বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্কের এক টালমাটাল অধ্যায়ের নেপথ্য কাহিনি অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে। চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের অনুপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই সিদ্ধান্তের পেছনের বহুমাত্রিক কারণ।
নিরাপত্তা সংকটের অজুহাতে বিশ্বকাপ বর্জনের পেছনে যে কেবল একটি কারণ কাজ করেনি, তা স্পষ্ট করেছে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা সম্পর্কিত মতবিরোধ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) গভর্ন্যান্স নিয়ে দ্বন্দ্ব, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থ আলোচনা—এই পাঁচটি বিষয় মিলিতভাবে বাংলাদেশকে ভারত-বিমুখ করে তোলে।
উল্লেখ্য, প্রায় দেড়মাসের দৌড়ঝাঁপের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচ স্থানান্তরের যে দাবি তুলেছিল, তাতে সাড়া দেয়নি আইসিসি। ফলে কঠোর অবস্থানে যায় বিসিবি—ভারতে কোনোভাবেই খেলতে যাবে না টাইগাররা। শেষমেশ বাংলাদেশের শূন্যস্থান পূরণ করতে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানায় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
তদন্ত কমিটির প্রভাব-বিশ্লেষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তিনটি বিষয়—বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভেন্যু পরিবর্তনে আইসিসির অনড় অবস্থান এবং বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ। এই তিনটিকেই “অত্যন্ত উচ্চ প্রভাব” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। পাশাপাশি বিসিবির ব্যর্থ মধ্যস্থতাকে “উচ্চ প্রভাব” এবং দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ-বিচ্ছিন্নতাকে “মাঝারি প্রভাব” হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
ক্রীড়াঙ্গনের পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রতিবেদন কেবল একটি বিশ্বকাপ বর্জনের ব্যাখ্যা নয়, বরং ক্রিকেট কূটনীতিতে রাজনীতির ছায়া কতটা দীর্ঘ হতে পারে, তারই এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।
সম্পা সুত্রধর,ঢাকা 




















