ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

যুক্তরাষ্ট্রের আরও চারটি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করলো ইরান

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) নতুন করে এই তালিকায় যোগ হয়েছে আরও দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ও দুটি হেলিকপ্টার। ইরানের সামরিক বাহিনীর সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এই খবর দিয়েছে।

আজ রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন উদ্ধার অভিযানের পর ইরানি বাহিনী দক্ষিণ ইস্পাহানে দুটি সি-১৩০ সামরিক বিমান এবং দুটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে।

এর আগে, গত শুক্রবার আলাদা দুটি ঘটনায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৫ এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া মার্কিন মানববাহী বিমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল সাতে। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। তবে আজকের ধ্বংস হওয়া বিমানের সংখ্যা যোগ করে ঠিক কতটি সামরিক বিমান যুক্তরাষ্ট্র হারিয়েছে সে সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

গত মাসে মার্কিন বিমান বাহিনীর আরও পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখানে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো-

২ মার্চ : কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারের’ (নিজেদের মধ্যে ভুলবশত হামলা) ঘটনায় কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার আঘাতে আঘাতে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। তবে যুদ্ধবিমানগুলোর ছয়জন ক্রু নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এ সপ্তাহে জানিয়েছেন, ওই তিন যুদ্ধবিমানের পাইলটরা পুনরায় ইরানে বিমান হামলায় অংশ নিতে শুরু করেছেন।

১২ মার্চ : ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ জেট ট্যাঙ্কার বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন মার্কিন ক্রু নিহত হন। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, জ্বালানি সরবরাহকারী এই বিমানটি শত্রুপক্ষ বা নিজেদের কোনো হামলায় ভূপাতিত হয়নি; বরং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে অংশ নেওয়ার সময় অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের কবলে পড়েছিল। এ ঘটনায় অন্য বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

২৭ মার্চ : সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি (আকাশপথে সতর্ক সংকেত ও নিয়ন্ত্রণকারী বিমান) রানওয়েতে থাকা অবস্থায় ধ্বংস হয়। সিএনএন জানিয়েছে, ওই বিমান ঘাঁটিতে হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, তবে কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। সূত্র অনুযায়ী, একটি মার্কিন ট্যাঙ্কার বিমানও সেই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এছাড়া, গত মাসে একটি মার্কিন এফ-৩৫ ফাইটার জেট মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিমান ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, বিমানটি ইরানি হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সংসদ অধিবেশন চলাকালে আবারো মাইক ‘নষ্ট’

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

যুক্তরাষ্ট্রের আরও চারটি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করলো ইরান

আপডেট সময় ০৭:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) নতুন করে এই তালিকায় যোগ হয়েছে আরও দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ও দুটি হেলিকপ্টার। ইরানের সামরিক বাহিনীর সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এই খবর দিয়েছে।

আজ রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন উদ্ধার অভিযানের পর ইরানি বাহিনী দক্ষিণ ইস্পাহানে দুটি সি-১৩০ সামরিক বিমান এবং দুটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে।

এর আগে, গত শুক্রবার আলাদা দুটি ঘটনায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৫ এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া মার্কিন মানববাহী বিমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল সাতে। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। তবে আজকের ধ্বংস হওয়া বিমানের সংখ্যা যোগ করে ঠিক কতটি সামরিক বিমান যুক্তরাষ্ট্র হারিয়েছে সে সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

গত মাসে মার্কিন বিমান বাহিনীর আরও পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখানে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো-

২ মার্চ : কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারের’ (নিজেদের মধ্যে ভুলবশত হামলা) ঘটনায় কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার আঘাতে আঘাতে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। তবে যুদ্ধবিমানগুলোর ছয়জন ক্রু নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এ সপ্তাহে জানিয়েছেন, ওই তিন যুদ্ধবিমানের পাইলটরা পুনরায় ইরানে বিমান হামলায় অংশ নিতে শুরু করেছেন।

১২ মার্চ : ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ জেট ট্যাঙ্কার বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন মার্কিন ক্রু নিহত হন। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, জ্বালানি সরবরাহকারী এই বিমানটি শত্রুপক্ষ বা নিজেদের কোনো হামলায় ভূপাতিত হয়নি; বরং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে অংশ নেওয়ার সময় অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের কবলে পড়েছিল। এ ঘটনায় অন্য বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

২৭ মার্চ : সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি (আকাশপথে সতর্ক সংকেত ও নিয়ন্ত্রণকারী বিমান) রানওয়েতে থাকা অবস্থায় ধ্বংস হয়। সিএনএন জানিয়েছে, ওই বিমান ঘাঁটিতে হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, তবে কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। সূত্র অনুযায়ী, একটি মার্কিন ট্যাঙ্কার বিমানও সেই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এছাড়া, গত মাসে একটি মার্কিন এফ-৩৫ ফাইটার জেট মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিমান ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, বিমানটি ইরানি হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।