ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোংলায় প্রভাবশালী আওয়ামী নেতার ইশারায় মাহে আলম হত্যাকান্ড ধামাচাপা

প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার ইশারায় মোংলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা মাহে আলম হত্যাকান্ডটি ধামাচাপা পড়েছে। ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল মোংলার পৌর মৎস্যজীবী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহে আলমকে অপহরণ, পরিকল্পিত ভাবে খুন এবং লাশ গুম করে ফেলা হয়। ১৩ এপ্রিল ২০২৩ সুন্দরবনের করমজলে গুম করা লাশের সন্ধান পাওয়া গেলেও পরিকল্পিত ভূয়া সুরতহাল রিপোর্ট এবং ব্যবসায়ী মুসলিম মাহে আলমের (৬৫) লাশ খ্রিষ্টান হিলটন নাথ (২২) হিসেবে দাফন করা হয়।

তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী ব্যক্তির নির্দেশে থানায় মামলা না নিয়ে ভূয়া পোস্ট মর্টেম’র মাধ্যমে বিএনপি নেতা মাহে আলম হত্যাকান্ড ধামচাপা দেয়া হয়। আশা করি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবসায়ী মাহে আলম হত্যাকান্ডের খুনিদের গ্রেফতার, দ্রুত মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আসামিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাবে। ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকালে মোংলাপোর্ট পৌরসভা চত্বরে সচেতন নাগরিক সমাজ মোংলা এবং মাহে  আলম’র স্বজনদের আয়োজনে মানববন্ধনে বক্তারা একথা বলেন।

শুক্রবার সকাল ১১টায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক মোংলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূর আলম শেখ। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক,পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক  মোঃ নাসির তালুকদার, গোলাম নূর জনি, মাহে আলমের ছোট ভাই মোঃ জসিম উদ্দিন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও সাবেক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খোরশেদ আলম, সাবেক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক  শাহাজান ফকির, বিএনপি নেতা বাবুল হোসেন রনি, , সাবেক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক  বাবলু ভূইয়া, জেলা ছাত্রদল ও জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য জিয়াউর রহমান হিরণ,পৌর  স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নুর উদ্দিন টুটুল,যুবদল নেতা মহসিন পাটোয়ারী  , মাহে আলমের ছোট ছেলে সুমন রানা ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন কোর্টের নির্দেশে থানা মামলা নিতে হলে বাধ্য হলেও মামলাটি এখন পিবিআই তদন্ত করছে। দীর্ঘদিন পার হলেও মামলা তদন্ত রিপোর্ট দিতে পিবিআই পুলিশ গড়িমশি করছে। মানববন্ধনে মাহে আলমের ছেলে এবং মামলার বাদীন সুমন রানা বলেন ব্যবসায়ী মাহে আলমকে অপহরণ, খুন এবং লাশ গুমের সাথে যুক্ত চিলার বনদস্যু বিল্লাল সর্দার এবং তার ভাইপো বেলায়েত সর্দারকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। প্রতারণার মাধ্যমে পরিকল্পিত ভাবে দাকোপ থানা থেকে আমার বাবা মাহে আলমের লাশকে হিলটন নাথ এর লাশ হিসেবে গ্রহণ এবং চিলায় দাফন করেছিলো বনদস্যু বিল্লাল সর্দার ও বেলায়েত সর্দার। অবিলম্বে বনদস্যু বিল্লাল সর্দার ও তার ভাইপো বেলায়েত সর্দারকে আসামি হিসেবে গ্রেফতার করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক মোংলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূর আলম শেখ ব্যবসায়ী মাহে আলম হত্যাকান্ড মামলার প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার, দ্রুত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ এবং বিচারের দাবি জানান।

উল্লেখ্য ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল মোংলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহে আলমকে অপহরণের মাধ্যমে সুন্দরবনে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়। ১৩ এপ্রিল সুন্দরবনের করমজল থেকে মাহে আলমের লাশ উদ্ধার এবং ভূয়া সুরতহাল ও পোষ্ট মর্টেম করিয়ে ১৪ এপ্রিল চিলার হিলটন নাথ হিসেবে মিথ্যা পরিচয়ে লাশ দাফন করা হয়। পরবর্তীতে মাহে আলম এর ছেলে সুমন রানা’র আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশের ডিএনএ টেষ্ট করিয়ে ৭ মাস পর চিলা গ্রাম থেকে মাহে আলমে লাশ উত্তোলনের মাধ্যমে ইসলামী রীতি অনুযায়ি মোংলা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকায় রাণীশংকৈলের তরুণকে গুলি করে হত্যা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মোংলায় প্রভাবশালী আওয়ামী নেতার ইশারায় মাহে আলম হত্যাকান্ড ধামাচাপা

