নির্বাচিত সরকারই সব সমস্যার সমাধান করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্দোলন হয়েছে, সরকার পতন হয়েছে। আমাদেরকে এখন দেশ গঠন করতে হবে। গত ১৫ বছর আমি-ডামি নির্বাচন হয়েছে। আগামী দিনে গণতান্ত্রিকভাবে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন হলে দেশে ও এলাকার উন্নয়ন হবে। এলাকা ও দেশের উন্নয়নে ভোট দিয়ে নির্বাচিত সরকার গঠন করতে হবে। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, ইউনিয়ন পরিষদসহ সব নির্বাচনে ভোট দিয়ে নির্বাচিত সরকার গঠন করতে হবে। তাহলে আপনারা নিজেদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলতে পারবেন।
আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা-১৭ আসনে নিজ নির্বাচনি এলাকা রাজধানীর ভাষানটেক বিআরপি মাঠে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। সমাবেশে অংশ নেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ নির্বাচনি সমাবেশের আয়োজন করে ভাষানটেক থানা বিএনপি।
বক্তব্যের শুরুতেই এলকার ভোটার এক ভ্যানচালক, শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনকে মঞ্চে ডেকে কথা বলেন তারেক রহমান। তাদের দাবি অনুযায়ী, ভাষানটেকে বস্তিবাসী পুনর্বাসন চান। এলাকাবাসীও এতে সবাই একমত পোষণ করেন।
তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছেন, ততবার দেশের উন্নয়ন হয়েছে। আমি ধানের শীষের জন্য ভোট চাচ্ছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ধানের শীষকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে এই বার্তা পৌঁছে দেবেন।
এলাকার মানুষের দাবি অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পেলে হলে বিএনপির প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে হবে। সারা বাংলাদেশে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। আগে এলাকার সমস্যা আমি নিজের মতো করে জেনেছি, আজকে আপনাদের কাছ থেকে জেনেছি। আগামী দিনে আমি বিজয়ী হলে, বিএনপি সরকার গঠন করলে সমস্যার সমাধান করব। বস্তিবাসীকে পুনর্বাসন করব, ইনশাল্লাহ।
তারেক রহমান বলেন, আমি পেছেনে যেতে চাই না এক বোন বলে গেল। গত ১৫ বছর কী হয়েছে! দেশের মানুষ কর্মসংস্থান চায়। ছেলে হোক মেয়ে হোক কর্মসংস্থান চায়। আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে চাই, যেন তারা বিদেশে গিয়েও কাজ করতে পারেন।
এ ছাড়া বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আল্লাহ কাছে শোকর, আমি বনানী ডিওএসএইচের বাসিন্দা। এমন একটি আসনের ভোটার, আমি যাকে ভোট দেব, তিনি আল্লাহ রহমতে প্রধানমন্ত্রী হবেন।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে থেকেও দেশকে ভালোবেসেন, আমরা কেন তাকে ভালোবাসব না। নারীদের সুযোগ দেওয়া নিয়ে পরিকল্পনা করছেন, সবার আগে বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র কোনো শিক্ষানবিশের কাছে দেওয়া যায় না। এবার যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি ছাড়া কেউ অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিল না। বিধ্বস্ত অর্থনীতির একটি দেশকে পরিচালনা করার সবচেয়ে যোগ্য নেতা হচ্ছেন তারেক রহমান।
ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদির মাহমুদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দীন আলম, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দীন জুয়েল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, জাগপা নেতা খন্দকার লুৎফর রহমান বক্তব্য দেন।
ঢাকা-১৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, ছাত্রদল পশ্চিমের সভাপতি রবিন খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। প্রথমদিন সাত জেলায় সমাবেশ বক্তব্য দেন। আগামী রোববার চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। সূত্র: এনটিভি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















