সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠছিল, আর এবার সেই সংশয়কে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল খোদ সরকারের নিজস্ব সংস্থাই। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ—আইএমইডি—তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের সময় অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাবে ব্যাপকভাবে কারসাজি করা হয়। বাস্তবসম্মত তথ্যের বদলে অনুমাননির্ভর হিসাবে অনেক অলাভজনক প্রকল্পকেও কাগজে-কলমে লাভজনক দেখিয়ে অনুমোদন করানো হচ্ছে, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সরকারের রাজকোষ ও সাধারণ মানুষকে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভার শিরোনাম ছিল, ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং সুপারিশ’। সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শকিল আখতার, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আইএমইডির প্রতিবেদনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মোট ১৮টি প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একটি প্রকল্প শুরু হওয়া থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ধাপেই রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা, তথ্যের কারসাজি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের ছাপ।
ব্যয় ও ঝুঁকি আড়াল করার কৌশল
প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে প্রকল্প অনুমোদনের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কারসাজির চিত্র। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রকল্প অনুমোদন পেতে হলে তার অভ্যন্তরীণ আয়ের হার বা আইআরআরকে প্রচলিত ১১ শতাংশ ডিসকাউন্ট ফ্যাক্টরের চেয়ে বেশি হতে হয়। এনপিভি, আইআরআর ও বিসিআরের মতো সূচকগুলোই মূলত নির্ধারণ করে একটি প্রকল্প আর্থিকভাবে কতটা টেকসই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে তথ্য বদলে ফেলা হয়। প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা যা-ই হোক না কেন, কাগজে তাকে আকর্ষণীয় ও লাভজনক করে তোলাই যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল লক্ষ্য।
শুধু তা-ই নয়, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে আইএমইডি। প্রকল্পের মাধ্যমে আসা অর্থের সময়মূল্য, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং কাজ শেষ হওয়ার পর রক্ষণাবেক্ষণের যে বিপুল খরচ হবে—এসব বিষয় যথাযথভাবে হিসাবের মধ্যে আনা হয় না। ফলে অনুমোদনের সময় যে আর্থিক সুফলের কথা বলা হয়, বাস্তবে তা অর্জন করা প্রায়ই সম্ভব হয় না। এই অসংগতির কারণে সরকার বারবার ভুল বা দুর্বল প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত সরকারি সম্পদের অপচয়েই রূপ নিচ্ছে।
সমীক্ষা ছাড়াই অনুমোদন, ফল বিপর্যয়কর
আইএমইডির প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার আগে তার গুরুত্ব যাচাইয়ে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা অপরিহার্য। অথচ বাস্তবে অধিকাংশ প্রকল্প গ্রহণের আগে কোনো পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষাই হয় না। যেক্ষেত্রে সমীক্ষা করা হয়, সেখানেও দক্ষ বা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের সম্পৃক্ততা থাকে না বললেই চলে, ফলে তথ্যের মানও থাকে প্রশ্নবিদ্ধ। কাজ শুরুর পর দেখা যায়, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পরিকল্পনার কোনো মিল নেই। তখন বারবার নকশা ও ব্যয় পরিবর্তন করতে হয়, যাতে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় দুটোই অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
একই সমস্যা দেখা যায় প্রকল্প এলাকা নির্বাচনেও। স্থানীয় মানুষের বাস্তব অবস্থা বা ভৌগোলিক পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই অনেক সময় প্রকল্প পরিকল্পনা করা হয়। এর ফলে বাস্তবায়নের সময় জমির সমস্যা কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক জটিলতায় কাজ আটকে যায়। তখন মাঝপথেই নকশা ও কাজের পরিধি বদলাতে বাধ্য হতে হয়, যা প্রকল্পের সামগ্রিক গুণগত মান কমিয়ে দেয়।
ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় থমকে যায় কাজ
