চলচ্চিত্র পাড়ায় উৎসবের আমেজ আর নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। শনিবার ভোরে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করে।
উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ফলাফলে চিত্রজগতের তারকাদের মধ্যে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—দুজনেই একই প্যানেলের হয়ে লড়েছিলেন, যা তাঁদের বিজয়কে আরও সুসংহত করেছে।
ভোটের পরিসংখ্যান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে ভোট গ্রহণ। শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত ছিল বিএফডিসি চত্বর। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমিতির মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ১৭টি ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হয়েছে।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে ২৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন শিবা শানু। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে বাজিমাত করেছেন জয় চৌধুরী; তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।
যারা পেলেন নতুন দায়িত্ব
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও এসেছে নতুন মুখ। সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডি এ তায়েব ও ইলিয়াস কোবরা। এবারের নির্বাচনে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নূতন ও রোজিনার অংশগ্রহণ থাকলেও তাঁরা জয়ী হতে পারেননি।
কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্য পদে যারা নির্বাচিত হয়েছেন:
-
সহসাধারণ সম্পাদক: সুব্রত।
-
সাংগঠনিক সম্পাদক: সনি রহমান।
-
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: পারভেজ চৌধুরী আবির।
-
দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক: জ্যাকি আলমগীর।
-
সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক: মারুফ আকিব।
-
কোষাধ্যক্ষ: কামরুজ্জামান কমল।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে ১১ জন শিল্পী জয়ী হয়েছেন। তাঁরা হলেন—আলী রাজ, কাবিলা, কায়েস আরজু, জেসমিন, নাসরিন, ফরহাদ, শিপন মিত্র, রাকা, চিকন আলী, শিরিন শিলা ও সুশান্ত।
‘ভোট শেষে কোর্ট-কাছারি নয়’
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিএফডিসিতে ছিল টানটান উত্তেজনা। দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল নানা চমক। নির্বাচনের আগে প্রবীণ অভিনেতা আবুল হায়াতসহ অনেক শিল্পীই আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, তা মেনে নিয়ে সবাই মিলে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে কাজ করা হয়। ভোটের মাঠের উত্তাপ কাটিয়ে এখন দেখার বিষয়, নতুন এই কমিটি শিল্পীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কতটা সফল হয়।
নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় নতুন নেতৃত্ব জানিয়েছেন, তাঁরা শিল্পীদের মানোন্নয়ন এবং সমিতির মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চান। উৎসবমুখর পরিবেশ শেষে চলচ্চিত্র পাড়ায় এখন নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে আগামীর প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছেন সব শিল্পী।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 
















