যেভাবে ৫০ কোটি ডলারের মার্কিন নজরদারি বিমান ধ্বংস হয় ইরানী হামলায়

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এক হামলায় সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সামরিক সম্পদ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের একটি আকাশভিত্তিক যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ বিমান বা সামরিক নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে।

ধ্বংস হওয়া বিমানটি হলো বোয়িং ই-৩ সেনট্রি, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নজরদারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। এই বিমানটি আকাশে ভাসমান অবস্থায় শত শত মাইল দূরের যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ, শত্রুপক্ষের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত এবং সামরিক অভিযান সমন্বয়ের কাজ করে। খবর দ্যা টেলিগ্রাফের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটির উপরের রাডার ডোম বা ‘ফ্লাইং সসার’ অংশে সরাসরি আঘাত হানা হয়, যা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত লক্ষ্যভেদ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরান ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বেশি নির্ভুল।

এই হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী একাধিক বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, হামলার আগে সৌদি ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি ইরানকে সরবরাহ করেছে রাশিয়া। তার মতে, এটি ইরানের হামলার নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।

এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৬টি এ ধরনের বিমান ছিল, যার একটি হারানোয় সক্ষমতা কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বিমান দ্রুত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। নতুন বিকল্প বোয়িং ই-৭ ওয়েজটেইল তৈরি করতে খরচ আরও বেশি এবং উৎপাদনও সীমিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা প্রমাণ করে যে, ইরান এখনও শক্তিশালী পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমণ সত্ত্বেও তাদের সামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।

একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির সময় এমন হামলা তাদের চিন্তা বাড়িয়েছে। এখন অবশিষ্ট বিমানগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়বে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ‘ব্লাইন্ড স্পট’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চাপ বজায় রেখেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এটি দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

যেভাবে ৫০ কোটি ডলারের মার্কিন নজরদারি বিমান ধ্বংস হয় ইরানী হামলায়

আপডেট সময় ০৬:০২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এক হামলায় সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সামরিক সম্পদ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের একটি আকাশভিত্তিক যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ বিমান বা সামরিক নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে।

ধ্বংস হওয়া বিমানটি হলো বোয়িং ই-৩ সেনট্রি, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নজরদারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। এই বিমানটি আকাশে ভাসমান অবস্থায় শত শত মাইল দূরের যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ, শত্রুপক্ষের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত এবং সামরিক অভিযান সমন্বয়ের কাজ করে। খবর দ্যা টেলিগ্রাফের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটির উপরের রাডার ডোম বা ‘ফ্লাইং সসার’ অংশে সরাসরি আঘাত হানা হয়, যা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত লক্ষ্যভেদ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরান ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বেশি নির্ভুল।

এই হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী একাধিক বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, হামলার আগে সৌদি ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি ইরানকে সরবরাহ করেছে রাশিয়া। তার মতে, এটি ইরানের হামলার নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।

এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৬টি এ ধরনের বিমান ছিল, যার একটি হারানোয় সক্ষমতা কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বিমান দ্রুত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। নতুন বিকল্প বোয়িং ই-৭ ওয়েজটেইল তৈরি করতে খরচ আরও বেশি এবং উৎপাদনও সীমিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা প্রমাণ করে যে, ইরান এখনও শক্তিশালী পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমণ সত্ত্বেও তাদের সামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।

একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির সময় এমন হামলা তাদের চিন্তা বাড়িয়েছে। এখন অবশিষ্ট বিমানগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়বে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ‘ব্লাইন্ড স্পট’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চাপ বজায় রেখেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এটি দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

Share this news as a Photo Card