ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলা প্রায় সাড়ে ৪০ লাখ : আইনমন্ত্রী

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন বা নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি। এ বিপুল মামলার জট দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ময়মনসিংহ-৬ আসনের বিরোধী দলের সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) কামরুল হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। গৃহীত পদক্ষেপগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনগণ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে বলে সরকার আশাবাদী। এছাড়া মামলার জট কমানো ও ন্যায়বিচারের মান উন্নয়নে জনগণের যে কোনো সুপারিশও আইন মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

তিনি জানান, ‘দ্য কোড অব সিভিল প্রসিডিউর, ১৯০৮’-এ যুগোপযোগী সংশোধন আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘দ্য কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাস হয়েছে। এতে এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে আরজি ও লিখিত জবাব দাখিল এবং সরাসরি জেরা করার বিধানও সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিক্রি জারির জন্য পৃথক মামলা না করে মূল মামলায় সরাসরি দরখাস্ত দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ফৌজদারি মামলার দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ও পাস হয়েছে। এতে মামলার কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমাতে পলাতক আসামির ক্ষেত্রে প্রক্লেমেশন অ্যান্ড অ্যাটাচমেন্ট প্রক্রিয়া পরিহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। সমন জারিতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহারও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০-এর আওতায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং আসামির দোষ স্বীকারোক্তি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, মামলার জট নিরসনে ইতোমধ্যে ৮৭১টি আদালত সৃষ্টি এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে এবং ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৭০৮ জন বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। আরও ৫৫৩ জন কর্মচারীর নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আসাদুজ্জামান জানান, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাসহ আলোচিত মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম দ্রুত করতে সলিসিটরের সভাপতিত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইনগত সহায়তা সেবা জোরদারে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তার জন্য ‘১৬৬৯৯’ হটলাইন চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অধস্তন ও উচ্চ আদালতের কজলিস্ট শতভাগ অনলাইনে আনা হয়েছে। ফলে মানুষ ঘরে বসেই মামলার তারিখ জানতে পারছে। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং হয়রানি কমেছে।

আইনমন্ত্রী জানান, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলার ১০২টি ইউনিয়নে মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম শিগগিরই চালু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত জালিয়াতি রোধ এবং এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা হ্রাস পাবে।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলা প্রায় সাড়ে ৪০ লাখ : আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন বা নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি। এ বিপুল মামলার জট দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ময়মনসিংহ-৬ আসনের বিরোধী দলের সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) কামরুল হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। গৃহীত পদক্ষেপগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনগণ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে বলে সরকার আশাবাদী। এছাড়া মামলার জট কমানো ও ন্যায়বিচারের মান উন্নয়নে জনগণের যে কোনো সুপারিশও আইন মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

তিনি জানান, ‘দ্য কোড অব সিভিল প্রসিডিউর, ১৯০৮’-এ যুগোপযোগী সংশোধন আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘দ্য কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাস হয়েছে। এতে এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে আরজি ও লিখিত জবাব দাখিল এবং সরাসরি জেরা করার বিধানও সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিক্রি জারির জন্য পৃথক মামলা না করে মূল মামলায় সরাসরি দরখাস্ত দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ফৌজদারি মামলার দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ও পাস হয়েছে। এতে মামলার কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমাতে পলাতক আসামির ক্ষেত্রে প্রক্লেমেশন অ্যান্ড অ্যাটাচমেন্ট প্রক্রিয়া পরিহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। সমন জারিতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহারও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০-এর আওতায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং আসামির দোষ স্বীকারোক্তি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, মামলার জট নিরসনে ইতোমধ্যে ৮৭১টি আদালত সৃষ্টি এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে এবং ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৭০৮ জন বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। আরও ৫৫৩ জন কর্মচারীর নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আসাদুজ্জামান জানান, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাসহ আলোচিত মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম দ্রুত করতে সলিসিটরের সভাপতিত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইনগত সহায়তা সেবা জোরদারে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তার জন্য ‘১৬৬৯৯’ হটলাইন চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অধস্তন ও উচ্চ আদালতের কজলিস্ট শতভাগ অনলাইনে আনা হয়েছে। ফলে মানুষ ঘরে বসেই মামলার তারিখ জানতে পারছে। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং হয়রানি কমেছে।

আইনমন্ত্রী জানান, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলার ১০২টি ইউনিয়নে মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম শিগগিরই চালু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত জালিয়াতি রোধ এবং এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা হ্রাস পাবে।