ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের হবে : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছেন। এতে ডেনমার্কের সঙ্গে দেশটির নতুন করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি এই সুবিশাল আর্কটিক দ্বীপটিকে হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার কথাও বলেছেন। খবর বিবিসির।

খবরে বলা হয়, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লুইজিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘জাতীয় সুরক্ষার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং এটি ‘আমাদের পেতেই হবে’।

ট্রাম্প বলেন, ল্যান্ড্রি ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কোপেনহেগেনকে ক্ষুব্ধ করেছে। কোপেনহেগেন বলেছে, তারা এজন্য ব্যাখ্যা চেয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের নিজস্ব ভবিষ্যৎ আমাদেরকেই নির্ধারণ করতে হবে এবং দ্বীপটির আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে।

গভর্নর ল্যান্ড্রি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে একটি পদে কাজ করা সম্মানের।

জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রত্যাবর্তনের পর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করে এটির প্রতি তার দীর্ঘদিনের আগ্রহের বিষয়টি পুনরায় ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্প দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থান ডেনমার্ককে হতবাক করেছে। ন্যাটোর মিত্র দেশ হিসেবে ডেনমার্ক ঐতিহ্যগতভাবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে এসেছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাদের এটা সমাধান করতে হবে। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড দরকার, খনিজ সম্পদের জন্য নয়।’ ট্রাম্প বিশেষ করে নিকটবর্তী সমুদ্রে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চীন ও রাশিয়ার জাহাজের কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে ১৯৭৯ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসন চলছে, তবে তাদের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতি এখনও ডেনমার্কের হাতে রয়েছে। যদিও বেশিরভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতার পক্ষে। তবে জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ারও তীব্র বিরোধিতা করছেন গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন ল্যান্ড্রির নিয়োগকে ‘গভীর আপত্তিকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি ডেনিশ সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন ডেনিশ সম্প্রচারমাধ্যম টিভি২-কে বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ডেনমার্ক, ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ ও গ্রিনল্যান্ডের সমন্বয়ে একটি দেশ থাকবে, ততক্ষণ আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি না, যা আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করে।’

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক, তবে তা কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে।

জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, ‘একজন বিশেষ দূত নিয়োগ আমাদের কিছুই পরিবর্তন করবে না। আমরা নিজেরাই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করব। গ্রিনল্যান্ড শুধু গ্রিনল্যান্ডবাসীর এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।’

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন এক্সে এক পোস্টে বলেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি জানায় ইইউ।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের হবে : ট্রাম্প

আপডেট সময় ১১:৪৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছেন। এতে ডেনমার্কের সঙ্গে দেশটির নতুন করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি এই সুবিশাল আর্কটিক দ্বীপটিকে হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার কথাও বলেছেন। খবর বিবিসির।

খবরে বলা হয়, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লুইজিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘জাতীয় সুরক্ষার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং এটি ‘আমাদের পেতেই হবে’।

ট্রাম্প বলেন, ল্যান্ড্রি ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কোপেনহেগেনকে ক্ষুব্ধ করেছে। কোপেনহেগেন বলেছে, তারা এজন্য ব্যাখ্যা চেয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের নিজস্ব ভবিষ্যৎ আমাদেরকেই নির্ধারণ করতে হবে এবং দ্বীপটির আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে।

গভর্নর ল্যান্ড্রি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে একটি পদে কাজ করা সম্মানের।

জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রত্যাবর্তনের পর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করে এটির প্রতি তার দীর্ঘদিনের আগ্রহের বিষয়টি পুনরায় ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্প দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থান ডেনমার্ককে হতবাক করেছে। ন্যাটোর মিত্র দেশ হিসেবে ডেনমার্ক ঐতিহ্যগতভাবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে এসেছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাদের এটা সমাধান করতে হবে। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড দরকার, খনিজ সম্পদের জন্য নয়।’ ট্রাম্প বিশেষ করে নিকটবর্তী সমুদ্রে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চীন ও রাশিয়ার জাহাজের কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে ১৯৭৯ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসন চলছে, তবে তাদের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতি এখনও ডেনমার্কের হাতে রয়েছে। যদিও বেশিরভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতার পক্ষে। তবে জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ারও তীব্র বিরোধিতা করছেন গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন ল্যান্ড্রির নিয়োগকে ‘গভীর আপত্তিকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি ডেনিশ সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন ডেনিশ সম্প্রচারমাধ্যম টিভি২-কে বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ডেনমার্ক, ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ ও গ্রিনল্যান্ডের সমন্বয়ে একটি দেশ থাকবে, ততক্ষণ আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি না, যা আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করে।’

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক, তবে তা কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে।

জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, ‘একজন বিশেষ দূত নিয়োগ আমাদের কিছুই পরিবর্তন করবে না। আমরা নিজেরাই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করব। গ্রিনল্যান্ড শুধু গ্রিনল্যান্ডবাসীর এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।’

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন এক্সে এক পোস্টে বলেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি জানায় ইইউ।