেছিলেন, একুশ বছর বয়সে পৌঁছে সেই স্বপ্নপূরণ ও পরিবারের সেবা করাটাই তিনি মনে করেন তার জীবনের প্রকৃত বীরত্ব।
বর্তমানে গোবিন্দ ব্যস্ত রয়েছেন তার আসন্ন চলচ্চিত্র ‘রূপা’র প্রচারকাজ নিয়ে। ভক্তদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

Share this news as a Photo Card