ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হেরে শেষ বাংলাদেশের মিশন

বাংলাদেশের চেয়ে শক্তি-সামর্থ্য কিংবা র‌্যাঙ্কিয়ে বেশ এগিয়ে সিঙ্গাপুর। ‘সি’ গ্রুপ থেকে এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করা দলটিও তারাই। তবে সেসব হিসাব-নিকাশ পেছনে ফেলে দারুণ ফুটবল খেলল বাংলাদেশ। সুযোগ তৈরি করেছিল গোলেরও। কিন্তু একজন ফিনিশারের অভাবে শেষটা সুন্দর হলো না লাল-সবুজের। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হেরেই শেষ হলো এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মিশন।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে সিঙ্গাপুরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ১-০ গোলে হেরেই দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

ম্যাচের শুরুটা বেশ ভালো করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে দুটি সুযোগ তৈরি করেছিল হামজা চৌধুরী-শমিত সোমরা। তবুও সিঙ্গাপুরের জাল খুঁজে পাননি তারা।

ম্যাচের ১৪তম মিনিটে সেরা সুযোগটা পায় বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে দারুণ ওয়ান-টু খেলার পর সাদ উদ্দিন বক্সে চমৎকার এক ক্রস পাঠান। সেখানে থাকা শমিত সোমের হেড চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।

প্রতিআক্রমণ শুরু করে সিঙ্গাপুরও। ২০তম মিনিটে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন গোলরক্ষ মিতুল মারমা। ডি-বক্সের মাথায় ইকসান ফান্দির নেওয়া জোড়ালো শট নিজের শরীর দিয়ে রুখে দেন মিতুল।

তবে ৩১তম মিনিটে আর রক্ষা করতে পারেননি মিতুল। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে প্রতিআক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। কুয়েহর নেওয়া জোরালো শট মিতুল ঠেকিয়ে দিলেও বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বল চলে যায় ইখসান ফান্দির পায়ে। তিনি পাস দেন হারিস স্টুয়ার্টের দিকে। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন স্টুয়ার্ট।

৩৮তম মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করে বাংলাদেশ। মোরসালিনের নেওয়া শট আটকে দেন বাহারুদিন। ফিরতি বলে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম শট নিতে গেলে ডি-বক্সের ভেতর সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডারের বাধায় পড়ে যান তিনি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণ হানে সিঙ্গাপুরের রক্ষণে। তবে একজন ফিনিশারের অভাব হারে হারে টের পেয়েছে বাংলাদেশ। বারবার ফিরে আসতে হয়েছে গোলমুখ থেকে।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে বাংলাদেশের সমতায় ফেরার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি শেষ হয় গোলবারের বাধায়। ডানপ্রান্ত থেকে পেনাল্টি এরিয়ায় দারুণ ক্রস বাড়ান হামজা চৌধুরী। বল খুঁজে নেয় মিরাজুলকে, কিন্তু তার নেওয়া প্রথম শটটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।

দুই মিনিট পরই আবারও সিঙ্গাপুরের বক্সের মধ্যে বল পায় বাংলাদেশ। লম্বা থ্রোতে ৬ গজ বক্সের মধ্যে বল পায় বাংলাদেশ। কিন্তু জটলার মধ্যে বল বাংলাদেশের দুই-তিনজন ফুটবলারের পা স্পর্শ করলেও শট নেওয়া হয়নি।

ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে প্রায় দ্বিতীয় গোল হজম করে বসেছিল বাংলাদেশ। একক নৈপূণ্যে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মিতুল। বাংলাদেশের ডিফেন্স লাইন ভেদ করে একা বল নিয়ে বক্সের সামনে চলে যান স্টুয়ার্ট। বক্সের বাইরে চলে এসে স্টুয়াটের নেওয়া শট আটকে দেন মিতুল।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বক্সের সামনে দুজনকে কাটিয়ে ক্রস বাড়িয়েছিলেন বদলি নামা শাহরিয়ার ইমন। বল খুঁজে নিয়েছিল মিরাজুলকে। কিন্তু তার দুর্বল প্লেসিং শট সহজেই আটকে দেন সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হেরে শেষ বাংলাদেশের মিশন