প্রতিবেদনে ভূমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রতাকে প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জমি হাতে পাওয়ার আগেই প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভূমি অধিগ্রহণের জটিল প্রক্রিয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরুই করা যায় না। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং সঠিক বাজারমূল্য নির্ধারণে বিলম্বের কারণে ক্ষতিপূরণ প্রদানেও দেরি হয়। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ভূমি হস্তান্তর প্রক্রিয়াও দীর্ঘায়িত হয়। এসবের সম্মিলিত প্রভাবে নির্মাণকাজ আটকে থাকে, প্রকল্পের সামগ্রিক বাস্তবায়ন ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং ব্যয় অহেতুক বেড়ে যায়।
প্রকল্প অনুমোদনের তারিখ ও বাস্তবায়ন মেয়াদের মধ্যেও কোনো সামঞ্জস্য থাকে না বলে জানিয়েছে আইএমইডি। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনুমোদন পেতেই অনেক সময় পার হয়ে যায়, ফলে কাজ শুরু করতে করতেই প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদের বড় অংশ ফুরিয়ে যায়। এরপর সময়ের চাপে তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে গিয়ে কমে যায় নির্মাণের মান। বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর এই দুষ্টচক্রে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর সাধারণ মানুষ বঞ্চিত থেকে যায় প্রকল্পের প্রকৃত সুফল থেকে।
অর্থায়ন নিশ্চিত না করেই প্রকল্প গ্রহণ
আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত না করেই অনেক সময় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। টাকা আসলে কোথা থেকে আসবে—তা স্পষ্ট না থাকায় প্রকল্পের মাঝপথে দেখা দেয় অর্থসংকট, যা বাস্তবায়নে বিলম্ব ডেকে আনে। মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর ব্যয়সীমাও অনেক সময় বিবেচনায় নেওয়া হয় না। প্রকল্প দলিলে যে ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দের সঙ্গে তার কোনো মিল থাকে না বললেই চলে। ফলে প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে গিয়ে প্রয়োজন হয় বাড়তি বরাদ্দের। এমনকি একই ধরনের কাজের জন্য একাধিক মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে প্রকল্প গ্রহণ করে, যাতে সম্পদের অপচয় আরও বাড়ে।
আরেকটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হলো, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, গাড়ি কেনা, অফিস পরিচালনা কিংবা জনবলের বেতনের মতো রাজস্বধর্মী খরচ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়। নিয়ম অনুযায়ী এসব খরচ আসার কথা রাজস্ব বাজেট থেকে, কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থে তা মেটানোর ফলে প্রকল্পের মূল কাজই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এসব কার্যক্রম রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও থাকে না, ফলে সরকারি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না।
নেতৃত্ব সংকট ও জবাবদিহির ঘাটতি
প্রশাসনিক অদক্ষতার চিত্রও উঠে এসেছে আইএমইডির বিশ্লেষণে। একই কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়, আবার দক্ষ জনবল থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় অযোগ্য ব্যক্তিদের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ঘন ঘন প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনের ফলে তৈরি হয় নেতৃত্বের সংকট, কাজের ধারাবাহিকতা হারিয়ে যায় এবং জবাবদিহি কমে আসে। প্রকল্প তদারকি কমিটিগুলোর সভাও নিয়মিত হয় না। এমনকি প্রকল্প সংশোধনের প্রস্তাব আইএমইডি বা একনেকে পাঠানোর আগে এসব কমিটিতে আলোচনাও করা হয় না বললেই চলে। যথাযথ ক্রয় পরিকল্পনা ও কৌশলের অভাবে এবং বাজার বিশ্লেষণ ছাড়াই প্যাকেজিং করার কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও অর্থের অপচয় ঘটছে নিয়মিতই।
বিদেশি সহায়তা নিশ্চিত হওয়ার পরও প্রকল্প দলিল বা ডিপিপি তৈরিতে অনেক সময় নষ্ট হয়, ফলে বিদেশি সহায়তার অর্থ সময়মতো কাজে লাগানো যায় না। প্রকল্প দলিলে ক্রয় পরিকল্পনা ঠিকমতো না থাকায় এবং বাজার বিশ্লেষণ ছাড়াই কেনাকাটার প্যাকেজ তৈরি করায় সেই প্রক্রিয়ারও গতি কমে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পে এর কোনো প্রতিফলনই দেখা যায় না প্রায় ক্ষেত্রেই, পরিবেশগত প্রভাব বিশ্লেষণও থেকে যায় উপেক্ষিত।
