শিরোনাম :
পূজায় তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন, পাঁচ ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি প্রত্যাহার জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যয় নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রূপপুরে প্রথমবার পারমাণবিক বিক্রিয়া, নভেম্বরের শেষে গ্রিডে বিদ্যুৎ সৌদি আরব থেকে এক সপ্তাহে বিতাড়িত ১০ হাজার বাংলাদেশি হামে ২৪ ঘণ্টায় সাত শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭৩ সেবার মান বাড়লে চিকিৎসায় বিদেশমুখী রোগীর সংখ্যা কমবে: রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি মারুবেনির বৈঠক, আলোচনায় এআই ডেটা সেন্টার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে কাজের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী মুগ্ধসহ ১১ হত্যা: ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ট্রাইব্যুনালে পাকিস্তানের খাইবারে জরুরি অবস্থা জারি, পিটিআই সরকারের কার্যক্রম স্থগিত

ভোট চুরির অভিযোগ স্বীকার ভারতের রাষ্ট্রপতির?

নির্বাচনে অনিয়ম ও কথিত ভোট চুরির অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র নেতারা। বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, অভিযোগ শুনে রাষ্ট্রপতি তা অস্বীকার করেননি, বরং প্রমাণ চেয়েছেন। এই অবস্থানে বিস্মিত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। এনডিটিভির খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

রাহুল বলেন, ‘নির্বাচনে কীভাবে চুরি করা হয়েছে, তার সব প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। গোটা দেশ তা দেখেছে।’

তবে বৈঠকের আলোচনা নিয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। রাষ্ট্রপতি ভবনের সূত্র রাহুলের বক্তব্যকে ভুল বলে দাবি করেছে। সূত্রটির ভাষ্য, ‘এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা দুর্ভাগ্যজনক।’

মিছিল থেকে বৈঠক

রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা প্রথমে সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে মিছিল করেন। শেষ পর্যন্ত ১০ জন নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। বাকিরা রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে কর্তব্যপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের হাতে ছিল ‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’ লেখা প্ল্যাকার্ড। নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ তুলে স্লোগানও দেন তাঁরা।

স্মারকলিপিতে চার দাবি

রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে বিরোধীরা চারটি দাবি তুলে ধরেছে:

১. প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের সেই আইন বাতিল, যে আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের জীবনব্যাপী দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।

২. ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত করা এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম ফিরিয়ে আনা।

৩. সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট চালু করা।

৪. গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ মিলেছে বলে বিরোধীরা দাবি করছে, সেসব নির্বাচন বাতিল করা।

বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, তাই নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার।

বিজেপির সমালোচনা

বিরোধীদের এই কর্মসূচির সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির দপ্তরকে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এটা একেবারেই স্পষ্ট যে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া এবং তা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই কংগ্রেসের একমাত্র উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে তারা যা করেছে, তাতে এই সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।’

অর্থাৎ বিজেপির দাবি, আন্দোলনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিরোধীরা বলছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই তারা মাঠে নেমেছে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, আগামী সোমবার বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাঁর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেবেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পূজায় তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন, পাঁচ ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি প্রত্যাহার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পাকিস্তানের খাইবারে জরুরি অবস্থা জারি, পিটিআই সরকারের কার্যক্রম স্থগিত

১১ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ভোট চুরির অভিযোগ স্বীকার ভারতের রাষ্ট্রপতির?

আপডেট সময় ০২:২২:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

নির্বাচনে অনিয়ম ও কথিত ভোট চুরির অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র নেতারা। বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, অভিযোগ শুনে রাষ্ট্রপতি তা অস্বীকার করেননি, বরং প্রমাণ চেয়েছেন। এই অবস্থানে বিস্মিত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। এনডিটিভির খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

রাহুল বলেন, ‘নির্বাচনে কীভাবে চুরি করা হয়েছে, তার সব প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। গোটা দেশ তা দেখেছে।’

তবে বৈঠকের আলোচনা নিয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। রাষ্ট্রপতি ভবনের সূত্র রাহুলের বক্তব্যকে ভুল বলে দাবি করেছে। সূত্রটির ভাষ্য, ‘এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা দুর্ভাগ্যজনক।’

মিছিল থেকে বৈঠক

রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা প্রথমে সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে মিছিল করেন। শেষ পর্যন্ত ১০ জন নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। বাকিরা রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে কর্তব্যপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের হাতে ছিল ‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’ লেখা প্ল্যাকার্ড। নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ তুলে স্লোগানও দেন তাঁরা।

স্মারকলিপিতে চার দাবি

রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে বিরোধীরা চারটি দাবি তুলে ধরেছে:

১. প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের সেই আইন বাতিল, যে আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের জীবনব্যাপী দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।

২. ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত করা এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম ফিরিয়ে আনা।

৩. সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট চালু করা।

৪. গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ মিলেছে বলে বিরোধীরা দাবি করছে, সেসব নির্বাচন বাতিল করা।

বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, তাই নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার।

বিজেপির সমালোচনা

বিরোধীদের এই কর্মসূচির সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির দপ্তরকে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এটা একেবারেই স্পষ্ট যে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া এবং তা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই কংগ্রেসের একমাত্র উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে তারা যা করেছে, তাতে এই সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।’

অর্থাৎ বিজেপির দাবি, আন্দোলনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিরোধীরা বলছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই তারা মাঠে নেমেছে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, আগামী সোমবার বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাঁর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেবেন।

Share this news as a Photo Card