রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে দেশকে সহনশীলতার পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ভাতারমারী ইক্ষু খামার এলাকায় বেলা ১১টা ২০ মিনিটে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠান শেষে তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, বরং আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মধ্য দিয়েই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি এবং এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
৮৬ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি বিভাগ নিয়ে আগামী বছর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জমি শিল্প মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে অনুমোদন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করায় দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তাঁর প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের এই সফরে রোববার তিনি ঠাকুরগাঁও পৌঁছান এবং শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণের পর সার্কিট হাউসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইসরাফিল শাহীন, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সিন্ডিকেট সদস্য ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের রাজনৈতিক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যান, তবে পরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি আর দেখতে চান না তিনি। এখন সমঝোতা, গণতন্ত্র ও সহনশীলতার রাজনীতিই দেশের মানুষের প্রত্যাশা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্পা সুত্রধর,ঢাকা 



















