শিরোনাম :
চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : হুমায়ুন কবির জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না : আইজিপি হাকিমাবাদে বার্ষিক ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ৯ দিন পর ২ শ্রমিক উদ্ধার বগুড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতায়িত মই, স্বজনসহ নিহত ৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতায়িত মই: নাতনি ও ভাতিজিসহ গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু

​চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ভেজা একটি লোহার মই থেকে ছড়ানো বিদ্যুতে স্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে এক বৃদ্ধা নারী, তাঁর শিশু নাতনি এবং বেড়াতে আসা এক তরুণী ভাতিজি রয়েছেন।

​মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের ভিখুর বাড়িতে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। স্বজনকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে তিনজনই বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

​হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো বারঘরিয়া এলাকায় এখন শোকের মাতম চলছে। বেড়াতে এসে পরম স্বজনের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজনেরা।

যেভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা

​স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বর্ষণের কারণে ভিখুর বাড়ির উঠান ও আশপাশের এলাকা পানি জমে ভেজা ছিল। বাড়ির ছাদ বা ওপরের অংশে ওঠার কাজে ব্যবহৃত একটি লোহার মই দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রাখা ছিল। কোনোভাবে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎ সংযোগের তার বা ভেজা মাধ্যমে বিদ্যুৎ এসে ওই লোহার মইটিতে প্রবাহিত হতে শুরু করে।

​মঙ্গলবার সকালে গৃহকর্তা মোহাম্মদ ভিখুর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫০) গৃহস্থালির কাজের প্রয়োজনে ওই ভেজা লোহার মই ধরে ওপরে ওঠার চেষ্টা করেন। মইটিতে হাত দেওয়ার সাথে সাথেই তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে আটকে পড়েন এবং ছটফট করতে থাকেন।

​হাসিনা বেগমকে ওই করুণ অবস্থায় ছটফট করতে দেখে তাঁর নাতনি মিম (১৩) এগিয়ে আসে। সে কোনো কিছু না ভেবেই দাদিকে বাঁচাতে হাত বাড়ায়। কিন্তু ভেজা মেঝে ও বিদ্যুতায়িত শরীরের স্পর্শ পাওয়ামাত্রই মিমও সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে।

​ঠিক সেই মুহূর্তেই চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে ছুটে আসেন হাসিনা বেগমের ভাতিজি আশা খাতুন (২৮)। তিনি এসে দেখতে পান তাঁর চাচি ও নাতনি মাটিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তাঁদের উদ্ধার করার আকুল চেষ্টায় তিনি হাত বাড়ালে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টের শিকার হন তিনিও। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে তিনজনেরই করুণ মৃত্যু ঘটে।

স্বজনদের দেখতে এসে মৃত্যুর কোলে

​পুলিশ জানিয়েছে, নাতনি মিম এবং ভাতিজি আশা খাতুন দুজনেই কয়েক দিন আগে হাসিনা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

​নিহতদের স্বজনরা জানান, মিমের বাড়ি বারঘরিয়া হাজিপাড়ায়, সে ওই গ্রামের বাবুর মেয়ে। আর আশা খাতুন ছিলেন প্রতিবেশী জেলা রাজশাহীর তানোর উপজেলার কইচা মোহনপুর গ্রামের এরশাদ আলীর মেয়ে। ফুফু ও দাদির বাড়িতে ছুটির সুন্দর দিনগুলো কাটাতে এসে যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

​দুর্ঘটনার পর পরই পাড়া-প্রতিবেশীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসেন। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগেই তিনজনের দেহ নিস্তেজ হয়ে যায়। পরে বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

পুলিশ ও জনপ্রতিনিধির বক্তব্য

​দুর্ঘটনার বিষয়ে বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হারুন বলেন, “সকালে অতিবৃষ্টির কারণে উঠানে পানি জমে ছিল। লোহার মইটি বিদ্যুতায়িত থাকায় প্রথমে হাসিনা বেগম সেটির স্পর্শে আসেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর নাতনি ও ভাতিজি প্রাণ হারান। একসঙ্গে একটি পরিবারের তিনটি তরতাজা প্রাণ হারিয়ে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক। পুরো ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

​খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ ও স্থানীয় থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। পুলিশ গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতিসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ গণমাধ্যমকে জানান, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ টিম দ্রুত বারঘরিয়ার বাদুরতলা গ্রামে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিদ্যুতায়িত মই স্পর্শ করা এবং পরবর্তীতে রক্ষা করতে গিয়েই এই তিনজনের প্রাণহানি ঘটে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

বর্ষায় বিদ্যুৎ সচেতনতার জরুরি বার্তা

​বর্ষাকালে এবং বৃষ্টির মৌসুমে গ্রামীণ ও শহরের গৃহস্থালিতে বিদ্যুতের তার, ধাতব মই, টিনের চাল কিংবা ভেজা দেয়াল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

​ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে খালি হাতে স্পর্শ না করে কাঠ, শুকনো বাঁশ, কিংবা রাবারের মতো বিদ্যুৎ-অপরিবাহী বস্তু দিয়ে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। অথবা দ্রুত মূল পাওয়ার সুইচ বা মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। সচেতনতার অভাবেই এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতায়িত মই, স্বজনসহ নিহত ৩