আপডেট সময় ০৮:২২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের চেয়ে শক্তি-সামর্থ্য কিংবা র‌্যাঙ্কিয়ে বেশ এগিয়ে সিঙ্গাপুর। ‘সি’ গ্রুপ থেকে এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করা দলটিও তারাই। তবে সেসব হিসাব-নিকাশ পেছনে ফেলে দারুণ ফুটবল খেলল বাংলাদেশ। সুযোগ তৈরি করেছিল গোলেরও। কিন্তু একজন ফিনিশারের অভাবে শেষটা সুন্দর হলো না লাল-সবুজের। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হেরেই শেষ হলো এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মিশন।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে সিঙ্গাপুরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ১-০ গোলে হেরেই দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

ম্যাচের শুরুটা বেশ ভালো করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে দুটি সুযোগ তৈরি করেছিল হামজা চৌধুরী-শমিত সোমরা। তবুও সিঙ্গাপুরের জাল খুঁজে পাননি তারা।

ম্যাচের ১৪তম মিনিটে সেরা সুযোগটা পায় বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে দারুণ ওয়ান-টু খেলার পর সাদ উদ্দিন বক্সে চমৎকার এক ক্রস পাঠান। সেখানে থাকা শমিত সোমের হেড চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।

প্রতিআক্রমণ শুরু করে সিঙ্গাপুরও। ২০তম মিনিটে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন গোলরক্ষ মিতুল মারমা। ডি-বক্সের মাথায় ইকসান ফান্দির নেওয়া জোড়ালো শট নিজের শরীর দিয়ে রুখে দেন মিতুল।

তবে ৩১তম মিনিটে আর রক্ষা করতে পারেননি মিতুল। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে প্রতিআক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। কুয়েহর নেওয়া জোরালো শট মিতুল ঠেকিয়ে দিলেও বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বল চলে যায় ইখসান ফান্দির পায়ে। তিনি পাস দেন হারিস স্টুয়ার্টের দিকে। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন স্টুয়ার্ট।

৩৮তম মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করে বাংলাদেশ। মোরসালিনের নেওয়া শট আটকে দেন বাহারুদিন। ফিরতি বলে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম শট নিতে গেলে ডি-বক্সের ভেতর সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডারের বাধায় পড়ে যান তিনি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণ হানে সিঙ্গাপুরের রক্ষণে। তবে একজন ফিনিশারের অভাব হারে হারে টের পেয়েছে বাংলাদেশ। বারবার ফিরে আসতে হয়েছে গোলমুখ থেকে।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে বাংলাদেশের সমতায় ফেরার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি শেষ হয় গোলবারের বাধায়। ডানপ্রান্ত থেকে পেনাল্টি এরিয়ায় দারুণ ক্রস বাড়ান হামজা চৌধুরী। বল খুঁজে নেয় মিরাজুলকে, কিন্তু তার নেওয়া প্রথম শটটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।

দুই মিনিট পরই আবারও সিঙ্গাপুরের বক্সের মধ্যে বল পায় বাংলাদেশ। লম্বা থ্রোতে ৬ গজ বক্সের মধ্যে বল পায় বাংলাদেশ। কিন্তু জটলার মধ্যে বল বাংলাদেশের দুই-তিনজন ফুটবলারের পা স্পর্শ করলেও শট নেওয়া হয়নি।

ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে প্রায় দ্বিতীয় গোল হজম করে বসেছিল বাংলাদেশ। একক নৈপূণ্যে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মিতুল। বাংলাদেশের ডিফেন্স লাইন ভেদ করে একা বল নিয়ে বক্সের সামনে চলে যান স্টুয়ার্ট। বক্সের বাইরে চলে এসে স্টুয়াটের নেওয়া শট আটকে দেন মিতুল।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বক্সের সামনে দুজনকে কাটিয়ে ক্রস বাড়িয়েছিলেন বদলি নামা শাহরিয়ার ইমন। বল খুঁজে নিয়েছিল মিরাজুলকে। কিন্তু তার দুর্বল প্লেসিং শট সহজেই আটকে দেন সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক।