শিরোনাম :
বিকাশ-নগদ-রকেটের বাড়তি চার্জ কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ডলারের অস্ত্রকে ভোঁতা করতে রেনমিনবির পথে এগোচ্ছে চীন, কীভাবে জুলাই হত্যাকাণ্ড: আওয়ামী লীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল সকল মাদরাসায় সরকারের নতুন নির্দেশনা মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ফের উত্তাল গাজীপুর, আশুলিয়া ও মিরপুর আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৩ জেলার ৭০ চরমপন্থি চার মাসে রপ্তানি আয় ১৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ ১০ মিনিটে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, পাল্টা আক্রমণের জবাবের নির্দেশ খামেনির

বিকাশ-নগদ-রকেটের বাড়তি চার্জ কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল

মোবাইলে আর্থিক সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান বিকাশ, রকেট ও নগদের সার্ভিস চার্জ নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গ্রাহকের লেনদেনে আরোপ করা অতিরিক্ত চার্জ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ভোক্তার সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আলাদা একটি ‘মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নের বিষয়টি কেন বিবেচনা করা হবে না, রুলে সেই প্রশ্নও রয়েছে।

একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

রুলে যা জানতে চাওয়া হয়েছে

রুলের প্রথম অংশে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিকাশ, রকেট ও নগদের আরোপ করা ‘স্বেচ্ছাচারী ও অতিরিক্ত’ সার্ভিস চার্জ কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে এই চার্জ ২০২২ সালের বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রবিধানের পরিপন্থী কেন ঘোষণা করা হবে না, সেটিও বলতে বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় অংশে সার্ভিস চার্জ নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তিসংগত, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিতের কথা এসেছে। এ লক্ষ্যে গ্রাহক সুরক্ষা ও কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা চালুর জন্য নির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের বিষয়টি কেন বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।

অর্থসচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিটের পেছনের যুক্তি

গত ১০ জুলাই রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ওবাইদুল্যাহ আল মামুন। শুনানিতে তিনি নিজেই আবেদনকারীর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।

আবেদনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের এমএফএস প্রবিধানমালার আওতায় দেশে মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, যাঁদের ব্যাংক হিসাব নেই, অর্থাৎ যাঁরা ব্যাংকিং সেবার বাইরে, তাঁদের জন্যই মূলত এমএফএস সেবা চালু করা হয়েছে। অথচ সেই সেবায় অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আরোপ করা হচ্ছে, যা প্রবিধানের ২ ও ৯ বিধির পরিপন্থী বলে তাঁর দাবি। এ কারণেই তিনি রিটটি করেছেন।

ব্যাংক ও মোবাইল অ্যাপের চার্জের তুলনা

আইনজীবীর বক্তব্য, ব্যাংকের ক্ষেত্রে লেনদেনে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের চার্জ নেওয়া হয়। কিন্তু বিকাশ, রকেট ও নগদ চার্জ নিচ্ছে শতকরা হারে। তাঁর দেওয়া হিসাবে, ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে এক লাখ টাকা পাঠাতে সাধারণত ১০ টাকা খরচ হয়। আর বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাপ থেকে অন্য ব্যাংকে একই লেনদেন করলে প্রতি হাজারে ১০ টাকা হারে এক লাখ টাকায় চার্জ দাঁড়ায় এক হাজার টাকা।

এই তুলনাটি আবেদনকারীর নিজের বক্তব্য। রুলের জবাবে বিবাদীপক্ষ কী বলে, তা এখনো জানা যায়নি।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

বিকাশ-নগদ-রকেটের বাড়তি চার্জ কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

১০ মিনিটে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, পাল্টা আক্রমণের জবাবের নির্দেশ খামেনির

০১ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বিকাশ-নগদ-রকেটের বাড়তি চার্জ কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল

আপডেট সময় ০২:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

মোবাইলে আর্থিক সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান বিকাশ, রকেট ও নগদের সার্ভিস চার্জ নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গ্রাহকের লেনদেনে আরোপ করা অতিরিক্ত চার্জ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ভোক্তার সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আলাদা একটি ‘মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নের বিষয়টি কেন বিবেচনা করা হবে না, রুলে সেই প্রশ্নও রয়েছে।

একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

রুলে যা জানতে চাওয়া হয়েছে

রুলের প্রথম অংশে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিকাশ, রকেট ও নগদের আরোপ করা ‘স্বেচ্ছাচারী ও অতিরিক্ত’ সার্ভিস চার্জ কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে এই চার্জ ২০২২ সালের বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রবিধানের পরিপন্থী কেন ঘোষণা করা হবে না, সেটিও বলতে বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় অংশে সার্ভিস চার্জ নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তিসংগত, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিতের কথা এসেছে। এ লক্ষ্যে গ্রাহক সুরক্ষা ও কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা চালুর জন্য নির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের বিষয়টি কেন বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।

অর্থসচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিটের পেছনের যুক্তি

গত ১০ জুলাই রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ওবাইদুল্যাহ আল মামুন। শুনানিতে তিনি নিজেই আবেদনকারীর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।

আবেদনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের এমএফএস প্রবিধানমালার আওতায় দেশে মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, যাঁদের ব্যাংক হিসাব নেই, অর্থাৎ যাঁরা ব্যাংকিং সেবার বাইরে, তাঁদের জন্যই মূলত এমএফএস সেবা চালু করা হয়েছে। অথচ সেই সেবায় অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আরোপ করা হচ্ছে, যা প্রবিধানের ২ ও ৯ বিধির পরিপন্থী বলে তাঁর দাবি। এ কারণেই তিনি রিটটি করেছেন।

ব্যাংক ও মোবাইল অ্যাপের চার্জের তুলনা

আইনজীবীর বক্তব্য, ব্যাংকের ক্ষেত্রে লেনদেনে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের চার্জ নেওয়া হয়। কিন্তু বিকাশ, রকেট ও নগদ চার্জ নিচ্ছে শতকরা হারে। তাঁর দেওয়া হিসাবে, ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে এক লাখ টাকা পাঠাতে সাধারণত ১০ টাকা খরচ হয়। আর বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাপ থেকে অন্য ব্যাংকে একই লেনদেন করলে প্রতি হাজারে ১০ টাকা হারে এক লাখ টাকায় চার্জ দাঁড়ায় এক হাজার টাকা।

এই তুলনাটি আবেদনকারীর নিজের বক্তব্য। রুলের জবাবে বিবাদীপক্ষ কী বলে, তা এখনো জানা যায়নি।

Share this news as a Photo Card