আপডেট সময় ১২:১৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতায়িত মই: নাতনি ও ভাতিজিসহ গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু

​চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ভেজা একটি লোহার মই থেকে ছড়ানো বিদ্যুতে স্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে এক বৃদ্ধা নারী, তাঁর শিশু নাতনি এবং বেড়াতে আসা এক তরুণী ভাতিজি রয়েছেন।

​মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের ভিখুর বাড়িতে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। স্বজনকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে তিনজনই বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

​হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো বারঘরিয়া এলাকায় এখন শোকের মাতম চলছে। বেড়াতে এসে পরম স্বজনের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজনেরা।

যেভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা

​স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বর্ষণের কারণে ভিখুর বাড়ির উঠান ও আশপাশের এলাকা পানি জমে ভেজা ছিল। বাড়ির ছাদ বা ওপরের অংশে ওঠার কাজে ব্যবহৃত একটি লোহার মই দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রাখা ছিল। কোনোভাবে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎ সংযোগের তার বা ভেজা মাধ্যমে বিদ্যুৎ এসে ওই লোহার মইটিতে প্রবাহিত হতে শুরু করে।

​মঙ্গলবার সকালে গৃহকর্তা মোহাম্মদ ভিখুর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫০) গৃহস্থালির কাজের প্রয়োজনে ওই ভেজা লোহার মই ধরে ওপরে ওঠার চেষ্টা করেন। মইটিতে হাত দেওয়ার সাথে সাথেই তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে আটকে পড়েন এবং ছটফট করতে থাকেন।

​হাসিনা বেগমকে ওই করুণ অবস্থায় ছটফট করতে দেখে তাঁর নাতনি মিম (১৩) এগিয়ে আসে। সে কোনো কিছু না ভেবেই দাদিকে বাঁচাতে হাত বাড়ায়। কিন্তু ভেজা মেঝে ও বিদ্যুতায়িত শরীরের স্পর্শ পাওয়ামাত্রই মিমও সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে।

​ঠিক সেই মুহূর্তেই চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে ছুটে আসেন হাসিনা বেগমের ভাতিজি আশা খাতুন (২৮)। তিনি এসে দেখতে পান তাঁর চাচি ও নাতনি মাটিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তাঁদের উদ্ধার করার আকুল চেষ্টায় তিনি হাত বাড়ালে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টের শিকার হন তিনিও। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে তিনজনেরই করুণ মৃত্যু ঘটে।

স্বজনদের দেখতে এসে মৃত্যুর কোলে

​পুলিশ জানিয়েছে, নাতনি মিম এবং ভাতিজি আশা খাতুন দুজনেই কয়েক দিন আগে হাসিনা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

​নিহতদের স্বজনরা জানান, মিমের বাড়ি বারঘরিয়া হাজিপাড়ায়, সে ওই গ্রামের বাবুর মেয়ে। আর আশা খাতুন ছিলেন প্রতিবেশী জেলা রাজশাহীর তানোর উপজেলার কইচা মোহনপুর গ্রামের এরশাদ আলীর মেয়ে। ফুফু ও দাদির বাড়িতে ছুটির সুন্দর দিনগুলো কাটাতে এসে যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

​দুর্ঘটনার পর পরই পাড়া-প্রতিবেশীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসেন। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগেই তিনজনের দেহ নিস্তেজ হয়ে যায়। পরে বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

পুলিশ ও জনপ্রতিনিধির বক্তব্য

​দুর্ঘটনার বিষয়ে বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হারুন বলেন, “সকালে অতিবৃষ্টির কারণে উঠানে পানি জমে ছিল। লোহার মইটি বিদ্যুতায়িত থাকায় প্রথমে হাসিনা বেগম সেটির স্পর্শে আসেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর নাতনি ও ভাতিজি প্রাণ হারান। একসঙ্গে একটি পরিবারের তিনটি তরতাজা প্রাণ হারিয়ে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক। পুরো ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

​খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ ও স্থানীয় থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। পুলিশ গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতিসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ গণমাধ্যমকে জানান, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ টিম দ্রুত বারঘরিয়ার বাদুরতলা গ্রামে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিদ্যুতায়িত মই স্পর্শ করা এবং পরবর্তীতে রক্ষা করতে গিয়েই এই তিনজনের প্রাণহানি ঘটে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

বর্ষায় বিদ্যুৎ সচেতনতার জরুরি বার্তা

​বর্ষাকালে এবং বৃষ্টির মৌসুমে গ্রামীণ ও শহরের গৃহস্থালিতে বিদ্যুতের তার, ধাতব মই, টিনের চাল কিংবা ভেজা দেয়াল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

​ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে খালি হাতে স্পর্শ না করে কাঠ, শুকনো বাঁশ, কিংবা রাবারের মতো বিদ্যুৎ-অপরিবাহী বস্তু দিয়ে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। অথবা দ্রুত মূল পাওয়ার সুইচ বা মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। সচেতনতার অভাবেই এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে।

Share this news as a Photo Card