আগের সরকারের সময়ে গৃহীত প্রায় ১৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও সম্ভাব্য অনিয়ম যাচাইয়ে পৃথকভাবে পর্যালোচনা চালাচ্ছে বর্তমান সরকার। রোববার জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশি ও বিদেশি নানা উৎস থেকে ঋণ নিয়ে বিগত সরকার বিপুলসংখ্যক প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, যার দায় এখন বহন করতে হচ্ছে বর্তমান প্রশাসনকে। তিনি জানান, এসব প্রকল্পের একাংশ সংক্রান্ত মামলা ও প্রক্রিয়া এখনো আইনি ও প্রশাসনিক পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এই প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগ বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে এবং প্রতিটি আলাদাভাবে মূল্যায়নের কাজ চলমান। কিছু প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রায় সম্পন্ন হয়ে এসেছে, আবার কিছু রয়েছে মাঝপথে। প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা যাচাই শেষে ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে যেসব প্রকল্প সমাপ্তির শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে, সেগুলো বাতিলের সুযোগ আর নেই বলেও স্পষ্ট করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা বহু প্রকল্প বাদ দিচ্ছি। তবে এমন কিছু প্রকল্প আছে, যেগুলো প্রায় সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় সেগুলো শেষ করা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।’’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, এই প্রকল্পগুলোর বিপরীতে নেওয়া ঋণের কিস্তি শোধের দায়ও এখন বর্তমান সরকারের কাঁধে। তার ভাষ্যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে অতীতে কখনো এত বিপুল অঙ্কের ঋণ নেয়নি বাংলাদেশ, আর এই দায় মেটাতে গিয়ে সরকারকে যথেষ্ট কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সরকারি বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে চারটি মূলনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী— অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা, বিনিয়োগের বিপরীতে যৌক্তিক প্রতিদান আদায়, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনায় রাখা। তার অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে নেওয়া অধিকাংশ প্রকল্পে এই বিষয়গুলো যথাযথভাবে আমলে নেওয়া হয়নি, যার ফলে জনগণের অর্থ থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।
তিনি বলেন, সরকার চায় এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে, যেখান থেকে জনগণ পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা পাবে। পর্যাপ্ত সুফল না দিয়ে শুধু আর্থিক বোঝা বাড়ায়— এমন বিনিয়োগ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
আর্থিক খাতের অন্যান্য চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের অনিয়মের কথা, যা সামলাতে হচ্ছে বর্তমান প্রশাসনকে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার কথায়, ‘‘আগের আমলের সব দায়ভার আজ বহন করতে হচ্ছে সরকারকে, তার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।’’
এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি বিনিয়োগ থেকে জনকল্যাণ নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য। চারটি নীতির ভিত্তিতে চলমান বিনিয়োগ ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















