ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে চলমান বার্তার বার্তা বিভাগ ১৬-২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় কোন সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ২৬ মার্চ থেকে যথারীতি সংবাদ পরিবেশিত হবে। কর্তৃপক্ষ ব্রডশিট জবাব না দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এমপিও স্থগিত ক্রেডিট কার্ডের নতুন গাইডলাইন ৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ ইরানে সাড়ে ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে একই পরিবারের ১২ জনসহ ১৩ জন নিহত রাষ্ট্রপতিকে প্রত্যাখ্যান করেছি : জামায়াত আমির রোববার ১১টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা ‘কিলার চুপ্পু’ স্লোগানে উত্তাল সংসদ দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল আওয়ামী লীগ : রাষ্ট্রপতি

মোংলায় যুবদলের বিরুদ্ধে ৮০ একর মাছের ঘের জবর দখলের অভিযোগ

মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের নারকেলতলা আবাসন সংলগ্ন পাকখালী এলাকায় ৮০ একরের একটি চিংড়ী মাছের ঘের যুবদল নামধারী এক দল সশস্ত্র ক্যাডার জবর দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী শেখ আঃ সালাম ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর এস এম জিহাদুজ্জামানের যৌথ মালিকানাধীন এ মাছের ঘেরে যুবদল নামধারী একদল ক্যাডার মোটর সাইকেল যোগে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে হামলা চালিয়ে ঘেরটি জবর দখল করে নেয়। এ সময় দখলে বাঁধা দিলে দখলকারী ক্যাডাররা চৌকিদারদের গালিগালাজ ও মারপিট করার চেষ্টাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘের থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় থানা পুলিশে অভিযোগ দেওয়া হলেও ঘেরটি ক্যাডার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়নি।
এলাকাবাসী, ভূক্তভোগী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সাল থেকে মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আঃ সালাম জমির মালিকদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে নিয়মিতভাবে হাড়ির (ইজারা) টাকা পরিশোধ করে ওই জমিতে চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ মাছ চাষ করে আসছেন। এরপর ২০১৭ সালে শেখ আঃ সালাম ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর এস এম জিহাদুজ্জামান যৌথ মালিকানায় ওই জমিতে মাছের চাষাবাদ করে আসছে। সর্বশেষ জমির মালিকদের কাছ থেকে আগামি ২০২৭ সাল পর্যন্ত ওই ঘেরের লিজ নেওয়া হয়। চলতি মৌসুমে ঘেরে চাষের জন্য ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসে কয়েক দফায় কয়েক লাখ টাকার বাগদা, গলদা, চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছের পোনা ছাড়া হয়।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে এ চিংড়ি ঘেরটির উপর যুবদল নামধারী একটি মহলের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে ঘেরটি জবর দখলের কয়েকবার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রয়াত মোংলা পৌর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ফকির আব্দুস সালামের ছেলে পৌর যুবদল নেতা মোঃ সুমন ফকির ও তার সহযোগী সোহাগ শেখের নেতৃত্বে যুবদল নামধারী ১৪/১৫ জনের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী মোটর সাইকেলে মহড়া দিয়ে ওই ঘেরটি জবর দখল করে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ঘেরটি জবর দখলকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সুমন ফকির বলেন, ওই ঘেরে তার প্রয়াত পিতা ও স্বজনদের বেশ কিছু জমি রয়েছে। তারা তাদের জমিতে ঘের করতে গিয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি মোংলা পৌর বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক মোঃ এমরান হোসেনের নামে ওই ঘেরের নতুন ডিড করা হয়েছে বলে জানান। যদিও এমরান হোসেন জানিয়েছেন, ওই ঘেরের সাথে তিনি কোনভাবেই সমম্পৃক্ত নন। নাম ভাঙ্গিয়ে তার সুনাম ক্ষুন্ন করা হচ্ছে।
মোংলা থানার ওসি মোঃ আনিসুর রহমান বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, জায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয়ের বিরোধ দেখা পুলিশের কাজ নয়। পুলিশের মোংলা-রামপাল সার্কেলের এএসপি মুশফিকুর রহমান তুষার বলেন, এ ব্যাপারে থানায় দেয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থালে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত করে দেখছে ঘেরটি আসল মালিক কে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাস পুলিশের এ কর্মকর্তার।
ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে চলমান বার্তার বার্তা বিভাগ ১৬-২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় কোন সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ২৬ মার্চ থেকে যথারীতি সংবাদ পরিবেশিত হবে। কর্তৃপক্ষ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মোংলায় যুবদলের বিরুদ্ধে ৮০ একর মাছের ঘের জবর দখলের অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫
মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের নারকেলতলা আবাসন সংলগ্ন পাকখালী এলাকায় ৮০ একরের একটি চিংড়ী মাছের ঘের যুবদল নামধারী এক দল সশস্ত্র ক্যাডার জবর দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী শেখ আঃ সালাম ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর এস এম জিহাদুজ্জামানের যৌথ মালিকানাধীন এ মাছের ঘেরে যুবদল নামধারী একদল ক্যাডার মোটর সাইকেল যোগে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে হামলা চালিয়ে ঘেরটি জবর দখল করে নেয়। এ সময় দখলে বাঁধা দিলে দখলকারী ক্যাডাররা চৌকিদারদের গালিগালাজ ও মারপিট করার চেষ্টাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘের থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় থানা পুলিশে অভিযোগ দেওয়া হলেও ঘেরটি ক্যাডার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়নি।
এলাকাবাসী, ভূক্তভোগী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সাল থেকে মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আঃ সালাম জমির মালিকদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে নিয়মিতভাবে হাড়ির (ইজারা) টাকা পরিশোধ করে ওই জমিতে চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ মাছ চাষ করে আসছেন। এরপর ২০১৭ সালে শেখ আঃ সালাম ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর এস এম জিহাদুজ্জামান যৌথ মালিকানায় ওই জমিতে মাছের চাষাবাদ করে আসছে। সর্বশেষ জমির মালিকদের কাছ থেকে আগামি ২০২৭ সাল পর্যন্ত ওই ঘেরের লিজ নেওয়া হয়। চলতি মৌসুমে ঘেরে চাষের জন্য ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসে কয়েক দফায় কয়েক লাখ টাকার বাগদা, গলদা, চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছের পোনা ছাড়া হয়।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে এ চিংড়ি ঘেরটির উপর যুবদল নামধারী একটি মহলের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে ঘেরটি জবর দখলের কয়েকবার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রয়াত মোংলা পৌর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ফকির আব্দুস সালামের ছেলে পৌর যুবদল নেতা মোঃ সুমন ফকির ও তার সহযোগী সোহাগ শেখের নেতৃত্বে যুবদল নামধারী ১৪/১৫ জনের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী মোটর সাইকেলে মহড়া দিয়ে ওই ঘেরটি জবর দখল করে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ঘেরটি জবর দখলকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সুমন ফকির বলেন, ওই ঘেরে তার প্রয়াত পিতা ও স্বজনদের বেশ কিছু জমি রয়েছে। তারা তাদের জমিতে ঘের করতে গিয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি মোংলা পৌর বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক মোঃ এমরান হোসেনের নামে ওই ঘেরের নতুন ডিড করা হয়েছে বলে জানান। যদিও এমরান হোসেন জানিয়েছেন, ওই ঘেরের সাথে তিনি কোনভাবেই সমম্পৃক্ত নন। নাম ভাঙ্গিয়ে তার সুনাম ক্ষুন্ন করা হচ্ছে।
মোংলা থানার ওসি মোঃ আনিসুর রহমান বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, জায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয়ের বিরোধ দেখা পুলিশের কাজ নয়। পুলিশের মোংলা-রামপাল সার্কেলের এএসপি মুশফিকুর রহমান তুষার বলেন, এ ব্যাপারে থানায় দেয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থালে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত করে দেখছে ঘেরটি আসল মালিক কে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাস পুলিশের এ কর্মকর্তার।