ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের ঘুম হারাম, বহুমুখী সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সময়টা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ, নিজ দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ, এসব মিলিয়ে তার প্রশাসন এখন বহুমুখী সংকটের মুখে। কার্যত পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ঘুম হারাম’ করে তুলেছে।

যুদ্ধের বিস্তার ও কৌশলগত চাপ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ওপর ধারাবাহিক বিমান হামলার জবাবে তেহরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে। ইরান কার্যত এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে।

ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাধা না সরালে তাদের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথাও বলেছেন, যা সরাসরি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক প্রভাব

যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক মাসে প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ১১৬ ডলারের বেশি ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ, খাদ্যদ্রব্যের মূল্য এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়, যা সাধারণ জনগণের অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

‘নো কিংস’ বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপ

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের মতো বড় আকারের বিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বড় বড় শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা ইরান যুদ্ধ, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। অনেক জায়গায় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।

হোয়াইট হাউস যদিও এসব বিক্ষোভকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে, তবুও এটি জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিস্থিতি সহজ নয়। একদিকে সৌদি আরব, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই মিত্র দেশগুলোর ওপরও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

পাশাপাশি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখনও কোনো স্থায়ী সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক তিন ক্ষেত্রেই একযোগে চাপের মুখে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

বর্তমান বাস্তবতায়, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যুদ্ধ ও কূটনীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতার সাক্ষাৎ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ট্রাম্পের ঘুম হারাম, বহুমুখী সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০২:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সময়টা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ, নিজ দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ, এসব মিলিয়ে তার প্রশাসন এখন বহুমুখী সংকটের মুখে। কার্যত পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ঘুম হারাম’ করে তুলেছে।

যুদ্ধের বিস্তার ও কৌশলগত চাপ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ওপর ধারাবাহিক বিমান হামলার জবাবে তেহরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে। ইরান কার্যত এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে।

ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাধা না সরালে তাদের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথাও বলেছেন, যা সরাসরি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক প্রভাব

যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক মাসে প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ১১৬ ডলারের বেশি ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ, খাদ্যদ্রব্যের মূল্য এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়, যা সাধারণ জনগণের অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

‘নো কিংস’ বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপ

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের মতো বড় আকারের বিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বড় বড় শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা ইরান যুদ্ধ, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। অনেক জায়গায় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।

হোয়াইট হাউস যদিও এসব বিক্ষোভকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে, তবুও এটি জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিস্থিতি সহজ নয়। একদিকে সৌদি আরব, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই মিত্র দেশগুলোর ওপরও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

পাশাপাশি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখনও কোনো স্থায়ী সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক তিন ক্ষেত্রেই একযোগে চাপের মুখে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

বর্তমান বাস্তবতায়, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যুদ্ধ ও কূটনীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।