ঢাকা কলেজে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে আহত অন্তত ২৭

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজধানীর ঢাকা কলেজেও একই ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে কলেজের গ্যালারি নম্বর ২ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কলেজের ২ নম্বর গ্যালারিতে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শিরোনামে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানের ব্যানার টাঙানোর সময়ই আকস্মিকভাবে হামলা চালান শাখা ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী।

ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুনের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার প্রস্তুতি চলছিল গ্যালারি-২ ঘিরে। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে ৫ ও ৬ নম্বর গ্যালারিতে চলছিল সাজসজ্জার কাজ। ঠিক তখনই ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সেখানে হাজির হয়ে আব্দুল মালেকসহ কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান আব্দুল মালেক, পরে তাঁকে নেওয়া হয় পপুলার হাসপাতালে।

তবে ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন ছাত্রদলের কর্মী রাসেল। তাঁর ভাষ্য, সকালে শিবিরের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বহিরাগত কর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হন এবং ছাত্রদলের কর্মীদের সঙ্গে উসকানিমূলক আচরণ করেন, এক পর্যায়ে মারধরও করেন একজনকে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন। পরে শিবিরের পক্ষ থেকে হামলা ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সংঘর্ষ শুরু হয়।

একই দিন সহিংসতার আরেকটি ঘটনা ঘটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ তথা জকসুর প্রতিনিধিরা। অভিযোগ উঠেছে, শিবির সমর্থিত জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএসসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিককে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার প্রাক্কালে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় প্ল্যাকার্ড হাতে সমর্থকদের নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন জকসু প্রতিনিধিরা। শিবিরের অভিযোগ অনুযায়ী, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জিএস আব্দুল আলিম আরিফকে মারধর করতে করতে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তবে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, ছাত্রশিবির ও জকসু প্রতিনিধিরা পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষ্যে, নিজেদের প্ল্যাকার্ড নিজেরাই ছিঁড়ে ছাত্রদলের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

একই দিনে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরপর সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থী রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ঢাকা কলেজে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে আহত অন্তত ২৭

আপডেট সময় ০৫:৫৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজধানীর ঢাকা কলেজেও একই ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে কলেজের গ্যালারি নম্বর ২ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কলেজের ২ নম্বর গ্যালারিতে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শিরোনামে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানের ব্যানার টাঙানোর সময়ই আকস্মিকভাবে হামলা চালান শাখা ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী।

ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুনের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার প্রস্তুতি চলছিল গ্যালারি-২ ঘিরে। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে ৫ ও ৬ নম্বর গ্যালারিতে চলছিল সাজসজ্জার কাজ। ঠিক তখনই ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সেখানে হাজির হয়ে আব্দুল মালেকসহ কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান আব্দুল মালেক, পরে তাঁকে নেওয়া হয় পপুলার হাসপাতালে।

তবে ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন ছাত্রদলের কর্মী রাসেল। তাঁর ভাষ্য, সকালে শিবিরের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বহিরাগত কর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হন এবং ছাত্রদলের কর্মীদের সঙ্গে উসকানিমূলক আচরণ করেন, এক পর্যায়ে মারধরও করেন একজনকে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন। পরে শিবিরের পক্ষ থেকে হামলা ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সংঘর্ষ শুরু হয়।

একই দিন সহিংসতার আরেকটি ঘটনা ঘটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ তথা জকসুর প্রতিনিধিরা। অভিযোগ উঠেছে, শিবির সমর্থিত জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএসসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিককে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার প্রাক্কালে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় প্ল্যাকার্ড হাতে সমর্থকদের নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন জকসু প্রতিনিধিরা। শিবিরের অভিযোগ অনুযায়ী, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জিএস আব্দুল আলিম আরিফকে মারধর করতে করতে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তবে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, ছাত্রশিবির ও জকসু প্রতিনিধিরা পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষ্যে, নিজেদের প্ল্যাকার্ড নিজেরাই ছিঁড়ে ছাত্রদলের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

একই দিনে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরপর সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থী রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

Share this news as a Photo Card