ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবারো রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী

রাজধানীর পল্টন থানার মানবপাচার মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফের ছয় দিন রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।

এদিন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে হাজির করে ফের সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আজ আসামি মাসুদকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে তোলা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে পুলিশের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ও মহানগর দায়রা পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এ মামলার ১২ নম্বর আসামি এস এম রফিক গত বছরের ১ ডিসেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, নূর আলী, সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, নিজাম হাজারী, হাসিনার পিএস আলাউদ্দিন নাসিম, গোলাম মোস্তফা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতেন।

পিপি শুনানিতে বলেন, শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাও সিন্ডিকেটের সুবিধাভোগী এবং মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু তখনকার প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ ও সাবেক সচিব মাসুদ উদ্দিন সিদ্দিকসহ কয়েকজন মিলে সিন্ডিকেট করেন। সবাই মিলে ‘রেহানা ও জয়কে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ব্যবহার করে’ ২৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন।

শুনানিতে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আরও বলেন, মালয়েশিয়া পাঠাতে কর্মীদের কাছ থেকে ৭৮ হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা থাকলেও তারা সিন্ডিকেট করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা করে নিয়ে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এ কারণে মালয়েশিয়া সরকার লোক নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এটা আমাদের জাতীয় স্বার্থ। লোক পাঠাতে পারলে কোটি কোটি টাকা আসত।

এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় থাকা আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, একদম, ফালতু কথা।

গত সোমবার (২৩ মার্চ) দিনগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে মানবপাচারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ওই বছরে এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ২০০৮ সালের জুনে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার করে পাঠানো হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রাখে।

২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতার সাক্ষাৎ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আবারো রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী

আপডেট সময় ০৮:০২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর পল্টন থানার মানবপাচার মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফের ছয় দিন রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।

এদিন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে হাজির করে ফের সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আজ আসামি মাসুদকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে তোলা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে পুলিশের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ও মহানগর দায়রা পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এ মামলার ১২ নম্বর আসামি এস এম রফিক গত বছরের ১ ডিসেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, নূর আলী, সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, নিজাম হাজারী, হাসিনার পিএস আলাউদ্দিন নাসিম, গোলাম মোস্তফা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতেন।

পিপি শুনানিতে বলেন, শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাও সিন্ডিকেটের সুবিধাভোগী এবং মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু তখনকার প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ ও সাবেক সচিব মাসুদ উদ্দিন সিদ্দিকসহ কয়েকজন মিলে সিন্ডিকেট করেন। সবাই মিলে ‘রেহানা ও জয়কে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ব্যবহার করে’ ২৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন।

শুনানিতে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আরও বলেন, মালয়েশিয়া পাঠাতে কর্মীদের কাছ থেকে ৭৮ হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা থাকলেও তারা সিন্ডিকেট করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা করে নিয়ে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এ কারণে মালয়েশিয়া সরকার লোক নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এটা আমাদের জাতীয় স্বার্থ। লোক পাঠাতে পারলে কোটি কোটি টাকা আসত।

এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় থাকা আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, একদম, ফালতু কথা।

গত সোমবার (২৩ মার্চ) দিনগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে মানবপাচারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ওই বছরে এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ২০০৮ সালের জুনে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার করে পাঠানো হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রাখে।

২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।