রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে আজ শনিবার সকালে দেখা গেল চেনা এক দৃশ্য। ভ্যানে উঠছে খাট, আলমারি আর ঘরের টুকিটাকি জিনিস। যাঁরা এসব তুলছেন, তাঁরা সরকারি কর্মচারী নন, সাবলেটে থাকা কলেজছাত্রী। সরকারি বাসায় ভাড়াটে রাখার বিরুদ্ধে সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজই, ৩১ অক্টোবর। সেই তাড়ায় নতুন ঠিকানা খুঁজে না পেয়েও তাঁদের বাসা ছাড়তে হচ্ছে।
যা বলছেন শিক্ষার্থীরা
কলোনির একটি ভবনে সাবলেট থাকতেন ইডেন মহিলা কলেজের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী। বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি ভ্যানে জিনিসপত্র তুলছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ২২ অক্টোবর হঠাৎ বাড়িওয়ালা বাসা ছাড়ার নোটিশ দেন। তখন তিনি দুর্গাপূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে। ২৬ অক্টোবর ঢাকায় ফিরে আর বাসায় থাকতে পারেননি। এরপর কয়েক দিন যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই রাত কাটিয়েছেন। বাড়িওয়ালা ৩১ তারিখের মধ্যে জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে বলেছেন।
ডিসেম্বরেই তাঁদের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এই অবস্থায় প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন, সেটাই এখন তাঁর বড় প্রশ্ন। মানসিক ধকল কাটাতে অন্তত এক মাস লাগবে বলে মনে করেন তিনি। নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় আছেন।
তাঁর কথায়, বাসাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল মুখের কথার চুক্তিতে। শর্ত ছিল, ছাড়তে হলে বাড়িওয়ালা অন্তত দুই মাস আগে জানাবেন। এখন সেই শর্তের কিছুই মানা হচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ।
একই ভবনে থাকতেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের তৃতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগও প্রায় একই। বাসা ছাড়ার নির্দেশের পর থেকে কোনো দিশা পাচ্ছেন না। প্রতিদিন রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বাসা খুঁজেছেন। এতে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কলেজের হলে ওঠার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হলে আসন পাননি বলেই তো তাঁদের বাইরে ভাড়া থাকতে হচ্ছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে ছাত্রীদের জন্য হলে আসন বরাদ্দ করা হোক, যাতে পরের শিক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগে পড়তে না হয়।
সরকারি নির্দেশনায় কী আছে
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বলা হয়, যেসব সরকারি চাকরিজীবী নিজে না থেকে বাসা সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন, তাঁদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটেদের সরাতে হবে। যাঁর নামে বাসা বরাদ্দ, তাঁকেই সেখানে থাকতে হবে।
সময়সীমার পরও কোনো ফ্ল্যাটে সাবলেট বা ভাড়াটে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বাসা বরাদ্দ বাতিল হবে। তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
ভবন কমিটির বক্তব্য
২২ নম্বর ভবনের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বলেন, এই ভবনে বেশির ভাগই কম বেতনের কর্মচারী। কেউ কেউ হয়তো একটি কক্ষ ভাড়া দিয়েছিলেন, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ইতিমধ্যে সবাইকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখন আর কোনো ভাড়াটে নেই।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















