ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

‎চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে স্থানীয় লোকজন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

‎আজ রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর এ সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হাটহাজারী উপজেলার হাটহাজারী পৌর এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে রোববার বিকেল ৩টা থেকে আগামীকাল (সোমবার) রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে।

‎এ সময়ে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ, সমাবেশ, অস্ত্র বহন, পাঁচজনের বেশি লোকের সমাবেশ ও যেকোনো ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জননিরাপত্তা বজায় রাখতে ও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর গেইটে সংঘর্ষ চলছিল। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ আরিফসহ বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

এর আগে, শনিবার (৩০ আগস্ট) দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে দারোয়ান কর্তৃক মারধরের জেরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হন। এদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকজনের শরীরে দেশীয় অস্ত্রের আঘাত ছিল।

ভুক্তভোগী দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বলেন, আমি প্রতিদিন সময়মতো বাসায় আসি। গত রাতেও ১২টার মধ্যে ফিরেছি। দারোয়ানকে দরজা খুলতে বললে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি হঠাৎ চড় মারেন। পরে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং লাথি মারেন।

চবির সিনিয়র মেডিকেল অফিসার মো. টিপু সুলতান বলেন, একদিনে এত শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় আমি আগে কখনও দেখিনি। গুরুতর আহত কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠাতে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, রাত পৌনে ১টার দিকে সহকারী প্রক্টররা পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গেলেও স্থানীয়দের আধিপত্যের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে পারেননি। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে।

ছাত্রদলের রাকসু কার্যালয় ভাঙচুর

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

আপডেট সময় ০৫:৪০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

‎চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে স্থানীয় লোকজন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

‎আজ রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর এ সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হাটহাজারী উপজেলার হাটহাজারী পৌর এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে রোববার বিকেল ৩টা থেকে আগামীকাল (সোমবার) রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে।

‎এ সময়ে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ, সমাবেশ, অস্ত্র বহন, পাঁচজনের বেশি লোকের সমাবেশ ও যেকোনো ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জননিরাপত্তা বজায় রাখতে ও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর গেইটে সংঘর্ষ চলছিল। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ আরিফসহ বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

এর আগে, শনিবার (৩০ আগস্ট) দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে দারোয়ান কর্তৃক মারধরের জেরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হন। এদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকজনের শরীরে দেশীয় অস্ত্রের আঘাত ছিল।

ভুক্তভোগী দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বলেন, আমি প্রতিদিন সময়মতো বাসায় আসি। গত রাতেও ১২টার মধ্যে ফিরেছি। দারোয়ানকে দরজা খুলতে বললে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি হঠাৎ চড় মারেন। পরে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং লাথি মারেন।

চবির সিনিয়র মেডিকেল অফিসার মো. টিপু সুলতান বলেন, একদিনে এত শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় আমি আগে কখনও দেখিনি। গুরুতর আহত কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠাতে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, রাত পৌনে ১টার দিকে সহকারী প্রক্টররা পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গেলেও স্থানীয়দের আধিপত্যের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে পারেননি। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে।

ছাত্রদলের রাকসু কার্যালয় ভাঙচুর