বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ স. এর জন্ম ও ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের ভূঁইগড়, হাকিমাবাদে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী স. মহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার এ মহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মহফিলে স্বাগত বক্তব্য দেন ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট কবি, কামরুজ্জামান তরুণ। সভায় মধ্যমনি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাস মোজাদ্দেদিয়া তরীকার বর্তমান পীর মোহাম্মদ শামীম আখতার মা. জি. আ.। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামালপুরের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ বাবু, লেখক ও মাসিক ভ্রমণ পত্রিকার সম্পাদক আবু সুফিয়ান, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও কবি সূচী সৈয়দ, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মঞ্জুরুর রহমান, কবি, কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক চলমান বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুন্নবী জ্যোতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিষ্ট্রার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সৈয়দ রেজাউর রহমান, ওয়াকফ ষ্টেটের প্রশাসক সাফিজউদ্দিন আহমেদ, কবি মোহাম্মদ আমির হোসেন, কবি মোহাম্মদ শামীম মিয়াসহ প্রমুখ। গজল পরিবেশন করেন মরমী শিল্পী ঢালী মোহাম্মদ দেলোয়ার ও খালেদ হোসেন। কবিতা আবৃত্তি করেন বাবেল আহমেদ ও কবি ফজলে রাব্বি। কোরআন তেলাওয়াত করেন হাকিমাবাদ মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল মালেক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ শামীম আখতার একটি প্রবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আরবে মানবতা যখন নির্বাসিত, কাবাঘরের চারিপাশে ৩৬০টি মূর্তির অবস্থান, যে সমাজে নারীর কোন মর্যাদা ছিল না, কন্যা শিশুকে দেওয়া হতো জীবন্ত কবর, রক্তপাত ছিল যে সময়ের বীরত্বের মাপকাঠি- ঠিক সেই সময় রবিউল আওয়াল মাসের এক প্রভাতে জন্মগ্রহণ করেন মানবতার দূত হজরত মোহাম্মদ স.। এর চল্লিশ বছর পর যখন হেরা পর্বতের গুহায় অহী আসেন ঠিক তখন পুরোপুরিভাবে বদলে যায় সভ্যতা। মানুষ হয়ে উঠে মানবিক, হয়ে উঠে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ।
তিনি বলেন, যে উদ্দেশ্যে মানুষের পৃথিবীতে আগমণ, সেটা পূরণ হলেই মানুষের প্রস্থান হয় কল্যাণকর। আমাদের সেই উদ্দেশ্যকেই সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে জীবনটাকে পরিপূর্ণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাগণ নবী স. এর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে জীবন গড়তে নবীর আদর্শ অনুসরণ করার গুরুত্ব।
অনুষ্ঠানের শেষে মিলাদ পরিচালনা করেন মাওলানা মাইনুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ অলী, সুসাহিত্যিক, উচ্চ মার্গীয় কবি, পথভ্রষ্ট মানুষের আলোর দিশারী হজরত মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ (র.) প্রায় চার দশক পূর্বে এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। তখন দেশের বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিকদের পদচারণায় অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত হয়ে উঠতো। ২০১৬ সালে উনার ইন্তেকালের পর সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন বর্তমান পীর মোহাম্মদ শামীম আখতার মা. জি. আ.।
মাহমুদ, ঢাকা 





