মূল্যায়নহীন উন্নয়ন, শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, অনেক প্রকল্পে লক্ষ্যমাত্রা বা ফলাফল মাপার কোনো সুনির্দিষ্ট সূচকই থাকে না। প্রকল্প অনুমোদনের সময় লাভের যে বিশাল হিসাব দেখানো হয়, কাজ শেষ হওয়ার পর তার প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার কোনো ব্যবস্থাই থাকে না। ফলে জনগণের অর্থ যে উদ্দেশ্যে খরচ হলো, তা সত্যিই পূরণ হয়েছে কি না—তার কোনো সঠিক মূল্যায়ন হয় না। প্রকল্প শেষে বাধ্যতামূলক সমাপ্তি প্রতিবেদন বা পিসিআর জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেকে তা দেন না। ফলে আগের প্রকল্পের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয় না, আর সরকারি বিনিয়োগের স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকে বছরের পর বছর।
সমাধানের পথ কী বলছে আইএমইডি
এই ১৮টি চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে না পারলে সরকারি বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেছে আইএমইডি। সংস্থাটির সুপারিশ হলো, তথ্যের কারসাজি বন্ধ করে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসরণ করে বাস্তবসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করা জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা এবং প্রকল্প অনুমোদনের আগেই ভূমি অধিগ্রহণ ও নকশার কাজ সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট উৎস নিশ্চিত করা এবং মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর ব্যয়সীমা মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রকল্প দলিলে বাধ্যতামূলকভাবে সঠিক ক্রয় কৌশল ও পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি যথাযথভাবে যাচাই করার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি। বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে একজন কর্মকর্তার বিপরীতে একটিমাত্র প্রকল্প বরাদ্দ এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি ‘পিডি পুল’ গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া প্রকল্প সংশোধন সর্বোচ্চ দুবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, নিয়মিত পিআইসি ও পিএসসি সভা নিশ্চিত করা এবং বাস্তবায়নের জন্য বাস্তবসম্মত সময় ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। প্রকল্প শেষে নির্ধারিত সময়ে সমাপ্তি প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং রাজস্ব খাতের নিয়মিত ব্যয় উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে, যাতে সরকারি বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করা যায়।
‘লাভ দেখানোই যেন প্রধান কৌশল’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশিদ কালবেলাকে বলেন, ‘প্রকল্পের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে লাভের হিসাব মেলানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর তথ্য ব্যবহার করা হয়। প্রায় প্রতিটি প্রকল্পেই এমনভাবে তথ্য সাজানো হয়, যাতে দেখা যায় খরচের চেয়ে আয় বেশি হবে। মূলত প্রকল্প যেন দ্রুত অনুমোদিত হয়, সেই কৌশল হিসেবেই বেশি লাভ দেখানো হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করা দরকার হলেও মিটিংগুলোতে সাধারণত কেউ তা করে না। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশন এবং আইএমইডি দায় এড়াতে পারে না।’
আইএমইডির চিহ্নিত চ্যালেঞ্জগুলোকে গতানুগতিক মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্প পাসের সময় তাদের এ বিষয়ে কথা বলা উচিত। কিন্তু প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি বা একনেকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সভায় এসব বিষয় পয়েন্ট আউট করা হয় না। প্রকল্প পাসের সময় চুপ থেকে শেষে এসে এসব কথা বলে কোনো লাভ নেই।’ পিসিআর জমা না দেওয়াকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, ‘যেসব সংস্থা আগের প্রকল্পের পিসিআর দেয়নি, তাদের নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়।’
সব মিলিয়ে আইএমইডির এই প্রতিবেদন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সামগ্রিক চিত্রকে সামনে এনেছে এক নতুন আলোয়—যেখানে পরিকল্পনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে রয়ে গেছে দুর্বলতা, কারসাজি ও জবাবদিহির ঘাটতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না হলে সরকারি বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে দেশের মানুষ, আর জনগণের করের টাকায় গড়া প্রকল্পগুলো বারবার পরিণত হবে অপচয়ের প্রতীকে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 





















