চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি

চলতি মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বহুল আলোচিত তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে দেশের সব ইউনিয়নে একযোগে ভোট না করে, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করে ধাপে ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, দেশজুড়ে তৈরি হওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আবহের অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ তফসিল দেওয়া সম্ভব। সব ইউনিয়নে একসঙ্গে ভোট করা অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে কঠিন হওয়ায় ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান কমিশনার। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পরীক্ষা থাকায়, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ও শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করায়, পরীক্ষার আগে বা পরে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
ভোটার স্থানান্তর নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া, বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে করা হয় না। ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং অনিয়ম ঠেকাতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হলেও, কমিশন এ বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। কমিশনের ভাষ্য, শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হবে।
আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করতে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন, যাতে এই পদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে বলে জানান কমিশনার। এর পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের বডি-ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি

আপডেট সময় ০৮:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বহুল আলোচিত তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে দেশের সব ইউনিয়নে একযোগে ভোট না করে, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করে ধাপে ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, দেশজুড়ে তৈরি হওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আবহের অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ তফসিল দেওয়া সম্ভব। সব ইউনিয়নে একসঙ্গে ভোট করা অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে কঠিন হওয়ায় ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান কমিশনার। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পরীক্ষা থাকায়, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ও শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করায়, পরীক্ষার আগে বা পরে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
ভোটার স্থানান্তর নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া, বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে করা হয় না। ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং অনিয়ম ঠেকাতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হলেও, কমিশন এ বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। কমিশনের ভাষ্য, শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হবে।
আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করতে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন, যাতে এই পদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে বলে জানান কমিশনার। এর পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের বডি-ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

Share this news as a Photo Card