ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে ব্রাজিলের পাল্টা ব্যবস্থা

রপ্তানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের জবাবে পাল্টা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ব্রাজিল।

আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দেশটির সরকারি সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ব্রাজিলও শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

দুটি সরকারি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি পর্যালোচনার অনুমোদন দিয়েছেন। ট্রাম্প তার মিত্র জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার অভিযোগে চলমান বিচারকে কেন্দ্র করে ব্রাজিলের ওপর এই শুল্ক আরোপ করেন।

ব্রাজিলের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় ৩০ দিনের মধ্যে খতিয়ে দেখবে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক দেশটির সাম্প্রতিক ‘অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা আইনের’ আওতায় পড়ে কিনা।

একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, যদি পড়ে, তাহলে বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেবে, যার মধ্যে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, ব্রাজিল শিগগিরিই আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্তের কথা জানাবে। তবে কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে বলে সূত্রটি উল্লেখ করেছে।

গত এপ্রিলে ব্রাজিলে ‘অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা আইন’ পাস করা হয়, যা সরকারকে এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেওয়ার অনুমতি দেয়, যারা একতরফাভাবে ব্রাজিলের প্রতিযোগিতায় ক্ষতি করে। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ, বা মেধা সম্পত্তি চুক্তি স্থগিত করা। অন্য দেশের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে এটি শেষ পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

গত ৬ আগস্ট ব্রাজিলের কফি ও অন্যান্য পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক থমকে আছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা অভিযোগ করেন, ব্রাজিলের কথায় ওয়াশিংটন কর্ণপাত করছে না। তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কারও সঙ্গে কথা বলতে পারিনি।

যদিও ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ মূলত সেসব দেশকে লক্ষ্য করে করা যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে ব্রাজিলের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। ২০২৪ সালে ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম এই অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল।

ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিল্প যন্ত্রপাতি, গাড়ির ইঞ্জিন ও মহাকাশ শিল্পের যন্ত্রাংশসহ প্রচুর পরিমাণে স্টিল-ভিত্তিক পণ্য আমদানি করে। ট্রাম্প তার মিত্র জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে ‘ডাইনি খোঁজার’ বিচারকে এই ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ব্রাজিল চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছে সাহায্য চেয়েছিল।

ট্রাম্পের শুল্কে হুমকির মুখে ভারতের অর্থনীতি

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে ব্রাজিলের পাল্টা ব্যবস্থা

আপডেট সময় ১০:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

রপ্তানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের জবাবে পাল্টা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ব্রাজিল।

আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দেশটির সরকারি সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ব্রাজিলও শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

দুটি সরকারি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি পর্যালোচনার অনুমোদন দিয়েছেন। ট্রাম্প তার মিত্র জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার অভিযোগে চলমান বিচারকে কেন্দ্র করে ব্রাজিলের ওপর এই শুল্ক আরোপ করেন।

ব্রাজিলের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় ৩০ দিনের মধ্যে খতিয়ে দেখবে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক দেশটির সাম্প্রতিক ‘অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা আইনের’ আওতায় পড়ে কিনা।

একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, যদি পড়ে, তাহলে বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেবে, যার মধ্যে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, ব্রাজিল শিগগিরিই আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্তের কথা জানাবে। তবে কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে বলে সূত্রটি উল্লেখ করেছে।

গত এপ্রিলে ব্রাজিলে ‘অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা আইন’ পাস করা হয়, যা সরকারকে এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেওয়ার অনুমতি দেয়, যারা একতরফাভাবে ব্রাজিলের প্রতিযোগিতায় ক্ষতি করে। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ, বা মেধা সম্পত্তি চুক্তি স্থগিত করা। অন্য দেশের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে এটি শেষ পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

গত ৬ আগস্ট ব্রাজিলের কফি ও অন্যান্য পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক থমকে আছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা অভিযোগ করেন, ব্রাজিলের কথায় ওয়াশিংটন কর্ণপাত করছে না। তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কারও সঙ্গে কথা বলতে পারিনি।

যদিও ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ মূলত সেসব দেশকে লক্ষ্য করে করা যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে ব্রাজিলের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। ২০২৪ সালে ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম এই অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল।

ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিল্প যন্ত্রপাতি, গাড়ির ইঞ্জিন ও মহাকাশ শিল্পের যন্ত্রাংশসহ প্রচুর পরিমাণে স্টিল-ভিত্তিক পণ্য আমদানি করে। ট্রাম্প তার মিত্র জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে ‘ডাইনি খোঁজার’ বিচারকে এই ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ব্রাজিল চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছে সাহায্য চেয়েছিল।

ট্রাম্পের শুল্কে হুমকির মুখে ভারতের অর্থনীতি