আপডেট সময় ০৫:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার ইশারায় মোংলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা মাহে আলম হত্যাকান্ডটি ধামাচাপা পড়েছে। ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল মোংলার পৌর মৎস্যজীবী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহে আলমকে অপহরণ, পরিকল্পিত ভাবে খুন এবং লাশ গুম করে ফেলা হয়। ১৩ এপ্রিল ২০২৩ সুন্দরবনের করমজলে গুম করা লাশের সন্ধান পাওয়া গেলেও পরিকল্পিত ভূয়া সুরতহাল রিপোর্ট এবং ব্যবসায়ী মুসলিম মাহে আলমের (৬৫) লাশ খ্রিষ্টান হিলটন নাথ (২২) হিসেবে দাফন করা হয়।

তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী ব্যক্তির নির্দেশে থানায় মামলা না নিয়ে ভূয়া পোস্ট মর্টেম’র মাধ্যমে বিএনপি নেতা মাহে আলম হত্যাকান্ড ধামচাপা দেয়া হয়। আশা করি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবসায়ী মাহে আলম হত্যাকান্ডের খুনিদের গ্রেফতার, দ্রুত মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আসামিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাবে। ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকালে মোংলাপোর্ট পৌরসভা চত্বরে সচেতন নাগরিক সমাজ মোংলা এবং মাহে  আলম’র স্বজনদের আয়োজনে মানববন্ধনে বক্তারা একথা বলেন।

শুক্রবার সকাল ১১টায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক মোংলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূর আলম শেখ। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক,পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক  মোঃ নাসির তালুকদার, গোলাম নূর জনি, মাহে আলমের ছোট ভাই মোঃ জসিম উদ্দিন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও সাবেক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খোরশেদ আলম, সাবেক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক  শাহাজান ফকির, বিএনপি নেতা বাবুল হোসেন রনি, , সাবেক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক  বাবলু ভূইয়া, জেলা ছাত্রদল ও জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য জিয়াউর রহমান হিরণ,পৌর  স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নুর উদ্দিন টুটুল,যুবদল নেতা মহসিন পাটোয়ারী  , মাহে আলমের ছোট ছেলে সুমন রানা ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন কোর্টের নির্দেশে থানা মামলা নিতে হলে বাধ্য হলেও মামলাটি এখন পিবিআই তদন্ত করছে। দীর্ঘদিন পার হলেও মামলা তদন্ত রিপোর্ট দিতে পিবিআই পুলিশ গড়িমশি করছে। মানববন্ধনে মাহে আলমের ছেলে এবং মামলার বাদীন সুমন রানা বলেন ব্যবসায়ী মাহে আলমকে অপহরণ, খুন এবং লাশ গুমের সাথে যুক্ত চিলার বনদস্যু বিল্লাল সর্দার এবং তার ভাইপো বেলায়েত সর্দারকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। প্রতারণার মাধ্যমে পরিকল্পিত ভাবে দাকোপ থানা থেকে আমার বাবা মাহে আলমের লাশকে হিলটন নাথ এর লাশ হিসেবে গ্রহণ এবং চিলায় দাফন করেছিলো বনদস্যু বিল্লাল সর্দার ও বেলায়েত সর্দার। অবিলম্বে বনদস্যু বিল্লাল সর্দার ও তার ভাইপো বেলায়েত সর্দারকে আসামি হিসেবে গ্রেফতার করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক মোংলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূর আলম শেখ ব্যবসায়ী মাহে আলম হত্যাকান্ড মামলার প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার, দ্রুত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ এবং বিচারের দাবি জানান।

উল্লেখ্য ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল মোংলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহে আলমকে অপহরণের মাধ্যমে সুন্দরবনে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়। ১৩ এপ্রিল সুন্দরবনের করমজল থেকে মাহে আলমের লাশ উদ্ধার এবং ভূয়া সুরতহাল ও পোষ্ট মর্টেম করিয়ে ১৪ এপ্রিল চিলার হিলটন নাথ হিসেবে মিথ্যা পরিচয়ে লাশ দাফন করা হয়। পরবর্তীতে মাহে আলম এর ছেলে সুমন রানা’র আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশের ডিএনএ টেষ্ট করিয়ে ৭ মাস পর চিলা গ্রাম থেকে মাহে আলমে লাশ উত্তোলনের মাধ্যমে ইসলামী রীতি অনুযায়ি মোংলা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।