ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

সব ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সুখী ও সমৃদ্ধ ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সব ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের সাফল্য কামনা করেন।

ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল এ সাক্ষাতে অংশ নেয়।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে সমানভাবে দেখি ও ভালোবাসি। আমরা বিশ্বাস করি— ধর্ম যার যার, দেশ সবার। তিনি আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সুখী, সমৃদ্ধ একটি বেটার বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় ধারণা ছিল অন্য ধর্মাবলম্বীরা বিএনপিকে ভোট দেয় না। এবারের নির্বাচনে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সব ধর্মের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাত ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। মনে হয়েছে যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের দায়িত্ব নিয়েছি।

এ সময় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব উল্লেখ করে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথাও জানান তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈ ও ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের প্রতিনিধি খ্রীস্টেফার অধিকারী। তারা সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রশংসা করেন।

এ সময় জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে খ্রিষ্টান নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা ও ইস্টার সানডে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেতারা বলেন, তার জন্য দেশের সাত হাজার চার্চে প্রার্থনা করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের জন্যও প্রতিদিন প্রার্থনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন। শেষে ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সংসদ অধিবেশন চলাকালে আবারো মাইক ‘নষ্ট’

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সব ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:১০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

সুখী ও সমৃদ্ধ ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সব ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের সাফল্য কামনা করেন।

ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল এ সাক্ষাতে অংশ নেয়।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে সমানভাবে দেখি ও ভালোবাসি। আমরা বিশ্বাস করি— ধর্ম যার যার, দেশ সবার। তিনি আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সুখী, সমৃদ্ধ একটি বেটার বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় ধারণা ছিল অন্য ধর্মাবলম্বীরা বিএনপিকে ভোট দেয় না। এবারের নির্বাচনে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সব ধর্মের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাত ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। মনে হয়েছে যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের দায়িত্ব নিয়েছি।

এ সময় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব উল্লেখ করে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথাও জানান তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈ ও ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের প্রতিনিধি খ্রীস্টেফার অধিকারী। তারা সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রশংসা করেন।

এ সময় জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে খ্রিষ্টান নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা ও ইস্টার সানডে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেতারা বলেন, তার জন্য দেশের সাত হাজার চার্চে প্রার্থনা করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের জন্যও প্রতিদিন প্রার্থনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন। শেষে ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।