সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণার পর থেকেই নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম বড় কাঁচাবাজার বহদ্দারহাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে এখন এই আলোচনাই প্রধান। বেসরকারি চাকরিজীবী মাসুদ আলম বলছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোয় তাদের আপত্তি নেই, তবে এর প্রভাব বাজারে গিয়ে পড়বে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর—বিশেষ করে বেসরকারি খাতে কর্মরত ও সাধারণ কর্মজীবীরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হবেন বলে তার আশঙ্কা।
বাদুরতলা এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ জেসমিন আকতারের কণ্ঠেও একই উদ্বেগের প্রতিধ্বনি। তিনি বলেন, এমনিতেই সব জিনিসের দাম চড়া, নতুন করে দাম বাড়লে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার পর থেকে শাকসবজি ও মাছ-মাংসের দাম যেভাবে বেড়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি কমেনি বলে জানান তিনি।
তবে বহদ্দারহাটের এক মুদি দোকানদারের ভাষ্য কিছুটা ভিন্ন। তার মতে, বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা সবেমাত্র এসেছে বলে চাল-ডালের মতো নিত্যপণ্যের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব এখনও পড়েনি। পাইকারি বাজারে দাম বাড়লেই কেবল এর প্রভাব খুচরা পর্যায়ে দেখা যাবে। সরকার এই পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল, সবজি, মাছ, মুরগি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা থেকে এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি কৃষকরা। ফলে জেলার বাইরে থেকে আসা পণ্যের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, যার প্রভাবে কাঁচাবাজারে দাম তুলনামূলক বেশি রয়ে গেছে। তবে একজন সবজি বিক্রেতা জানান, সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ায় দাম কিছুটা কমছে, যদিও যেভাবে বেড়েছিল সেভাবে কমছে না।
বহদ্দারহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটোল, শসা, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও চালকুমড়ার সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে এবং এসব সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা ও শিম ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২২০-২৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা এবং চিংড়ি এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ইলিশের কেজি ৯০০ টাকা হলেও দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়।
চালের বাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মোটা চাল যেখানে আগে ৫১-৫২ টাকা ছিল, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৬০ টাকায়। মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যদিও বাজারভেদে দামে সামান্য হেরফের রয়েছে।
সব মিলিয়ে বেতন বৃদ্ধির সুফল সরকারি কর্মচারীদের ঘরে পৌঁছালেও, বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সেই সুফলের বোঝা গিয়ে পড়তে পারে সাধারণ মানুষের কাঁধেই—এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারগুলোয়।
সম্পা সুত্রধর,ঢাকা 











